কাহার্‌বা

  • স্নিগ্ধ-শ্যাম-বেণী-বর্ণা

    বাণী

    স্নিগ্ধ-শ্যাম-বেণী-বর্ণা এসো মালবিকা
    অর্জুন-মঞ্জরি-কর্ণে গলে নীপ-মালিকা, মালবিকা।।
    ক্ষীণা তন্বী জল-ভার-নমিতা
    শ্যাম জম্বু-বনে এসো অমিতা
    আনো কুন্দ মালতী যুঁই ভরি থালিকা, মালবিকা।।
    ঘন নীল বাসে অঙ্গ ঘিরে
    এসো অঞ্জনা রেবা-নদীর তীরে।
    পরি’ হংস-মিথুন আঁকা শাড়ি ঝিল্‌মিল্‌
    এসো ডাগর চোখে মাখি সাগরের নীল
    ডাকে বিদ্যুৎ ইঙ্গিতে দিগ্‌-বালিকা, মালবিকা।।
    

  • স্বপন যখন ভাঙবে তোমার দেখবে আমি নাই

    বাণী

    স্বপন যখন ভাঙবে তোমার দেখবে আমি নাই।
    মোরে শূন্য তোমার বুকেরি কাছে খুজবে গো বৃথাই।।
    	দেখবে জেগে বাহুর পরে
    	আছে নীরব অশ্রু ঝ'রে
    কাছ থেকেও ছিলাম দূরে যাই গো চলে যাই।।
    কাঁটার মতো ছিলাম বিধে আমি তোমার বুকে,
    বিদায় নিলাম চিরতরে ঘুমাও তুমি সুখে (ওগো)।
    	একলা ঘরে জেগে ভোরে
    	হয়তো মনে পড়বে মোরে,
    দূরে স'রে হয়তো পাব অন্তরেতে ঠাঁই।।
    
  • হরি নাচত নন্দদুলাল

    বাণী

    (হরি) নাচত নন্দদুলাল
    শ্যামল সুন্দর মদন মনোহর
    নওল কিশোর কানাইয়া গোপাল।
    নাচত গিরিধারী ময়ূর মুকুট পরি
    দিকে দিকে ছন্দ আনন্দ পড়িছে ঝরি
    নাচে গোপী সখা বংশীওয়ালা হরি
    রুনুঝুনু বাজওত ঘুঙ্গুর তাল।
    

    নাটিকাঃ ‘মীরাবাঈ’

  • হাওয়াতে নেচে’ নেচে' যায় ঐ তটিনী

    বাণী

    হাওয়াতে নেচে’ নেচে’ যায় ঐ তটিনী।
    পাহাড়ের পথ-ভোলা কিশোরী নটিনী।।
    		তরঙ্গ আঁচল দুলায়ে
    		বনভূমির মন ভুলায়ে,
    চলেছে চপল পায়ে একাকিনী উদাসিনী।।
    এঁকে বেঁকে থম্‌কে গিয়ে,
    হরিণীরে চম্‌কে দিয়ে।
    ছুটিয়া যায় সুদূরে
    আয় আয় বলি, ডাকে কে কুলের বধূরে,
    নেচে চলে পথ বেভুল ঘর-ছাড়া বিবাগিনী।।
    
  • হায় গো ভালোবেসে অবশেষে

    বাণী

    (হায় গো) 	ভালোবেসে অবশেষে কেঁদে দিন গেল।
    		ফুল-শয্যা বাসি হল, বঁধূ না এলো।।
    		শুকাইল পানের খিলি বাঁটাতে ভরা,
    		এ পান আমি কারে দিব সে বঁধূ ছাড়া।
    (হায় গো) 	নীলাম্বরী শাড়ি ছি ছি পরলেম মিছে লো।।
    		এবার ধ’রে দিস্ যদি তায়
    		রাখ্‌ব বেঁধে বিনোদ খোঁপায়,
    		কাঙালে পাইলে রতন রাখে যেমন লো।।
    		সোঁদা-মাখা নিস্‌নে কেশে, গন্ধে যে লো তার
    		মনে আনে চন্দন-গন্ধ সোনার বঁধূয়ার।
    		এত দুঃখ ছিল আমার এই বয়সে লো।।
    

