কাহার্‌বা

  • বসিয়া নদী-কূলে এলোচুলে

    বাণী

    বসিয়া নদী-কূলে,এলোচুলে			কে উদাসিনী
    কে এলে, পথ ভুলে, এ অকূলে		বন-হরিণী।।
    কলসে জল ভরিয়া চায় করুণায়		কুল-বধূরা,
    কেঁদে যায় ফুলে, ফুলে, পদমূলে,		সাঁঝ-তটিনী।।
    দলিয়া কত ভাঙা-মন, ও চরণ,		করেছ রাঙা
    কাঁদায়ে কত না দিল, এলে নিখিল		মন-মোহিনী।।
    হারালি গোধূলি-লগন কবি,			কোন নদী কিনারে,
    একি সেই স্বপন-চাঁদ, পেতেছে ফাঁদ		প্রিয়ার সতিনী।।
    
  • বসিয়া বিজনে কেন একা মনে

    বাণী

    বসিয়া বিজনে		কেন একা মনে
    পানিয়া ভরণে		চলো লো গোরী
    চলো জলে চলো		কাঁদে বনতল
    ডাকে ছলছল		জল-লহরি।।
    দিবা চ’লে যায়		বলাকা-পাখায়
    বিহগের বুকে		বিহগী লুকায়।
    কেঁদে চখা-চাখি		মাগিছে বিদায়
    বারোয়াঁর সুরে		ঝুরে বাঁশরি।।
    ওগো বে-দরদি		ও রাঙা পায়ে
    মালা হয়ে কে গো		গেল জড়ায়ে।
    তব সাথে কবি		পড়িল দায়ে
    পায়ে রাখি তারে		না গলে পরি।।
    

  • বহিছে সাহারায় শোকেরই 'লু' হাওয়া

    বাণী

    বহিছে সাহারায় শোকেরই 'লু' হাওয়া
    দোলে অসীম আকাশ আকুল রোদনে।
    নূহের প্লাবন আসিল ফিরে যেন,
    ঘোর অশ্রু-শ্রাবণ ধারা ঝরে সঘনে।।
    'হায় হোসেনা' 'হায় হোসেনা' বলি'
    কাঁদে গিরি নদী, কাঁদে বনস্থলী
    কাঁদে পশু ও পাখী তরুলতার সনে।।
    ফকির বাদশাহ গরীব ওমরাহে
    কাঁদে তেমনি আজো তাঁরি মর্সিয়া গাহে,
    বিশ্বে যাবে মুছে মুছিবে না এ আঁসু,
    চিরকাল ঝরিবে কালের নয়নে।।
    সেই সে কারবালা সেই ফোরাত নদী
    কুল-মুসলিম-হৃদে গাহিছে নিরবধি,
    আসমান জমীন রহিবে যতদিন
    সবে কাঁদিবে এমনি আকুল কাঁদনে।।
    
  • বাগিচায় বুলবুলি তুই

    বাণী

    বাগিচায়		বুলবুলি তুই ফুল শাখাতে দিসনে আজি দোল
    আজো তার		ফুল কলিদের ঘুম টুটেনি তন্দ্রাতে বিলোল।।
    আজো হায়		রিক্ত শাখায় উত্তরী বায় ঝুরছে নিশি-দিন
    আসেনি		দখনে হাওয়া গজল গাওয়া মোমাছি বিভোল।।
    কবে সে		ফুল কুমারী ঘোমটা চিরি', আসবে বাহিরে (রে)
    শিশিরের		স্পর্শ-সুখে ভাঙবে রে ঘুম রাঙবে রে কপোল।
    ফাগুনের		মুকুল-জাগা দু'কূল ভাঙা আসবে ফুলেল বান
    কুঁড়িদের		ওষ্ঠ পুটে লুটবে হাসি ফুটবে গালে টোল।।
    কবি তুই		গন্ধে ভুলে ' ডুবলি জলে কূল পেলিনে আর
    ফুলে তোর		বুক ভ'রেছিস আজকে জলে ভররে আঁখির কোল।।
    
