কাহার্‌বা

  • যাই গো চ'লে যাই না-দেখা লোকে

    বাণী

    যাই গো চ'লে যাই না-দেখা লোকে
    	জানিতে চির অজানায়।
    নিরুদ্দেশের পথে মানস-রথে স্বপন ঘুমে
    	মন যথা চ'লে যায়।।
    সাগর-জলে পাতাল-তলে তিমিরে
    অজানা মায়া আছে চিরদিন সে-দেশ ঘিরে —
    মেঘলোক পারায়ে চাঁদের বুকে গ্রহ-তারায়।।
    যাই হিমগিরি-চূড়াতে, মেরুর তুষারে,
    আকাশের দ্বার খুলে' হেরিতে ঊষারে।
    রামধনু ওঠে যথা পরীরা খেলে
    যে-দেশ হইতে আসে এ জীবন, যেখানে হারায়।।
    
  • যাও মেঘদূত দিও প্রিয়ার হাতে

    বাণী

    যাও মেঘদূত, দিও প্রিয়ার হাতে
    আমার বিরহ–লিপি লেখা কেয়া পাতে।।
    আমার প্রিয়ার দিরঘ নিশাসে
    থির হয়ে আছে মেঘ যে–দেশেরই আকাশে
    আমার প্রিয়ার ম্লান মুখ হেরি’
    ওঠে না চাঁদ আর যে–দেশে রাতে।।
    পাইবে যে–দেশে কুন্তল–সুরভি বকুল ফুলে
    আমার প্রিয়া কাঁদে এলায়ে কেশ সেই মেঘনা–কূলে।
    স্বর্ণলতার সম যার ক্ষীণ করে
    বারে বারে কঙ্কণ চুড়ি খুলে পড়ে
    মুকুল’ বয়সে যথা বরষার ফুল–দল
    বেদনায় মুরছিয়া আছে আঙিনাতে।।
    
  • যাও হেলে দুলে এলোচুলে কে গো বিদেশিনী

    বাণী

    পুরুষ	:	যাও হেলে দুলে এলোচুলে কে গো বিদেশিনী
    		কাহার আশে কাহার অনুরাগিনী।
    স্ত্রী	:	আমি কনক চাঁপার দেশের মেয়ে
    		এনু ঊষার রঙের গান গেয়ে
    		আমি মল্লিকা গো পল্লীবাসিনী।
    পুরুষ	:	চিনি চিনি ওই চুড়ি কাঁকনের রিনিকি রিনি
    		তুমি ভোর বেলা দাও স্বপনে দেখা।
    স্ত্রী	:	তোমার রঙে কবি আঁক আমারি ছবি
    		তুমি দেবতা রবি আমি তব পূজারিণী।
    পুরুষ	:	এসো ধরণীর দুলালী আলোর দেশে
    		যথা তারার সাথে চাঁদ গোপনে মেশে
    স্ত্রী	:	আনো আলোক তরী আমি যাই গো ভেসে
    দ্বৈত	:	চলো যাই ধরণী ধূলির ঊর্ধে
    পুরুষ	:	যথা বয় অনন্ত
    স্ত্রী	:	প্রেম মন্দারিণী
    পুরুষ	:	যথা বয় অনন্ত
    দ্বৈত	:	প্রেম মন্দারিণী॥
    
  • যাক্ না নিশি গানে গানে

    বাণী

    যাক্ না নিশি গানে গানে জাগরণে
    আজকে গানের বান এসেছে আমার মনে।।
    	মন ছিল মোর পাতায় ছাওয়া
    	হঠাৎ এলো দিখন্ হাওয়া
    পাতার কোলে কথার কুঁড়ি ফুট্‌লো অধীর হরষণে।।
    সেই কথারই মুকুলগুলি সুরের সুতোয় গেঁথে গেঁথে,
    কা’রে যেন চাই পরাতে কাহারে চাই কাছে পেতে।
    	জানি না সে কোন্ বিজনে
    	নিশীথ জেগে এ গান শোনে
    না-দেখা তার চোখের চাওয়ায় আবেশ জাগায় মোর নয়নে।।
    

  • যাদের তরে এ সংসারে খাটনু জনম ভর

    বাণী

    যাদের তরে এ সংসারে খাটনু জনম ভর,
    তাদের কেউ হবে না হে নাথ মরণ-সাথি মোর।।
    	শত পাপ শত অধর্ম ক’রে
    বিভব রতন আনলেম ঘরে
    সে সকল ভাগ বাটোয়ারা ক’রে খাবে পাঁচ ভুত চোর।।
    জীবনে তোমার লই নাই নাম তোমাতে হয় নাই মতি
    মরণ-বেলায় তাই কাঁদি প্রভু কি হবে মোর গতি।
    	চেয়ে দেখি আজ  যাবার বেলায়
    	কর্ম কেবল মোর সাথে যায়
    তরিবার আর না দেখি উপায় বিনা পদতরী তোর।।
    
