গজল

  • পাষাণের ভাঙালে ঘুম

    বাণী

    	পাষাণের ভাঙালে ঘুম			কে তুমি সোনার ছোঁয়ায়,
    	গলিয়া সুরের তুষার			গীতি –নির্ঝর ব’য়ে যায়।।
    	উদাসী বিবাগী মন			যাচে আজ বাহুর বাঁধন,
    	কত জনমের কাঁদন			ও –পায়ে লুটাতে চায়।।
    ওগো	তোমার চরণ ছন্দে মোর		মুঞ্জরিল গানের মুকুল
    	তোমার বেণীর বন্ধে গো		মরিতে চায় সুরের বকুল
    	চম্‌কে ওঠে মোর গগন		ঐ হরিণ–চোখের চাওয়ায়।।
    
  • পিয়া পাপিয়া পিয়া বোলে

    বাণী

    পিয়া পাপিয়া পিয়া বোলে।
    ‘পিউ পিউ পিউ কাঁহা’ পাপিয়া পিয়া বোলে।।
    সে পিয়া পিয়া সুরে বাদল ঝুরে, নদী-তরঙ্গ দোলে।
    কূলে কূলে কুলু কুলু নদী-তরঙ্গ দোলে।
    ফুটিল দল মেলি’ কেতকী, বেলি, শিখী পেখম খোলে।
    দু’লে দু’লে দু’লে নেচে’ শিখী পেখম খোলে।।
    পিয়ায় যা’রা নাহি পেল হেথায়, তাহারা কি
    এসেছে ধরায় পুন হইয়া পাপিয়া পাখি?
    দেখিয়া ঘরে ঘরে তরুণীর কালো আঁখি
    ‘পিউ কাঁহা পিউ কাঁহা’ আজিও উঠিছে ডাকি’!
    পিয়া পাপিয়া পিয়া বোলে।।
    
  • প্রিয় এমন রাত যেন যায় না বৃথাই

    বাণী

    প্রিয় এমন রাত যেন যায় না বৃথাই
    পরি চাঁপা ফুলের শাড়ি খয়েরিটিপ,
    জাগি বাতায়নে জ্বালি আঁখি প্রদীপ,
    মালা চন্দন দিয়ে মোর থালা সাজাই।।
    তুমি আসিবে বলে সুদূর অতিথি
    জাগে চাঁদের তৃষা লয়ে কৃষ্ণা তিথি,
    কভু ঘরে আসিকভু বাহিরে চাই।।
    আজি আকাশে বাতাসে কানাকানি,
    জাগে বনে বনে নবফুলের বাণী,
    আজি আমার কথা যেন বলিতে পাই।।
    
  • প্রিয় যাই যাই ব’লো না

    বাণী

    প্রিয় যাই যাই ব’লো না, না না না
    আর ক’রো না ছলনা, না না না॥
    আজো মুকুলিকা মোর হিয়া মাঝে
    না-বলা কত কথা বাজে,
    অভিমানে লাজে বলা যে হ’ল না॥
    কেন শরমে বাধিল কে জানে
    আঁখি তুলিতে নারিনু আঁখি পানে।
    প্রথম প্রণয়-ভীরু কিশোরী
    যত অনুরাগ তত লাজে মরি,
    এত আশা সাধ চরণে দ’লো না॥
    
  • ফাগুন-রাতের ফুলের নেশায় আগুন জ্বালায়

    বাণী

    ফাগুন-রাতের ফুলের নেশায় আগুন জ্বালায় জ্বলিতে আসে।
    যে-দীপশিখায় পুড়িয়া মরে পতঙ্গ ঘোরে তাহারি পাশে।।
    অথই দুখের পাথার-জলে, সুখের রাঙা কমল দোলে
    কূলের পথিক হারায় দিশা দিবস নিশা তাহারি বাসে।।
    সুখের আশায় মেশায় ওরা বুকের সুধায় চোখের সলিল
    মণির মোহে জীবন-দহে বিষের ফণির গরল-শ্বাসে।
    বুকের পিয়ায় পেয়ে হিয়ায় কাঁদে পথের পিয়া লাগি’
    নিতুই নূতন স্বর্গ মাগি’ নিতুই নয়ন জলে ভাসে।।
    

