কাহার্‌বা

  • মরুর ধুলি উঠলো রেঙে রঙিন গোলাপ রাগে

    বাণী

    মরুর ধুলি উঠলো রেঙে রঙিন গোলাপ রাগে
    বুলবুলিরা উঠলো গেয়ে মক্কার গুলবাগে।।
    	খোদার প্রেমের কোন দিওয়ানা
    	দ্বারে দ্বারে দেয় রে হানা,
    নবীন আশার আলোক পেয়ে, ঘুমন্ত সব জাগে।।
    এ কোন তরণ প্রেমিক এলো কা'বার অঙ্গনে
    সবুজ পাতার নিশান দোলায় শুকনো খেজুর বনে।
    	এলো নব দীনের নকীব
    	চির-চাওয়া খোদার হাবীব
    নিখিল পাপী-তাপী যাঁহার পায়ের পরশ মাগে।।
    

  • মসজিদে ঐ শোন্ রে আজান চল নামাজে চল্

    বাণী

    	মসজিদে ঐ শোন্ রে আজান, চল নামাজে চল্ ।
    	দুঃখে পাবি সান্ত্বনা তুই বক্ষে পাবি বল।।
    	ময়লা-মাটি লাগবে যা তোর দেহ-মনের মাঝে —
    	সাফ হবে সব, দাঁড়াবি তুই যেম্‌নি জায়নামাজে;
    (চল্)	রোজগার তুই করবি যদি আখেরের ফসল।।
    	হাজার কাজের অছিলাতে নামাজ করিস কাজা
    	খাজনা তারি দিলি না, যে দ্বীন-দুনিয়ার রাজা
    তাঁরে	পাঁচ বার তুই করবি মনে, তাতেও এত ছল্।।
    	কার তরে তুই মরিস খেটে; কে হবে তোর সাথী
    	বে-নামাজীর আঁধার গোরে কে জ্বালাবে বাতি
    (চল্)	খোদার নামে শির লুটায়ে জীবন কর্‌ সফল।।
    
  • মসজিদেরই পাশে আমার কবর দিও ভাই

    বাণী

    	মসজিদেরই পাশে আমার কবর দিও ভাই
    	যেন গোরে থেকেও মোয়াজ্জিনের আজান শুন্‌তে পাই।।
    	আমার গোরের পাশ দিয়ে ভাই নামাজীরা যাবে,
    	পবিত্র সেই পায়ের ধ্বনি এ বান্দা শুনতে পাবে।
    	গোর আজাব থেকে এ গুণাহ্‌গার পাইবে রেহাই।।
    কত	পরহেজগার খোদার ভক্ত নবীজীর উম্মত,
    	ঐ মস্‌জিদে করে রে ভাই কোরান তেলাওয়াৎ।
    	সেই কোরান শুনে যেন আমি পরান জুড়াই।।
    কত	দরবেশ ফকির রে ভাই মস্‌জিদের আঙিনাতে
    	আল্লার নাম জিকির করে লুকিয়ে গভীর রাতে।
    আমি	তাদের সাথে কেঁদে কেঁদে নাম জপ্‌তে চাই
    	আল্লার নাম জপ্‌তে চাই।।
    
  • মহুয়া ফুলের মদির ঘন সুবাসে

    বাণী

    মহুয়া ফুলের মদির ঘন সুবাসে,
    নয়ন ঝিমিয়ে আসে।।
    মাতাল পাপিয়া ‘পিয়া পিয়া’ ডাকে
    দোলন-চাঁপার ঝুলন শাখে,
    ঝিরিঝিরি হাওয়ায় মন উদাসে।।
    নিদাঁলি ছাওয়া চৈতালি হাওয়া,
    স্বপনের ঘোর লাগে আকাশে
    মৌমাছির পাখা জড়িয়ে আসে।।
    
  • মাঠে আমার ফল্‌ল ফসল

    বাণী

    মাঠে আমার ফল্‌ল ফসল মনের ফসল কই
    শূন্য মনে আল্লা তোমার পানে চেয়ে রই।।
    আরব মরুভূমে নবীজীরে পাঠাইলে
    আমার মনের মরুভূমি বিফল রাখিলে,
    গরীব ব’লে আমি কি গো বান্দা তব নই।।
    চাই না যশ মান আমি চাহি না দৌলৎ,
    আমি চাহি শুধু — তোমার নামেরি সরবত
    যে যাহা চায় তুমি নাকি তারে তাহাই দাও
    আমার মানত পূর্ণ ক’রে পরান বাঁচাও,
    আমি যেন আল্লা নামের তস্‌বি শুধু বই।।
    
