গজল

  • দাঁড়ালে দুয়ারে মোর

    বাণী

    		দাঁড়ালে দুয়ারে মোর		কে তুমি ভিখারিনী।
    		গাহিয়া সজল চোখে		বেলা-শেষের রাগিণী॥
    		মিনতি-ভরা আঁখি			ওগো কে তুমি ঝড়ের পাখি
    (ওগো)	কি দিয়ে জুড়াই ব্যথা		কেমনে কোথায় রাখি
    		কোন্ প্রিয় নামে ডাকি’		মান ভাঙাব মানিনী॥
    		বুকে তোমায় রাখতে প্রিয়	চোখে আমার বারি ঝরে,
    (ওগো)	চোখে যদি রাখিতে চাই		বুকে উঠে ব্যথা ভ’রে।
    		যত দেখি তত হায়,		ওগো পিপাসা বাড়িয়া যায়
    		কে তুমি যাদুকরী			স্বপন-মরু-চারিণী॥
    
  • নতুন নেশার আমার এ মদ

    বাণী

    নতুন নেশার আমার এ মদ বল কি নাম দেবো এরে বঁধুয়া।
    গোপী চন্দন গন্ধ মুখে এর বরণ সোনার চাঁদ চুঁয়া।।
    	মধু হ'তে মিঠে পিয়ে আমার মদ
    	গোধূলি রং ধরে কাজল নীরদ,
    প্রিয়েরে প্রিয়তম করে এ মদ মম, চোখে লাগায় নভোনীল ছোঁওয়া।।
    	ঝিম্ হয়ে আসে সুখে জীবন ছেয়ে,
    	পান্‌সে জোছনাতে পান্‌সি চলে বেয়ে,
    মধুর এ মদ নববধূর চেয়ে আমার মিতালী এ মহুয়া।। 
    
  • নিশি ভোর হলো জাগিয়া পরান-পিয়া

    বাণী

    নিশি ভোর হলো জাগিয়া, পরান-পিয়া
    কাঁদে ‘পিউ কাহাঁ’ পাপিয়া, পরান-পিয়া।।
    	ভুলি’ বুলবুলি-সোহাগে
    	কত গুল্‌বদনী জাগে
    রাতি গুল্‌সনে যাপিয়া, পরান-পিয়া।।
    	জেগে রয়, জাগার সাথী
    	দূরে চাঁদ, শিয়রে বাতি
    কাঁদি ফুল-শয়ন পাতিয়া, পরান-পিয়া।।
    	গেয়ে গান চেয়ে কাহারে
    	জেগে র’স কবি এপারে
    দিলি দান কারে এ হিয়া, পরান-পিয়া।।
    
  • পথ চলিতে যদি চকিতে

    বাণী

    পথ চলিতে যদি চকিতে কভু দেখা হয়, পরান-প্রিয়!
    চাহিতে যেমন আগের দিনে তেমনি মদির চোখে চাহিও।।
    		যদি গো সেদিন চোখে আসে জল,
    		লুকাতে সে জল করিও না ছল,
    যে-প্রিয় নামে ডাকিতে মোরে সে-নাম ধরে বারেক ডাকিও।।
    		তোমার বঁধু পাশে (হায়) যদি রয়,
    		মোরও প্রিয় সে, করিও না ভয়,
    কহিব তা’রে, ‘আমার প্রিয়ারে আমারো অধিক ভালোবাসিও’।।‌
    		বিরহ-বিধুর মোরে হেরিয়া,
    		ব্যথা যদি পাও যাব সরিয়া,
    রব না হ’য়ে পথের কাঁটা, মাগিব এ বর মোরে ভুলিও।।
    

  • পাষাণের ভাঙালে ঘুম

    বাণী

    	পাষাণের ভাঙালে ঘুম			কে তুমি সোনার ছোঁয়ায়,
    	গলিয়া সুরের তুষার			গীতি –নির্ঝর ব’য়ে যায়।।
    	উদাসী বিবাগী মন			যাচে আজ বাহুর বাঁধন,
    	কত জনমের কাঁদন			ও –পায়ে লুটাতে চায়।।
    ওগো	তোমার চরণ ছন্দে মোর		মুঞ্জরিল গানের মুকুল
    	তোমার বেণীর বন্ধে গো		মরিতে চায় সুরের বকুল
    	চম্‌কে ওঠে মোর গগন		ঐ হরিণ–চোখের চাওয়ায়।।
    
  • প্রিয় যাই যাই ব’লো না

    বাণী

    প্রিয় যাই যাই ব’লো না, না না না
    আর ক’রো না ছলনা, না না না॥
    আজো মুকুলিকা মোর হিয়া মাঝে
    না-বলা কত কথা বাজে,
    অভিমানে লাজে বলা যে হ’ল না॥
    কেন শরমে বাধিল কে জানে
    আঁখি তুলিতে নারিনু আঁখি পানে।
    প্রথম প্রণয়-ভীরু কিশোরী
    যত অনুরাগ তত লাজে মরি,
    এত আশা সাধ চরণে দ’লো না॥
    