    বাউল

  • হার মানি ননদিনী

    বাণী

    হার মানি ননদিনী
    মুখর মুখের বাণী শুনি তোর লজ্জাও লাজ সখি ভোলে
    			পুলকে প্রাণ মন দোলে দোলে।।
    পলকের চাহনিতে কে জানে কেমনে
    প্রাণে এলো এত মধু এত লাজ নয়নে
    বাহিরে নীরব কথার কুহু অন্তরে মুহুমুহু বোলে বোলে
    			মুহু মুহু কুহু কুহু বোলে।।
    তোরি মত ছিনু সই বনের কুরঙ্গী
    মানি নাই কোনদিন লাজের ভ্রুভঙ্গি।
    মধুরা মুখরা ওলো! মিষ্টি মুখের তোর
    সব মধু খেয়েছে কি ঠাকুর জামাই চোর?
    তব অভিনব বাণী হিল্লোলে
    গুন্ঠন আপনি খোলে পুলকে প্রাণ মন দোলে।।
    

    নাটিকাঃ ‘প্রীতি উপহার’

  • হারানো হিয়ার নিকুঞ্জ পথে

    বাণী

    হারানো হিয়ার নিকুঞ্জপথে কুড়াই ঝরা ফুল একেলা আমি।
    তুমি কেন হায় আসিলে হেথায় সুখের স্বরগ হইতে নামি।।
    	চারিপাশে মোর উড়িছে কেবল
    	শুকনো পাতা মলিন ফুল–দল,
    বৃথাই কেন হায় তব আঁখিজল ছিটাও অবিরল দিবস–যামী।।
    	এলে অবেলায় পথিক বেভুল
    	বিঁধিছে কাঁটা নাহি যবে ফুল,
    কি দিয়ে বরণ করি ও চরণ নিভিছে জীবন, জীবন–স্বামী।।
    

  • হে নামাজী আমার ঘরে নামাজ পড় আজ

    বাণী

    হে নামাজী! আমার ঘরে নামাজ পড় আজ।
    দিলাম তোমার চরণ-তলে হৃদয় -জায়নামাজ।
    	আমি গুনাহগার বে-খবর,
    	নামাজ পড়ার ন্ই অবসর
    (তব) চরণ-ছোঁয়ায় এই পাপীরে কর সরফরাজ।।
    তোমার ওজুর পানি মোছ আমার পিরান দিয়ে
    আমার এ ঘর হোক মসজিদ তোমার পরশ নিয়ে।
    	যে শয়তানের ফন্দিতে ভাই,
    	খোদায় ডাকার সময় না পাই
    সেই শয়তান যাক দূরে, শুনে তকবীরের আওয়াজ।।
    

  • হে নিঠুর তোমাতে নাই আশার আলো

    বাণী

    হে নিঠুর ! তোমাতে নাই আশার আলো।
    তাই কি তোমার রূপ কৃষ্ণ কালো।।
    তুমি ত্রিভঙ্গ তাই তব সকলি বাঁকা
    চোখে তব কাজলের ছলনা মাখা।
    নিষাদের হাতে বাঁশি সেজেছে ভালো।।
    

    নাটকঃ ‘বিদ্যাপতি’

  • হে পার্থসারথি বাজাও বাজাও

    বাণী

    হে পার্থসারথি! বাজাও বাজাও পাঞ্চজন্য শঙ্খ
    চিত্তের অবসাদ দূর কর কর দূর
    	ভয়–ভীত জনে কর হে নিঃশঙ্ক।।
    ধনুকে টঙ্কার হানো হানো,
    গীতার মন্ত্রে জীবন দানো;
    	ভোলাও ভোলাও মৃত্যু–আতঙ্ক।।
    মৃত্যু জীবনের শেষ নহে নহে —
    শোনাও শোনাও — অনন্ত কাল ধরি’
    অনন্ত জীবন প্রবাহ বহে।
    দুর্মদ দুরন্ত যৌবন–চঞ্চল
    ছাড়িয়া আসুক মা’র স্নেহ–অঞ্চল;
    বীর সন্তানদল করুক সুশোভিত মাতৃ–অঙ্ক।।
    