  • ব'লো বঁধুয়ারে নিরজনে

    বাণী

    (সখি) ব'লো বঁধুয়ারে নিরজনে
    দেখা হ'লে রাতে ফুল-বনে।।
    কে করে ফুল চুরি জেনেছে ফুলমালী
    কে দেয় গহীন রাতে ফুলের কুলে কালি
    জেনেছে ফুলমালী গোপনে।।
    ও-পথে চোর-কাঁটা, সখি, তায় বলে দিও
    বেঁধে না বেঁধে না লো যেন তার উত্তরীয়।
    এ বনফুল লাগি' না আসে কাঁটা' দলি'
    আপনি যাব চলি' বঁধুয়ার কুঞ্জ-গলি
    বিনা মূলে বিকাইব ও-চরণে।।
    
  • বউ কথা কও বউ কথা কও

    বাণী

    বউ কথা কও, বউ কথা কও, কও কথা অভিমানিনী
    সেধে সেধে কেঁদে কেঁদে যাবে কত যামিনী।।
    সে কাঁদন শুনি হের নামিল নভে বাদল
    এলো পাতার বাতায়নে যুঁই চামেলী কামিনী।।
    আমার প্রাণের ভাষা শিখে ডাকে পাখি পিউ কাঁহা
    খোঁজে তোমায় মেঘে মেঘে আঁখি মোর সৌদামিনী।।
    
  • বকুল চাঁপার বনে কে মোর

    বাণী

    বকুল চাঁপার বনে কে মোর চাঁদের স্বপন জাগালে —
    অনুরাগের সোনার রঙে হৃদয়-গগন রাঙালে।।
    ঘুমিয়ে ছিলাম কুমুদ-কুঁড়ি বিজন ঝিলের নীল জলে
    পূর্ণ শশী তুমি আসি’ আমার সে ঘুম ভাঙালে।।
    হে মায়াবী তোমার ছোঁয়ায় সুন্দর আজ আমার তনু
    তোমার মায়া রচিল মোর বাদল মেঘে ইন্দ্র ধনু।
    		তোমার টানে হে দরদি
    		দোল খেয়ে যায় কাঁদন-নদী
    কূল হারা মোর ভালোবাসা আজকে কূলে লাগালে।।
    
  • বনে মোর ফুল-ঝরার বেলা

    বাণী

    বনে মোর ফুল-ঝরার বেলা, জাগিল একি চঞ্চলতা।(অবেলায়)
    এলো ঐ শুকনো ডালে ডালে কোন অতিথির ফুল-বারতা।।(এলো ঐ)
    বিদায়-নেওয়া কুহু সহসা এলো ফিরে,
    জোয়ার ওঠে দুলে, মরা নদীর তীরে,
    শীতের বনে বহে দখিনা হাওয়া ধীরে
    			জাগায়ে বিধুর মধুর ব্যথা।।(পরানে)
    রুদ্ধ বাতায়ন খুলে দে, চেয়ে দেখি
    হেনার মঞ্জরি আবার ফুটেছে কী?
    হারানো মানসী ফিরেছে লয়ে কি
    			গত বসন্তের বিহ্বলতা।।(পরানে)
    
  • বসিয়া নদী-কূলে এলোচুলে

    বাণী

    বসিয়া নদী-কূলে,এলোচুলে			কে উদাসিনী
    কে এলে, পথ ভুলে, এ অকূলে		বন-হরিণী।।
    কলসে জল ভরিয়া চায় করুণায়		কুল-বধূরা,
    কেঁদে যায় ফুলে, ফুলে, পদমূলে,		সাঁঝ-তটিনী।।
    দলিয়া কত ভাঙা-মন, ও চরণ,		করেছ রাঙা
    কাঁদায়ে কত না দিল, এলে নিখিল		মন-মোহিনী।।
    হারালি গোধূলি-লগন কবি,			কোন নদী কিনারে,
    একি সেই স্বপন-চাঁদ, পেতেছে ফাঁদ		প্রিয়ার সতিনী।।
    
  • বসিয়া বিজনে কেন একা মনে

    বাণী

    বসিয়া বিজনে		কেন একা মনে
    পানিয়া ভরণে		চলো লো গোরী
    চলো জলে চলো		কাঁদে বনতল
    ডাকে ছলছল		জল-লহরি।।
    দিবা চ’লে যায়		বলাকা-পাখায়
    বিহগের বুকে		বিহগী লুকায়।
    কেঁদে চখা-চাখি		মাগিছে বিদায়
    বারোয়াঁর সুরে		ঝুরে বাঁশরি।।
    ওগো বে-দরদি		ও রাঙা পায়ে
    মালা হয়ে কে গো		গেল জড়ায়ে।
    তব সাথে কবি		পড়িল দায়ে
    পায়ে রাখি তারে		না গলে পরি।।
    