  • যাবার বেলায় ফেলে যেয়ো একটি খোঁপার ফুল

    বাণী

    যাবার বেলায় ফেলে যেয়ো একটি খোঁপার ফুল (প্রিয়)
    আমার চোখের চেয়ে চেয়ো একটু চোখের ভুল (প্রিয়)।।
    অধর –কোণের ঈয়ৎ হাসির ক্ষণিক আলোকে
    রাঙ্গিয়ে যেয়ো আমার হিয়ার গহন কালোকে
    যেয়ো না গো মুখ ফিরিয়ে দুলিয়ে হীরের দুল।।
    একটি কথা ক’য়ে যেয়ো, একটি নমস্কার,
    সেই কথাটি গানের সুরে গাইব বারেবার
    হাত ধ’রে মোর বন্ধু ব’লো একটু মনের ভুল।।
    

  • যাবার বেলায় সালাম লহ

    বাণী

    	যাবার বেলায় সালাম লহ হে পাক রমজান।
    তব	বিদায় ব্যথায় কাঁদিছে নিখিল মুসলিম জাহান।। 
    	পাপীর তরে তুমি পারের তরী ছিলে দুনিয়ায়, 
    	তোমারি গুণে দোজখের আগুন নিভে যায়,
    	তোমারি ভয়ে লুকায়ে ছিল দূরে শয়তান।। 
    	ওগো রমজান, তোমারি তরে মুসলিম যত 
    	রাখিয়া রোজা ছিল জাগিয়া চাহি' তবু পথ,
    	আনিয়াছিলে দুনিয়াতে তুমি পবিত্র কোরআন।। 
    	পরহেজগারের তুমি যে প্রিয় প্রাণের সাথী, 
    	মসজিদে প্রাণের তুমি যে জ্বালাও দ্বীনের বাতি,
    	উড়িয়ে গেলে যাবার বেলায় নতুন ঈদের চাঁদের নিশান।।
    
  • যাবি কে মদিনায় আয়

    বাণী

    যাবি কে মদিনায় আয় ত্বরা করি'।
    তোর খেয়া ঘাটে এলো পুণ্য তরী।।
    আবুবকর, উমর খাত্তাব, উসমান, আলী হায়দর
    দাঁড়ি এ সোনার তরণীর, পাপী সব নাই নাই আর ডর।
    এ তরীর কাণ্ডারি আহমদ, পাকা সব মাঝি ও মাল্লা,
    মাঝিদের মুখে সারিগান শোন ঐ 'লা শরীক আল্লাহ'।
    পাপ-দরিয়ার তুফানে আর নাহি ডরি।।
    ঈমানের পারানি কড়ি আছে যার আয় এ সোনার নায় —
    ধরিয়া দ্বীনের রশি কলেমার জাহাজ-ঘাটায়।
    ফিরদাউস হ’তে ডাকে হুরী-পরী।।
    
  • যাস্‌নে মা ফিরে যাস্‌নে

    বাণী

    যাস্‌নে মা ফিরে, যাস্‌নে জননী ধরি দুটি রাঙা পায়।
    শরণাগত দীন সন্তানে ফেলি’ ধরার ধূলায় (মা) ধরি রাঙা পায়।।
    (মোরা) অমর নহি মা দেবতাও নহি
    	শত দুখ সহি’ ধরণীতে রহি’,
    মোরা অসহায়, তাই অধিকারী মাগো তোর করুণায়।।
    দিব্যশক্তি দিলি দেবতারে মৃত্যু-বিহীন প্রাণ,
    তবু কেন মাগো তাহাদেরি তরে তোর এত বেশি টান?
    (আজো) মরেনি অসুর মরেনি দানব
    	ধরণীর বুকে নাচে তান্ডব,
    সংহার নাহি করি’ সে অসুরে চলে যাস্ বিজয়ায়।।
    

    নাটিকা: ‘বিজয়া’

  • যুগ যুগ ধরি লোকে-লোকে মোর

    বাণী

    যুগ যুগ ধরি লোকে-লোকে মোর
    		প্রভুরে খুঁজিয়া বেড়াই;
    সংসারে গেহে , প্রীতি ও স্নেহে
    	আমার স্বামী বিনে নাই সুখ নাই।।
    তার	চরণ পাবার আশা ল'য়ে মনে
    	ফুটিলাম ফুল হয়ে কত বার বনে,
    		পাখি হয়ে তার নাম
    		শত বার গাহিলাম
    	তবু হায় কভু তার দেখা নাহি পাই।।
    	গ্রহ তারা হয়ে খুঁজেছি আকাশে,
    	দিকে দিকে ছুটেছি মিশিয়া বাতাসে,
    		পর্বত হয়ে নাম
    	কোটি যুগ ধিয়ালাম,
    	নদী হয়ে কাঁদিলাম খুঁজিয়া বৃথাই।।
    