  • মাধব গোবিন্দ শ্রীকৃষ্ণ মুরারি

    বাণী

    মাধব গোবিন্দ শ্রীকৃষ্ণ মুরারি॥
    কহ নাম মুখে গাহ সুখে দুখে
    মণিহারই করে গেঁথে রাখ বুকে
    	গোলকে হরি তার সখা সাথী প্যারী॥
    পেল না ব্রহ্মা শিব ধেয়ানে যাহারে
    বাঁধিল গোকুলে গোয়ালিনী তারে
    	যুগে যুগে সে যে প্রেমের ভিখারি॥
    লীলা রসে তাহার ডুবে রও অবিরাম
    এ সংসার হবে রে সুমধুর ব্রজধাম
    	ধরিবেন হৃদয়ে তোরে গিরিধারী॥
    
  • মাধব বংশীধারী বনওয়ারী

    বাণী

    মাধব বংশীধারী বনওয়ারী গোঠ-চারী গোবিন্দ কৃষ্ণ মুরারী।
    গোবিন্দ কৃষ্ণ মুরারি হে পাপ-তাপ-দুখ-হারী।।
    কালরূপ কভু দৈত্য-নিধনে, চিকন কালা কভু বিহর বনে,
    কভু বাজাও বেণু, খেল ধেনু-সনে,
    কভু বামে রাধা প্যারী, গোপ-নারী মনোহারি, নিকুঞ্জ-লীলা-বিহারী।।
    কুরুক্ষেত্র-রণে পান্ডব-মিতা, কন্ঠে অভয়বাণী ভগবদ্-গীতা,
    পূর্ণ ভগবান পরম পিতা, শঙ্খ-চক্র-গদাধারী,
    পাপ-তারী, কান্ডারি ত্রিভুবন সৃজনকারী।।
    
  • মালতী মঞ্জরি ফুটিবে যবে অলস বেলায়

    বাণী

    মালতী মঞ্জরি ফুটিবে যবে অলস বেলায়
    প্রিয় হে প্রিয় মোরে স্মরিও সেই সন্ধ্যায়।।
    ঝরা পল্লবে ফেলি দীরঘ শ্বাস
    কাঁদিয়া ফিরিবে যবে চৈতী বাতাস,
    নাগকেশরের ঝরা কেশর দলে খুঁজিও আমায়।।
    মল্লিকা মুকুলের প্রথম সুবাস
    বিরহী পরাণ যবে করিবে উদাস,
    পিয়াল নদীর কূলে কাঁদিয়া বাঁশি ডাকিবে প্রিয়ায়।।
    
  • মালার ডোরে বেঁধো না গো

    বাণী

    মালার ডোরে বেঁধো না গো বাহুর ডোরে বাঁধো।
    কাঁদোই যদি, আমার বুকে মুখ লুকিয়ে কাঁদো।।
    	তোমার পূজার আসন হতে
    	নামাও এবার ধূলির পথে,
    দেবতা ব’লে সেধো না গো, প্রিয় ব’লে সাধো।।
    পূজারিণী, জাগো জাগো — হৃদয় দুয়ার খোলো।
    নিবেদনের ফুলে বরণ-মালা গেঁথে তোলো।।
    
  • মিনতি রাখো রাখো পথিক থাকো থাকো

    বাণী

    মিনতি রাখো রাখো পথিক থাকো থাকো,
    	এখনি যেয়ো না গো, না না না।
    ক্ষণিক অতিথি বিদায়ের গীতি
    	এখনি গেয়ো না গো, না না না।।
    চৈতী পূর্ণিমা চাঁদের তিথি,
    পুষ্প পাগল এ বনবীথি,
    ধূলায় ছেয়ো না গো, না না না।।
    বলি বলি ক'রে হয়নি যা বলা,
    যে কথা ভরিয়াছিল বুকের তলা;
    সে কথা না শুনে সুন্দর অতিথি হে
    	যেতে চেয়ো না গো, না না না।।
    