  • বাগিচায় বুলবুলি তুই

    বাণী

    বাগিচায়		বুলবুলি তুই ফুল শাখাতে দিসনে আজি দোল
    আজো তার		ফুল কলিদের ঘুম টুটেনি তন্দ্রাতে বিলোল।।
    আজো হায়		রিক্ত শাখায় উত্তরী বায় ঝুরছে নিশি-দিন
    আসেনি		দখনে হাওয়া গজল গাওয়া মোমাছি বিভোল।।
    কবে সে		ফুল কুমারী ঘোমটা চিরি', আসবে বাহিরে (রে)
    শিশিরের		স্পর্শ-সুখে ভাঙবে রে ঘুম রাঙবে রে কপোল।
    ফাগুনের		মুকুল-জাগা দু'কূল ভাঙা আসবে ফুলেল বান
    কুঁড়িদের		ওষ্ঠ পুটে লুটবে হাসি ফুটবে গালে টোল।।
    কবি তুই		গন্ধে ভুলে ' ডুবলি জলে কূল পেলিনে আর
    ফুলে তোর		বুক ভ'রেছিস আজকে জলে ভররে আঁখির কোল।।
    
  • বিঁধে গেল তীর তেরছ তার চাহনি

    বাণী

    বিঁধে গেল তীর তেরছ তার চাহনি।
    বিঁধিল মরম-মূলে চাহিল যেমনি।।
    হৃদয় বনের নিষাদ সে নিঠুর
    তনু তার ফুলবন আঁখি তাহে ফণি।
    এলো যখন স্বপন-পরী উড়ায়ে আঁচল সোনালি,
    মোর ধেয়ান-লোক হতে যেন এলো রূপ ধরে রূপওয়ালী।
    দেহে তার চাঁদিনী-চন্দন মাখা, হায় চাহিল সে যেই
    তার চোখের ঐ তীর খেয়ে কেঁদে কহিল হৃদি;
    ওগো হেনে গেল তীর।।
    
  • ভুল করিলে বনমালী এসে বনে ফুল-ফোটাতে

    বাণী

    ভুল করিলে বনমালী এসে বনে ফুল-ফোটাতে।
    বুলবুলি সে ফুলও ফোটায় বন-মাতানোর সাথে সাথে।।
    		আঘাত দিলে, দিলে বেদন
    		রাঙাতে হায় পারলে না মন,
    প্রেমের কুঁড়ি ফুটলো না তাই, পড়লো ঝ’রে নিরাশাতে।।
    আমায় তুমি দেখলে নাকো, দেখলে আমার রূপের মেলা
    হায় রে দেহের শ্মশান-চারী, শব নিয়ে মোর করলে খেলা,
    শয়ন-সাথী হ’লে আমার, রইলে নাকো নয়ন-পাতে।।
    

    গজলের সুরে কৃষ্ঞপ্রেম

  • মদির আঁখির সুধায় সাকি ডুবাও আমার

    বাণী

    মদির আঁখির সুধায় সাকি		ডুবাও আমার এ তনু মন
    আজিকে তোমায় ও আমায়		বেদনার বাসর জাগরণ।
    মঙ্গালস ও আঁখি তব,			সাকি, দিল দোলা প্রাণে।।
    বাদল-ছাওয়া এ গুল-বাগিচায়	বুলবুল কাঁদে গজল গানে।।
    গোলাবী গুলের নেশা			ছিল মোর ফুলেল ফাগুনে।
    শুকায়ে গিয়াছে ফুলবন,		নাই গোলাব গুলিস্তানে।।
    শুনি, সাকি তোমার কাছে		ব্যথা ভোলার দারু আছে —
    হিয়া কোন অমিয়া যাচে		জান তুমি, খোদা জানে।।
    দুখের পশরা লয়ে			বিফল কাঁদিয়া বৃথা (সাকি)।
    সকলি গিয়াছে যখন			যাক ঈমান শ্যরাব পানে।।
    