  • যে অবহেলা দিয়ে মোরে

    বাণী

    যে	অবহেলা দিয়ে মোরে করিল পাষাণ।
    সখি	কেন কেঁদে ওঠে তারি তরে মোর প্রাণ।।
    	যে ফুল ফুটায়ে তার মধু নিল না
    মোরে	ধরার ধূলিতে এনে ধরা দিল না,
    কেন	তার তরে বুকে এত জাগে অভিমান।।
    মোর	প্রেম-অঞ্জলি সে যত যায় দলি’
    তারে	তত জড়াতে চাই, শ্যাম-সুন্দর বলি’,
    	চাঁদ সে যে আকাশের সে ধরা দেয় না
    তবু	চকোরীর ভুল হয় নাকো অবসান।।
    
  • যে আল্লার কথা শোনে

    বাণী

    যে আল্লার কথা শোনে তারি কথা শোনে লোকে।
    আল্লার নূর যে দেখেছে পথ পায় লোক তার আলোকে।।
    	যে আপনার হাত দেয় আল্লায়
    	জুল্‌ফিকারের তেজ সে পায়,
    যার চোখে আছে খোদার জ্যোতি রাত্রি পোহায় তারি চোখে।।
    ভোগের তৃষ্ণা মিটেছে যার খোদার প্রেমের শিরনি পেয়ে,
    যায় বাদ্‌শা-নবাব গোলাম হ'য়ে সেই ফকিরের কাছে যেয়ে।
    আসে সেই কওমের ইমাম সেজে কওমকে পেয়েছে যে,
    তারি কাছে খোদার দেওয়া শান্তি আছে দুখে-শোকে।। 
    
  • যে পাষাণ হানি বারে বারে তুমি

    বাণী

    যে পাষাণ হানি বারে বারে তুমি আঘাত করেছ, স্বামী,
    সে পাষাণ দিয়ে তোমার পূজায় এ মিনতি রাখি আমি।।
    	যে আগুন দিলে দহিতে আমারে
    	হে নাথ, নিভিতে দিইনি তাহারে;
    আরতি প্রদীপ হয়ে তারি বিভা বুকে জ্বলে দিবা-যামী।।
    তুমি যাহা দাও প্রিয়তম মোর তাহা কি ফেলিতে পারি,
    তাই নিয়ে তব অভিষেক করি নয়নে দিলে যে বারি।
    	ভুলিয়াও মনে কর না যাহারে,
    	হে নাথ, বেদনা দাও না তাহারে,
    ভুলিতে পারো না মোরে, ব্যথা দেওয়া ছলে, তাই নিচে আসো নামি'।।
    
  • যে পেয়েছে আল্লার নাম সোনার কাঠি

    বাণী

    	যে পেয়েছে আল্লার নাম সোনার কাঠি,
    	তার কাছে ভাই এই দুনিয়া দুধের বাটি॥
    	দীন দুনিয়া দুই-ই পায় সে মজা লোটে,
    	রোজা রেখে সন্ধ্যাবেলা শিরনি জোটে,
    সে	সদাই বিভোর পিয়ে খোদার এশ্‌ক খাঁটি॥
    সে	গৃহী তবু ঘরে তাহার মন থাকে না,
    	হাঁসের মতন জলে থেকেও জল মাখে না;
    তার	সবই সমান খাঁটি সোনা এঁটেল্ মাটি॥
    	সবই খোদার দান ভেবে সে গ্রহণ করে,
    	দুঃখ-অভাব সুখের মতই জড়িয়ে ধরে,
    	ভোগ করে সে নিত্য বেহেশ্‌ত্‌ পরিপাটি॥
    
  • যে ব্যথায় এ অন্তর-তল নিশিদিন উঠিছে দুলে

    বাণী

    যে ব্যথায় এ অন্তর-তল নিশিদিন উঠিছে দুলে'।
    তারি ঢেউ এ সঙ্গীতে মোর মুরছায় সুরের কূলে।।
    	ভালোবাসা তোমরা যারে
    	দু'দিনেই ভোলো গো তারে (হায়)
    শরতের সজল মেঘ-প্রায় কেঁদে যাও নিমেষে ভুলে।।
    	কঠিন পুরুষেরি মন
    	গলিয়া বহে গো যখন
    বহে সে নদীর মতন চিরদিন পাষাণ-মূলে।।
    আলোর লাগি' জাগে ফুল, নদী ধায় সাগরে যেমন,
    চকোর চায় চাঁদ, চাতক মেঘ, যারে চায় তায় চাহে এই রে মন।
    নিয়ে যায় সুদূর অমরায় পূজে তায় বাণী-দেউলে।।
    