  • বাজল কি রে ভোরের সানাই

    বাণী

    বাজ্‌ল কি রে ভোরের সানাই নিদ্‌-মহলার আঁধার-পুরে
    শুন্‌ছি আজান গগন-তলে আঁধার-রাতের মিনার-চূড়ে।।
    সরাই-খানার্‌ যাত্রীরা কি
    ‘বন্ধু জাগো’ উঠ্‌ল হাঁকি’?
    নীড় ছেড়ে ঐ প্রভাত-পাখি
    			গুলিস্তানে চল্‌ল উড়ে’।।
    তীর্থ-পথিক্‌ দেশ-বিদেশের
    আর্‌ফাতে আজ জুট্‌ল কি ফের,
    ‘লা শরীক আল্লহু’ মন্ত্রের
    			নাম্‌ল কি বান পাহাড় ‘তূরে’।।
    আজকে আবার কা’বার পথে
    ভিড় জমেছে প্রভাত হ’তে,
    নামল কি ফের্ হাজার স্রোতে
    			‘হেরার’ জ্যোতি জগৎ জুড়ে।।
    আবার ‘খালেদ’ ‘তারেক’ ‘মুসা’
    আনল কি খুন-রঙিন ভূষা,
    আস্‌ল ছুটে’ হাসীন ঊষা
    			নও-বেলালের শিঁরিন সুরে।।
    
  • বাঁশি বাজাবে কবে আবার বাঁশরিওয়ালা

    বাণী

    বাঁশি বাজাবে কবে আবার বাঁশরিওয়ালা
    তব পথ চাহি ভারত-যশোদা কাঁদিছে নিরালা।।
    কৃষ্ণা-তিথির তিমির হারী; শ্রীকৃষ্ণ এসো, এসো, মুরারি
    ঘরে ঘরে আজ পুতনা ভীতি হানিছে কালা।।
    কংস-কারার ভাঙো ভাঙো দ্বার
    দেবকীর বুকের পাষাণ ভঅর নামাও নামাও
    যুগ যুগ সম্ভব পুর্ণাবতার!
    নিরানন্দ এ দেশ হাসুক আবার, আনন্দে হে নন্দলালা।।
    
  • বাঁশির কিশোর লুকায়ে হেরিছে

    বাণী

    বাঁশির কিশোর লুকায়ে হেরিছে একেলা।
    পিয়াল বনের পথে নিরালা সাঁঝের বেলা।
    হেলে দুলে চলে কে কাঁখে গাগরি,
    কাহার ঝিয়ারি, ও কাহার পিয়ারি ওই নবীনা নাগরি।।
    নূপুর মিনতি করে কাঁদিয়া কাঁদিয়া
    আমারে রাখিও চরণে বাঁধিয়া,
    পিয়া পিয়া ব'লে ডেকে ওঠে পাপিয়া।
    অঙ্গ জড়ায়ে দোলে আনন্দে ঘাগরি।।
    চাঁদের মুখে যেন চন্দন মাখিয়া
    কাজল কালো চোখের কলঙ্ক আঁকিয়া
    আকাশ সম ওরে রেখেছে ঢাকিয়া নীলাম্বরী।।
    

  • বাসনার সরসীতে ফুটিয়াছে ফুল

    বাণী

    বাসনার সরসীতে ফুটিয়াছে ফুল।
    মধু-লোভী মদালস এসো অলিকুল।।
    	ভোগের পাত্রে মধু
    	প্রাণ ভরে পিও বঁধু,
    আনন্দে হয় যদি হোক দিক ভুল।।
    

    রেকর্ড-নাটিকাঃ সুরথ উদ্ধার

  • বাহির দুয়ার মোর বন্ধ হে প্রিয়

    বাণী

    বাহির দুয়ার মোর বন্ধ হে প্রিয় মনের দুয়ার আছে খোলা,
    সেই পথে এসো হে মোর চিত-চোর — হে দেবতা পথ ভোলা।।
    	সেথা নাহি কুল লাজ কলঙ্ক ভয়,
    	নাহি গুরুজন গঞ্জনা নিরদয়;
    তাই গোপন মানস তমাল কুঞ্জে (আমি) বাঁধিয়াছি ঝুলন দোলা।।
    মোর অন্তরে বহে সদা অন্তঃসলিলা অশ্রু-নদী —
    সেই যমুনার তীরে কর তুমি লীলা নিরবধি ।
    	সে মিলন-মন্দিরে জাগাবে না কেহ,
    	তব দেহে বিলীন হবে মোর দেহ;
    অনন্ত বাসর-শয্যা রচিয়া অনন্ত মিলনে রহিব উতলা।।
    