  • মম প্রাণ নিয়ে নিঠুর খেল এ কি খেলা

    বাণী

    মম প্রাণ নিয়ে নিঠুর খেল এ কি খেলা (হায়)।
    ক্ষণে ভালোবাসা হায় ক্ষণে অবহেলা।।
    সকালে গাঁথিয়া মালা পায়ে দল বিকালে তায়।
    তেমনি দলিতে চাহ আমার পরান কি হায়।
    সহিতে পারি না আর এই হেলাফেলা।
    জলরূপী একি কোন্ মরীচিকা তুমি কি গো।
    ডেকে এনে মরুভুমে বধিবে এ বনমৃগ।
    বুঝিয়াছি কখন হায় ফুরায়েছে বেলা।।
    
  • মুসাফির মোছ্‌ রে আঁখি–জল

    বাণী

    মুছাফির! মোছ্ রে আঁখি-জল
    		ফিরে চল আপনারে নিয়া
    আপনি ফুটেছিল ফুল
    		গিয়াছে আপ্‌নি ঝরিয়া।।
    রে পাগল! একি দুরাশা,
    জলে তুই বাঁধ্‌বি রে বাসা!
    মেটে না হেথায় পিয়াসা
    		হেথা নাই তৃষা-দরিয়া।।
    বরষায় ফুটল না বকুল
    পউষে ফুট্‌বে কি সে ফুল (রে)
    এ পথে ঝরে সদা ভুল
    		নিরাশার কানন ভরিয়া।।
    রে কবি! কতই দেয়ালি
    জ্বালিলি তোর আলো জ্বালি’
    এলো না তোর বনমালী
    		আধাঁর আজ তোরই দুনিয়া।।
    

  • মোর ঘুমঘোরে এলে মনোহর

    বাণী

    মোর		ঘুমঘোরে এলে মনোহর নমো নম, নমো নম, নমো নম।
    		শ্রাবণ-মেঘে নাচে নটবর রমঝম, রমঝম, ঝমরম
    			(ঝমঝম, রমঝম, রমঝম)।।
    শিয়রে		বসি চুপি চুপি চুমিলে নয়ন
    মোর		বিকশিল আবেশে তনু নীপ-সম, নিরুপম, মনোরম।।
    মোর		ফুলবনে ছিল যত ফুল
    			ভরি ডালি দিনু ঢালি’ দেবতা মোর
    হায়		নিলে না সে ফুল, ছি ছি বেভুল,
    			নিলে তুলি’ খোঁপা খুলি’ কুসুম-ডোর।
    স্বপনে		কী যে কয়েছি তাই গিয়াছ চলি’
    জাগিয়া	কেঁদে ডাকি দেবতায় প্রিয়তম, প্রিয়তম, প্রিয়তম।।
    
  • যে ব্যথায় এ অন্তর-তল নিশিদিন উঠিছে দুলে

    বাণী

    যে ব্যথায় এ অন্তর-তল নিশিদিন উঠিছে দুলে'।
    তারি ঢেউ এ সঙ্গীতে মোর মুরছায় সুরের কূলে।।
    	ভালোবাসা তোমরা যারে
    	দু'দিনেই ভোলো গো তারে (হায়)
    শরতের সজল মেঘ-প্রায় কেঁদে যাও নিমেষে ভুলে।।
    	কঠিন পুরুষেরি মন
    	গলিয়া বহে গো যখন
    বহে সে নদীর মতন চিরদিন পাষাণ-মূলে।।
    আলোর লাগি' জাগে ফুল, নদী ধায় সাগরে যেমন,
    চকোর চায় চাঁদ, চাতক মেঘ, যারে চায় তায় চাহে এই রে মন।
    নিয়ে যায় সুদূর অমরায় পূজে তায় বাণী-দেউলে।।
    

  • যেতে নারি মদিনায় আমি হে প্রিয় নবী

    বাণী

    যেতে নারি মদিনায়, আমি নারি, হে প্রিয় নবী
    আমারই ধ্যানে এসো প্রাণে এসো আল-আরবি।।
    তপ্ত যে নিদারুণ আরবের সাহারা গো
    শীতল হৃদে মম রাখিব তোমারই ছবি।।
    ভালবাস যদি না মরুভূ ধূসর গো
    জ্বালায়ে, হৃদি মম করিব সাহারা গোবি।।
    হে প্রিয়তম, গোপনে তব তরে আমি কাঁদি
    তোমারে দিয়াছি মোর, দুনিয়া আখের সবই।।