  • যেদিন রোজ হাশরে করতে বিচার

    বাণী

    যেদিন		রোজ হাশরে করতে বিচার তুমি হবে কাজী
    		সেদিন তোমার দিদার আমি পাব কি আল্লাজী।।
    		সেদিন নাকি তোমার ভীষণ কাহ্‌হার রূপ দেখে
    		পীর পয়গম্বর কাঁদবে ভয়ে ‘ইয়া নফসী’ ডেকে;
    		সেই সুদিনের আশায় আমি নাচি এখন থেকে।
    আমি		তোমায় দেখে হাজারো বার দোজখ যেতে রাজী।
    আল্লাহ 		তোমায় দেখে হাজারো বার দোজখ যেতে রাজি।।
    		যেরূপে হোক বারেক যদি দেখে তোমায় কেহ
    		দোজখ্‌ কি আর ছুঁতে পারে পবিত্র তাঁর দেহ।
    সে 		হোক না কেন হাজার পাপী হোক না বে-নামাজী।।
    		ইয়া আল্লাহ, তোমার দয়া কত তাই দেখাবে ব’লে
    		রোজ-হাশরে দেখা দেবে বিচার করার ছলে, —
    		প্রেমিক বিনে কে বুঝিবে তোমার এ কারসাজি।।
    
  • যেদিন লব বিদায়

    বাণী

    		যেদিন লব বিদায় ধরা ছাড়ি প্রিয়ে।
    		ধুয়ো ‘লাশ’ আমার লাল পানি দিয়ে।।
    শেয়র:	শারাবী জমশেদী গজল ‘জানাজায়’ গাহিও আমার
    		দিবে গোর খুঁড়িয়া মাটি খারারী ঐ শারাব-খানার!
    		‘রোজ-কিয়ামতে’ তাজা উঠব জিয়ে।।
    শেয়র:	এমনি পিইব শারাব ভেসে যাব তাহার স্রোতে,
    		উঠিবে খুশবু শারাবের আমার ঐ গোরের পার হতে;
    		টলি’ পড়বে পথিক সে নেশায় ঝিমিয়ে।।
    
  • রঙ্গিলা আপনি রাধা

    বাণী

    রঙ্গিলা আপনি রাধা তারে হোরির রঙ দিও না
    ফাগুনের রাণীরে শ্যাম আর ফাগে রাঙিয়ো না।।
    	রাঙা আবির রাঙ্গা ঠোঁটে
    	গালে ফাগের লালী ফোটে
    রঙ সায়রে নেয়ে উঠে অঙ্গে ঝরে রঙের সোনা।।
    	অনুরাগ –রাঙা মনে
    	রঙের খেলা ক্ষণে ক্ষণে
    অন্তরে যার রঙের লীলা তারে বাহিরে রঙ লাগিয়ো না।।
    
  • রংমহলের রংমশাল মোরা

    বাণী

    রংমহলের রংমশাল মোরা আমরা রূপের দীপালি।
    রূপের কাননে আমরা ফুলদল কুন্দ মল্লিকা শেফালি।।
    	রূপের দেউলে আমি পূজারিণী
    	রূপের হাটে মোর নিতি বিকিকিনি,
    	নৌবতে আমি প্রাতে আশাবরি,
    			আমি সাঁঝে কাঁদি ভূপালী।।
    	আমি শরম-রাঙা চোখের নেশা,
    	লাল শারাব আমি আঙুর-পেষা,
    	আঁখিজলে গাঁথা আমি মোতি-মালা,
    			দীপাধারে মোরা প্রাণ জ্বালি।।
    
  • রাখিস্‌নে ধরিয়া মোরে ডেকেছে মদিনা

    বাণী

    রাখিস্‌নে ধরিয়া মোরে, ডেকেছে মদিনা আমায়।
    আরাফাত্‌ময়দান হতে তারি তক্‌বীর শোনা যায়।।
    কেটেছে পায়ের বেড়ি, পেয়েছি আজাদী ফরমান,
    কাটিল জিন্দেগী বৃথাই দুনিয়ার জিন্দান-খানায়।।
    ফুটিল নবীর মুখে যেখানে খোদার বাণী
    উঠিল প্রথম তক্‌বীর ‘আল্লাহ্ আকবর’ ধ্বনি,
    যে দেশে পাহাড়ে মুসা দেখিল খোদার জ্যোতি — 
    রব না দারুল হরবে যেতে দে যেতে দে সেথায়।।
    যে দেশে ধূলিতে আছে হজরতের চরণ-ধূলি
    সে ধূলি করিব সুরমা চুমিব নয়নে তুলি’,
    যে দেশের মাটিতে আছে নবীজীর মাজার শরিফ — 
    নবীজীর দেহের পুষ্প ভাসে রে যে দেশের হাওয়ায়।।