  • মুখে তোমার মধুর হাসি হাতে কুটিল ফাঁসি

    বাণী

    মুখে তোমার মধুর হাসি হাতে কুটিল ফাঁসি।
    সুন্দর চোর, চিনি তোমায় তবু ভালোবাসি।।
    	শত ব্রজে কেঁদে মরে
    	শত রাধা তোমার তরে,
    কত গোকুল ডুবলো অকূল আঁখির নীরে ভাসি'।।
    কত নারীর মন গেঁথে, নাথ, পরলে বন-মালা,
    যমুনাতে ডুবালে শ্যাম কত কুলের বালা।
    	দেখাও আসল হাত দু'খানি-
    	করাল গদার চক্রপাণি,
    তব এ দু'টি হাত ছলনা, নাথ, বাজাও যে হাতে বাঁশি।।
    

  • মুসাফির মোছ্‌ রে আঁখি–জল

    বাণী

    মুছাফির! মোছ্ রে আঁখি-জল
    		ফিরে চল আপনারে নিয়া
    আপনি ফুটেছিল ফুল
    		গিয়াছে আপ্‌নি ঝরিয়া।।
    রে পাগল! একি দুরাশা,
    জলে তুই বাঁধ্‌বি রে বাসা!
    মেটে না হেথায় পিয়াসা
    		হেথা নাই তৃষা-দরিয়া।।
    বরষায় ফুটল না বকুল
    পউষে ফুট্‌বে কি সে ফুল (রে)
    এ পথে ঝরে সদা ভুল
    		নিরাশার কানন ভরিয়া।।
    রে কবি! কতই দেয়ালি
    জ্বালিলি তোর আলো জ্বালি’
    এলো না তোর বনমালী
    		আধাঁর আজ তোরই দুনিয়া।।
    

  • মৃদুল মন্দে মঞ্জুল ছন্দে

    বাণী

    মৃদুল মন্দে			মঞ্জুল ছন্দে
    মরাল মদালস			নাচে আনন্দে।।
    তরঙ্গ হিন্দোলে		শতদল দোলে
    শিশু অরুণে জাগায়		অমা-যামিনীর কোলে
    শুষ্ক কানন ভরে		বকুল গন্ধে।।
    নন্দন-উপহার			ধরণীর ক’রে
    শুভ্র পাখায় শুভ		আশিস ঝরে।
    মিলন, বসন্তের		দূত আগমনী
    কণ্ঠে সুমঙ্গল			শঙ্খের ধ্বনি
    কুহু কেকা গাহে		মধুর ছন্দে।।
    

    নাটকঃ ‘সাবিত্রী’

  • মেঘ-বরণ কন্যা থাকে মেঘলামতীর দেশে

    বাণী

    মেঘ-বরণ কন্যা থাকে মেঘলামতীর দেশে (রে)
    সেই দেশে মেঘ জল ঢালিও তাহার আকুল কেশে।।
    	তাহার কালো চোখের কাজল
    	শাওন মেঘের চেয়ে শ্যামল
    চাউনিতে তার বিজলি ছড়ায় চমক বেড়ায় ভেসে (রে)।।
    সে ব’সে থাকে পা ডুবিয়ে ঘুমতী নদীর জলে
    কভু দাঁড়িয়ে থাকে ছবির মত একলা তরু-তলে (রে)।
    	কদম ফুলের মালা গেঁথে
    	ছড়িয়ে সে দেয় ধানের ক্ষেতে
    তারে দেখতে পেলে আমার কথা (তারে) কইও ভালোবেসে।।
    
  • মেঘ-মেদুর গগন কাঁদে হুতাশ পবন

    বাণী

    মেঘ-মেদুর গগন কাঁদে হুতাশ পবন
    কে বিরহী রহি’রহি’দ্বারে আঘাত হানো।
    শাওন ঘন ঘোর ঝরিছে বারি অঝোর
    কাঁপিছে কুটির মোর দীপ নেভানো।।
    বজ্রে বাজিয়া ওঠে তব সঙ্গীত,
    বিদ্যুতে ঝলকিছে আঁখি-ইঙ্গিত,
    চাঁচর চিকুরে তব ঝড় দুলানো, ওগো মন ভুলানো।।
    এক হাতে, সুন্দর, কুসুম ফোটাও!
    আর হাতে নিষ্ঠুর মুকুল ঝরাও।
    হে পথিক, তব সুর অশান্ত ব‍ায়
    জন্মান্তর হতে যেন ভেসে আসে হায়!
    বিজড়িত তব স্মৃতি চেনা অচেনায় প্রাণ কাঁদানো।।
    