  • হে প্রিয় নবী রসূল আমার

    বাণী

    হে প্রিয় নবী রসূল আমার
    প’রেছি আভরণ নামেরি তোমার।।
    নয়নের কাজলে তব নাম
    ললাটের টীপে জ্বলে তব নাম
    গাঁথা মম কুন্তলে আহমদ
    বাঁধা মোর অঞ্চলে তব নাম
    দুলিছে গলে মোর তব নাম মণিহার।।
    তাবিজ অঙ্গুরী তব নাম
    বাজু ও পৈচী চুড়ি তব নাম
    ভয়ে ভয়ে পথে পথে ঘুরি যে
    পাছে কেউ করে চুরি তব নাম
    ঐ নাম রূপ মোর ঐ নাম আঁখি ধার।।
    বুকের বেদনা ঢাকা তব নাম
    ধ্যানে মোর জ্ঞানে মোর তুমি যে
    প্রেম-ভক্তি মাখা তব নাম
    প্রিয় নাম আহমদ জপি আমি অনিবার।।
    
  • হে মদিনাবাসী প্রেমিক ধর

    বাণী

    হে মদিনাবাসী প্রেমিক ধর হাত মম॥
    জ্বলওয়া দেখালে দিল হরিলে বন্ধু হলো বেগানা
    হেসে হেসে সংসার কহে দীওয়ানা এ দীওয়ানা॥
    বিরহের এ রাত একেলা কেঁদে হলো ভোর
    হৃদয়ে মোর শান্তি নাহি কাঁদে পরান মোর॥
    দুখের দোসর কেউ নাহি মোর নাই ব্যথী ব্যথার
    তোমায় ভুলে ভাসি অকূলে পার করো সরকার॥
    
  • হে মদিনার নাইয়া

    বাণী

    হে মদিনার নাইয়া!
    ভব-নদীর তুফান ভারি কর মোরে পার
    তোমার দয়ায় ত’রে গেল লাখো গুনাহ্‌গার॥
    পারের কড়ি নাই হে আমার হয়নি নামাজ রোজা
    কূলে এসে বসে আছি নিয়ে পাপের বোঝা
    (আমায়) ‘পার কর ইয়া রসুল’ বলে কাঁদি জারে জার॥
    তোমার নাম গেয়েছি শুধু কেঁদে সুব্‌হ শাম
    তরিবার মোর নাই ত’ পুঁজি বিনা তোমার নাম।
    হাজরো বার দরিয়াতে ডুবে যদি মরি
    ছাড়ব না মোর পারের আশা তোমার চরণ-তরী
    সবার শেষে পার যেন হয় এই খিদ্‌মতগার॥
    
  • হে মদিনার বুলবুলি গো

    বাণী

    হে মদিনার বুলবুলি গো গাইলে তুমি কোন গজল।
    মরুর বুকে উঠল ফুটে প্রেমের রঙিন গোলাপ দল।।
    দুনিয়ার দেশ-বিদেশ থেকে, গানের পাখি উঠল ডেকে
    মুয়াজ্জিনের আজান ধ্বনি উঠল ভেদি গগনতল।।
    সাহারার দগ্ধ বুকে রচ তুমি গুলিস্তান
    সেথা আস্‌হাব সব ভ্রমর হয়ে শাহাদতের গাইল গান।
    দোয়েল কোকিল দলে দলে আল্লা রসূল উঠল ব'লে
    আল্‌ কোরানের পাতার কোলে খোদার নামের বইল ঢল।।
    