  • বিজন গোঠে কে রাখাল বাজায় বেণু

    বাণী

    	বিজন গোঠে কে রাখাল বাজায় বেণু
    আমি	সুর শুনে তা'র বাউল হয়ে এনু (গো)।।
    	ঐ সুরে পড়ে মনে কোন সুদুর বৃন্দাবনে
    যেত	নন্দ-দুলাল ব্রজ-গোপাল বাজিয়ে বেণু বনে
    পথে	লুটতো কেঁদে গোপাবালা, ভূরতো তৃণ-ধেণু গো
    		কেঁদে ভুলতো তৃণ-ধেণু।।
    কবে	নদীয়াতে গোরা
    ও ভাই	ডেকেছিল এমনি সুরে এমনি পাগল-করা।
    কেঁদে	ডাকতো বৃথাই শচীমাতা, সাধতো বসুন্ধরা,
    প্রেমে	গ'লে যত নর-নারী যাচতো পদ-বেণু গো
    		তারা যাচতো পদ-রেণু।।
    
  • বিদেশী তরী এলো কোথা হ’তে

    বাণী

    বিদেশী তরী এলো কোথা হ’তে
    প্রভাত-ঘাটে, আলোর স্রোতে।।
    অসীম বিরহ-রাতের শেষে
    কে এলো কিশোর-নাইয়ার বেশে,
    বাঁশরি বাজায়ে দুয়ারে এসে —
    	ডাকে হেসে অকূল-পথে।।
    অঙ্গনে এলা শুভ দিনের আলো,
    বুঝি মোর নিরাশার শর্বরী গো পোহালো।
    আশাবরি সুরে বেণুকা বাজে
    চির-চাওয়া এলো অভিসারে-সাজে,
    	পূর্বাচলের ঘাটে অরুণ-রথে।।
    
  • বিধুর তব অধর-কোণে মধুর হাসির রেখা

    বাণী

    বিধুর তব অধর-কোণে মধুর হাসির রেখা।
    তারি লাগি' ভিখারি মন ফেরে একা একা।।
    সজাগ হয়ে আছে শ্রবণ, থির হয়েছে অধীর পবন।
    তুমি কথা কইবে কখন গাইবে কুহু কেকা।।
    কখন তুমি চাইবে, প্রিয়া, সলাজ অনুরাগে।
    তিমির-তীরে অরুণ ঊষা তারি আশায় জাগে।
    কেমন ক'রে চাঁদ যে টানে — সিন্ধু জানে, জোয়ার জানে —
    দেখিতে আসি, আসিনিকো দিতে তোমায় দেখা।।
    

    নাটক: ‌‘চক্রব্যূহ’

  • বিরহের অশ্রু সায়রে বেদনার শতদল

    বাণী

    বিরহের অশ্রু সায়রে বেদনার শতদল
    উদাসী অশান্ত বায়ে টলে টলমল টলমল।।
    	তব রাঙা পদতলে, প্রিয়
    	এই শতদলে রাখিয়ো,
    বাজাইও মধুকর বীণা অনুরাগ-চঞ্চল।।
    ঝড় এলো, এলো এলায়ে মেঘের কুন্তল
    তুমি কোথায়, হায়, নিরাশায় ঝরে কমল-দল।
    	কেমনে কাটে তব বেলা
    	কোথা কোন লোকে একেলা;
    দুই কূলে  দুই জন কাঁদি, মাঝে নদী ছলছল।।
    
  • বৃজমে আজ স্যখি ধূম ম্যচাও

    বাণী

    বৃজমে আজ স্যখি ধূম ম্যচাও
    অওরী বৃজবালা ম্যঙ্গল গাও।।
    গুঁথো স্যখিরি স্যব কুসুম-মালা
    দেখ্যন কো চ্যলো নন্দকে লালা
    বৃজকে ঘ্যর ঘ্যর হর‍্যষ মানাও।।
    

    নাটিকাঃ ‘জন্মষ্টমী’