  • মেঘলা নিশি ভোরে

    বাণী

    মেঘলা নিশি ভোরে মন যে কেমন করে
    তারি তরে গো মেঘ-বরণ যার কেশ।
    বুঝি তাহারি লাগি’ হয়েছে বৈরাগী
    গেরুয়া রাঙা গিরিমাটির দেশ।।
    মৌরি ফুলের ক্ষেতে, মৌমাছি ওঠে মেতে
    এলিয়েছিল কেশ কি গো তার এই পথে সে যেতে।
    তার ডাগর চোখের ঝিলিক লেগে রাত হয়েছে শেষ (গো)।।
    শিরিষ পাতায় ঝিরিঝিরি, বাজে নূপুর তারি
    সোনাল ডালে দোলে তাহার কামরাঙা রঙ শাড়ি।
    হয়েছি মন-ভিখারি কোন্‌ শিকারি আমি
    উঠি পাহাড় চূড়ায়, ঝর্না জলে নামি
    কালো পাথর দেখে জাগে কার চোখের আবেশ গো।।
    
  • মেরে শ্রীকৃষ্ণ ধরম শ্রীকৃষ্ণ করম

    বাণী

    মেরে শ্রীকৃষ্ণ ধরম শ্রীকৃষ্ণ করম শ্রীকৃষ্ণহি তন-মন-প্রাণ।
    সব্‌সে নিয়ারে পিয়ারে শ্রীকৃষ্ণজী নয়নুঁকে তারে সমান॥
    দুখ সুখ সব শ্রীকৃষ্ণ মাধব কৃষ্ণহি আত্মা জ্ঞান
    কৃষ্ণ কণ্ঠহার আঁখকে কাজর কৃষ্ণ হৃদয়মে ধ্যান
    শ্রীকৃষ্ণ ভাষা শ্রীকৃষ্ণ আশা মিটায়ে পিয়াস উয়ো নাম (মেরে)
    স্বামী-সখা-পিতা-মাতা শ্রীকৃষ্ণজী ভ্রাতা-বন্ধু-সন্তান॥
    
  • মোমের পুতুল মমীর দেশের মেয়ে নেচে যায়

    বাণী

    মোমের পুতুল মমীর দেশের মেয়ে নেচে যায়।
    	বিহবল–চঞ্চল–পায়।।
    	খর্জুর–বীথির ধারে
    	সাহারা মরুর পারে
    বাজায় ঘুমুর ঝুমুর ঝুমুর মধুর ঝঙ্কারে।
    	উড়িয়ে ওড়না ‘লু’ হাওয়ায়
    	পরী–নটিনী নেচে যায়
    	দুলে দুলে দূরে সুদূর।।
    সুর্মা–পরা আঁখি হানে আস্‌মানে,
    জ্যোৎস্না আসে নীল আকাশে তার টানে।
    	ঢেউ তুলে নীল দরিয়ায়
    	দিল–দরদী নেচে যায়
    	দুলে দুলে দূরে সুদূর।।
    
  • মোর দুখ নিশি কবে হবে ভোর

    বাণী

    মোর দুখ নিশি কবে হবে ভোর
    ভুবনে ছাড়ালো প্রভাতের আলো —
    আমারি ভবনে কেন আঁধার ঘোর ॥
    সূর্য-কিরণে সাগর শুকায় —
    সে রবি-কিরণে শুকালো না হায়
    আমার বিরহী আঁখির লোর ॥
    আশোক বনে সীতার সঙ্গিনী প্রমীলার সম
    নিশীথের আঁধার মুখ লুকায়ে কাঁদে অন্তরে মম। 
    মালা চন্দন লয়ে মন্দির মাঝে
    ফেলে নববধূ সাজ পূজারিণী-সাজে
    শূন্য মন্দিরে আমি একা কাঁদি জড়ায়ে ছিন্ন মালার ডোর ॥
    

  • মোর বুক ভরা ছিল আশা

    বাণী

    মোর বুক ভরা ছিল আশা প্রাণ ভরা ভালোবাসা।
    হায় আসিল সে যবে কাছে মুখে সরিল না ভাষা।।
    	আমি পেয়েছিলাম তায় একা
    	ছিল চোখে তাহার প্রেম-লেখা,
    তবু বলিতে পারিনি তারে কাঁদে প্রাণে কি দুরাশা।।
    	এসে ভরা নদীর তীরে
    	পান না করিয়া বারি
    	আমি আসিলাম ফিরে — 
    ছিল তৃষ্ণা-কাতর এ প্রাণে মরুভূমির পিয়াসা।।