  • হে মোর স্বামী অন্তর্যামী

    বাণী

    হে মোর স্বামী, অন্তর্যামী, লহ সকলি আমার।
    লহ প্রীতি-প্রেম-পূজা লহ পায়ে গলার হার।।
    	হে প্রিয়তম, সকলি লহ;
    	মান-অভিমান ব্যথা-বিরহ।
    দুঃখের দাহ, সুখের মোহ লহ হে অশ্রু-ধার।।
    	যাহা কিছু আপন, দিতে যা বাকি
    	যাহা কিছু গোপন, লুকায়ে রাখি
    যাহা কিছু প্রিয় অঞ্চলে ঢাকি; লহ হে বঁধূ এবার।।
    	তোমায় চাওয়ার পাওয়ার আশা,
    	তোমায় না-পাওয়ার ব্যথা-নিরাশা,
    তোমারে দিলাম মোর ভালোবাসা বিফলতা হাহাকার।।
    
  • হেড মাস্টারের ছড়ি সেকেন্ড মাস্টারের দাড়ি

    বাণী

    হেড মাস্টারের ছড়ি, সেকেন্ড মাস্টারের দাড়ি
    থার্ড মাস্টারের টেড়ি, কারে দেখি কারে ছাড়ি।
    হেড-পণ্ডিতের টিকির সাথে ওদের যেন আড়ি।
    	দাঁড়াইয়া ঐ হাই বেঞ্চে
    	হাসি রে মুখ ভেংচে ভেংচে,
    খোঁড়া সেকেন্ড পণ্ডিত যায় লেংচে হুঁকো হাতে বাড়ি
    তার মুখ নয় তেলো হাড়ি, মোর হেসে ছিড়ে যায় নাড়ি।
    

    নাটিকাঃ ‘পুতুলের বিয়ে’

  • হেমন্তিকা এসো এসো হিমেল শীতল বন-তলে

    বাণী

    হেমন্তিকা এসো এসো হিমেল শীতল বন-তলে
    শুভ্র পূজারিণী বেশে কুন্দ-করবী-মালা গলে।।
    	প্রভাত শিশির নীরে নাহি'
    	এসো বলাকার তরণী বাহি'
    সারস মরাল সাথে গাহি' চরণ রাখি' শতদলে।।
    ভরা নদীর কূলে কূলে চাহিছে সচকিতা চখি —
    মানস-সরোবর হ'তে-অলক -লক্ষ্মী এলো কি?
    	আমন ধানের ক্ষেতে জাগে
    	হিল্লোল তব অনুরাগে,
    তব চরণের রঙ লাগে কুমুদে রাঙা কমলে।।
    
  • হেরেমের বন্দিনী কাঁদিয়া ডাকে

    বাণী

    হেরেমের বন্দিনী কাঁদিয়া ডাকে তুমি শুনিতে কি পাও?
    আখেরি নবী প্রিয় আল-আরবি বারেক ফিরে চাও।।
    পিঁজরার পাখি সম অন্ধকারায়
    বন্ধ থাকি' এ জীবন কেটে' যায়;
    কাঁদে প্রাণ ছুটে যেতে তব মদিনায়
    	চরণের এই জিঞ্জির খুলে' দাও।।
    ফতেমার মেয়েদের হেরি' আঁখি-নীর
    বেহেশতে কেমনে আছ তুমি থির!
    যেতে নারি মসজিদে শুনিয়া আজান,
    বাহিরে ওয়াজ হয়, ঘরে কাঁদে প্রাণ
    ঝুটা এই বোরখার হোক অবসান —
    	আঁধারে হেরেমে আশা-আলোক দেখাও।।
    

  • হেলে দুলে চলে বন-মালা গলে

    বাণী

    হেলে দুলে চলে বন-মালা গলে গোঠ-বিহারী বনে বনমালী সাজে।
    বঙ্কিম শিখী পাখা শোভিত অলক চন্দন তিলক ললাটে রাজে।।
    	পথের ধুলি হরি চরণ পরশে
    	হল সুরভিত হরি-চন্দন হরষে,
    নিখিল-ভক্ত-প্রাণ চরণে নূপুর হয়ে রুমু ঝুমু বাজে।।
    	তৃণ নাহি পরশে উচাটন ধেনু সব
    	বংশী-বট-তলে শোনে শ্যাম বেণুরব,
    অপরূপ অভিনব প্রেম অনুভব, জাগে ব্রজ-গোপীকার প্রাণের মাঝে।।