বাণী

ফাগুন-রাতের ফুলের নেশায় আগুন জ্বালায় জ্বলিতে আসে।
যে-দীপশিখায় পুড়িয়া মরে পতঙ্গ ঘোরে তাহারি পাশে।।
অথই দুখের পাথার-জলে, সুখের রাঙা কমল দোলে
কূলের পথিক হারায় দিশা দিবস নিশা তাহারি বাসে।।
সুখের আশায় মেশায় ওরা বুকের সুধায় চোখের সলিল
মণির মোহে জীবন-দহে বিষের ফণির গরল-শ্বাসে।
বুকের পিয়ায় পেয়ে হিয়ায় কাঁদে পথের পিয়া লাগি’
নিতুই নূতন স্বর্গ মাগি’ নিতুই নয়ন জলে ভাসে।।

বাণী

ফুলে ফুলে বন ফুলেলা।
ফুলের দোলা ফুলের মেলা
ফুল-তরঙ্গে ফুলের ভেলা।।
ফুলের ভাষা ভ্রমর কুঞ্জে
দোলন চাঁপার ঝুলন কুঞ্জে,
মুহু মুহু কুহরে কুহু
সহিতে না পারি ফুল-ঝামেলা।।

নাটক: ‘সাবিত্রী’

বাণী

ফুলমালিনী! এনেছ কি মালা।
এনেছ কি মালা, ভরি’, তনু-ডালা।।
এনেছ পসারিণী নয়ন-পাতে
প্রেমসুধা-রস মালারই সাথে,
অধরের অনুরাগ রাঙা-পেয়ালা।।
এনেছ প্রীতির মালতী বকুল,
রসে টলমল রূপের মুকুল।
গাঁথ পরান মম তব ফুলহারে
মালার বিনিময়ে লহ আমারে,
বৃথা না যায় শুভ লগ্ন নিরালা।।

বাণী

ফুটলো যেদিন ফাল্গুনে, হায়, প্রথম গোলাপ-কুঁড়ি
বিলাপ গেয়ে বুলবুলি মোর গেল কোথায় উড়ি।।
	কিসের আশায় গোলাপ বনে
	গাইতো সে গান আপন মনে,
লতার সনে পাতার সনে খেতো লুকোচুরি (হায়)
সেই লতাতে প্রথম প্রেমের ফুটলো মুকুল যবে
পালিয়ে গেল ভীরু পাখি অমনি নীরবে।
	বাসলে ভালো যে জন কাঁদে
	বাঁধবো তা'রে কোন সে ফাঁদে,
ফুল নিয়ে তাই অবসাদে বনের পথে ঘুরি (হায়)।।

বাণী

ফিরে নাহি এলে প্রিয় ফিরে এলো বরষা।
মুঞ্জরিল বনে বিরহিণী লতিকা —
আমারি আশালতা হ'লো না গো সরসা।।

বাণী

ফিরে ফিরে কেন তারই স্মৃতি
মোরে কাঁদায় নিতি যে ফিরিবে না আর।
ফিরায়েছি যা’য় কাঁদাইয়া হায়
সে কেন কাঁদায় মোরে বারেবার।।
তারই দেওয়া ফুলমালা, যারে দলিয়াছি পায়
সেই ছিন্নমালা কুড়ায়ে নিরালা আজি রাখি হিয়ায়।
বারে বারে ডাকি প্রিয় নাম ধ’রে তা’র।।
হানি’ অবহেলা যারে দিয়েছি বিদায়
আজি তারি স্মৃতি, সে কোথায় সে কোথায়।
জ্বালি’ নয়ন-প্রদীপ জাগি বাতায়নে
নিশি ভোর হয়ে যায় বৃথা জাগরণে
আজি স্বর্গ শূন্য মোর তারি বিহনে
কাঁদি আকাশ বাতাস মোর করে হাহাকার।।