  • ব'লো বঁধুয়ারে নিরজনে

    বাণী

    (সখি) ব'লো বঁধুয়ারে নিরজনে
    দেখা হ'লে রাতে ফুল-বনে।।
    কে করে ফুল চুরি জেনেছে ফুলমালী
    কে দেয় গহীন রাতে ফুলের কুলে কালি
    জেনেছে ফুলমালী গোপনে।।
    ও-পথে চোর-কাঁটা, সখি, তায় বলে দিও
    বেঁধে না বেঁধে না লো যেন তার উত্তরীয়।
    এ বনফুল লাগি' না আসে কাঁটা' দলি'
    আপনি যাব চলি' বঁধুয়ার কুঞ্জ-গলি
    বিনা মূলে বিকাইব ও-চরণে।।
    
  • বকুল চাঁপার বনে কে মোর

    বাণী

    বকুল চাঁপার বনে কে মোর চাঁদের স্বপন জাগালে —
    অনুরাগের সোনার রঙে হৃদয়-গগন রাঙালে।।
    ঘুমিয়ে ছিলাম কুমুদ-কুঁড়ি বিজন ঝিলের নীল জলে
    পূর্ণ শশী তুমি আসি’ আমার সে ঘুম ভাঙালে।।
    হে মায়াবী তোমার ছোঁয়ায় সুন্দর আজ আমার তনু
    তোমার মায়া রচিল মোর বাদল মেঘে ইন্দ্র ধনু।
    		তোমার টানে হে দরদি
    		দোল খেয়ে যায় কাঁদন-নদী
    কূল হারা মোর ভালোবাসা আজকে কূলে লাগালে।।
    
  • বাগিচায় বুলবুলি তুই

    বাণী

    বাগিচায়		বুলবুলি তুই ফুল শাখাতে দিসনে আজি দোল
    আজো তার		ফুল কলিদের ঘুম টুটেনি তন্দ্রাতে বিলোল।।
    আজো হায়		রিক্ত শাখায় উত্তরী বায় ঝুরছে নিশি-দিন
    আসেনি		দখনে হাওয়া গজল গাওয়া মোমাছি বিভোল।।
    কবে সে		ফুল কুমারী ঘোমটা চিরি', আসবে বাহিরে (রে)
    শিশিরের		স্পর্শ-সুখে ভাঙবে রে ঘুম রাঙবে রে কপোল।
    ফাগুনের		মুকুল-জাগা দু'কূল ভাঙা আসবে ফুলেল বান
    কুঁড়িদের		ওষ্ঠ পুটে লুটবে হাসি ফুটবে গালে টোল।।
    কবি তুই		গন্ধে ভুলে ' ডুবলি জলে কূল পেলিনে আর
    ফুলে তোর		বুক ভ'রেছিস আজকে জলে ভররে আঁখির কোল।।
    
  • মোর ঘুমঘোরে এলে মনোহর

    বাণী

    মোর		ঘুমঘোরে এলে মনোহর নমো নম, নমো নম, নমো নম।
    		শ্রাবণ-মেঘে নাচে নটবর রমঝম, রমঝম, ঝমরম
    			(ঝমঝম, রমঝম, রমঝম)।।
    শিয়রে		বসি চুপি চুপি চুমিলে নয়ন
    মোর		বিকশিল আবেশে তনু নীপ-সম, নিরুপম, মনোরম।।
    মোর		ফুলবনে ছিল যত ফুল
    			ভরি ডালি দিনু ঢালি’ দেবতা মোর
    হায়		নিলে না সে ফুল, ছি ছি বেভুল,
    			নিলে তুলি’ খোঁপা খুলি’ কুসুম-ডোর।
    স্বপনে		কী যে কয়েছি তাই গিয়াছ চলি’
    জাগিয়া	কেঁদে ডাকি দেবতায় প্রিয়তম, প্রিয়তম, প্রিয়তম।।
    
  • রহি' রহি' কেন আজো সেই মুখ মনে পড়ে

    বাণী

    রহি' রহি' কেন আজো সেই মুখ মনে পড়ে।
    ভুলিতে তা'য় চাহি যত, তত স্মৃতি কেঁদে মরে।।
    দিয়েছি তাহারে বিদায় ভাসায়ে নয়ন-নীরে,
    সেই আঁখি-বারি আজো মোর নয়নে ঝরে।।
    হেনেছি যে অবহেলা পাষাণে বাঁধিয়া হিয়া,
    তারি ব্যথা পাষাণ সম রহিল বুকে চাপিয়া।
    সেই বসন্ত ও বরষা আসিবে গো ফিরে ফিরে,
    আসিবে না আর ফিরে অভিমানী মোর ঘরে।।
    
  • রুমুঝুম রুমুঝুম্ কে এলে নূপুর পায়

    বাণী

    রুমুঝুম রুমুঝুম্ কে এলে নূপুর পায়
    ফুটিল শাখে মুকুল ও রাঙা চরণ-ঘায়।।
    সে নাচে তটিনী-জল টলমল টলমল,
    বনের বেণী উতল ফুলদল মুরছায়।।
    বিজরি-জরীর আঁচল ঝলমল ঝলমল
    নামিল নভে বাদল ছলছল বেদনায়।
    তালীবন থৈ তাথৈ করতালি হানে ঐ, (হায় রে হায়)
    ‌‌‘কবি, তোর তমালী কই’ — শ্বসিছে পুবালি-বায়।।