  • বেণুকার বনে কাঁদে বাতাস বিধুর

    বাণী

    বেণুকার বনে কাঁদে বাতাস বিধুর —
    সে আমারি গান, প্রিয় সে আমারি সুর॥
    হলুদ চাঁপার ডালে সহসা নিশীথ কালে
    ডেকে ওঠে সাথি হারা পাখি ব্যথাতুর॥
    নদীর ভাটির স্রোতে শ্রান্ত সাঁঝে
    অশ্রু জড়িত মোর সুর যে বাজে।
    সে সুরের আভাসে আঁখিপুরে জল আসে,
    মনে পড়ে চলে-যাওয়া প্রিয়রে সুদূর॥
    

  • বেদিয়া বেদিনী ছুটে আয়

    বাণী

    বেদিয়া বেদিনী ছুটে আয়,আয়,আয়
    ধাতিনা ধাতিনা তিনা ঢোলক মাদল বাজে
    	বাঁশিতে পরান মাতায়।।
    দলে দলে নেচে নেচে আয় চলে
    আকাশের শামিয়ানা তলে
    বর্শা তীর ধনুক ফেলে আয় আয় রে
    	হাড়ের নূপুর প'রে পায়।।
    বাঘ-ছাল প'রে আয় হৃদয়-বনের শিকারি
    ঘাগরা প'রে প'রে পলার মালা আয় বেদের নারী
    মহুয়ার মধু পিয়ে ধুতুরা ফুলের পিয়ালায়।।
    

  • বেল ফুল এনে দাও চাই না বকুল

    বাণী

    বেল ফুল এনে দাও চাই না বকুল
    চাই না হেনা, আনো আমের মুকুল।।
    গোলাপ বড় গরবী এনে দাও করবী
    চাইতে যূথী আন টগর — কি ভুল।।
    কি হবে কেয়া, দেয়া নাই গগনে;
    আনো সন্ধ্যামালতী গোধূলি-লগনে।
    গিরি-মল্লিকা কই’ চামেলি পেয়েছে সই
    চাঁপা এনে দাও, নয় বাঁধব না চুল।।
    
  • বেলা গেল সন্ধ্যা হ’ল

    বাণী

    বেলা গেল সন্ধ্যা হ’ল, (ওরে) এখন খোল আঁখি।
    তুই সোনার খনির কাছে এসে ফিরলি ধূলা-মাখি।।
    	এ সংসারের সার ছেড়ে তুই
    	সং সেজে হায়, বেড়াস নিতুই,
    যে তোরে ধন-রত্ন দিলো তারেই দিলি ফাঁকি।।
    ভুলে রইলি যাদের নিয়ে, তাদের পেলি কোথা হতে,
    তোর যাবার বেলায় কেউ কি সাথি হবে রে তোর পথে।
    	এখনো তুই ডাক একবার
    	নাইরে সীমা তাহার দয়ার,
    সে-ই করবে ক্ষমা, ঘুম পাড়াবে শীতল বুকে রাখি।।
    
  • বেসুর বীণায় ব্যথার সুরে

    বাণী

    বেসুর বীণায়	ব্যথার সুরে বাঁধ্‌ব গো
    পাষাণ-বুকে		নিঝর হয়ে কাঁদব গো।।
    কুলের কাঁটায়	স্বর্ণলতার দুল্‌ব হার,
    ফণীর ডেরায়	কেয়ার কানন ফাঁদ্‌ব গো।।
    ব্যাধের হাতে	শুনব সাধের বঙশী-সুর,
    আস্‌লে মরণ	চরণ ধ’রে সাধব গো।।
    
  • বৈকালী সুরে গাও চৈতালি গান

    বাণী

    বৈকালী সুরে গাও চৈতালি গান, বসন্ত হয় অবসান।
    নহবতে বাজে সকরুণ মূলতান।।
    নীরব আনমনা পিক চেয়ে আছে দূরে অনিমিখ
    ধূলি-ধূসর হলো দিক আসে বৈশাখ অভিযান।।
    চম্পা-মালা রবমলিন লুটায় ফুল-ঝরা বন-বীথিকায়,
    ঢেলে দাও সঞ্চিত প্রাণের মধু-যৌবন দেবতার পায়।
    অনন্ত বিরহ-ব্যথায় ক্ষণিকের মিলন হেথায়
    ফিরে নাহি আসে যাহা যায়-নিমেষের মধুতর গান।।