ত্রিতাল

  • কোন্ মহাব্যোমে ধ্বনি ওঠে ওম্

    বাণী

    কোন্ মহাব্যোমে ধ্বনি ওঠে ওম্, আদি আকাশ বাণী।
    কোন্ মহামৌনীর ধ্যান ভাঙে কোন্ বিরহের বীণাপাণি —
    			নাহি জানি নাহি জানি।।
    	নিথর শূন্য অসীমে কোথায়
    	কে সে প্রণব-শঙ্খ বাজায়,
    সেই ধ্বনি বুঝি জ্যোতির্জ্জগতে বাহিরে আনিছে টানি।।
    কোন্ অজানার অলখ-জটায় কথার গঙ্গা কাঁদে
    কোন্ মায়াতীত সুন্দর হ’ল পড়িয়া মায়ার ফাঁদে।
    	কার সাথে এত কথা কহিবার
    	এত সে-গোপন সাধ ছিল তার,
    তাহারি বাঁশরি-ধ্বনির কথা কি ব্রজে হয় কানাকানি।।
    
  • গগনে সঘন চমকিছে দামিনী

    বাণী

    গগনে সঘন চমকিছে দামিনী
    মেঘ-ঘন-রস রিমঝিম বরষে।
    একেলা ভবনে বসি’ বাতায়নে
    পথ চাহে বিরহিণী কামিনী।।
    পূবালি পবন বহে দাদুরি ডাকে,
    অভিসারে চলে খুঁজে’ কাহাকে।
    বৈরাগিনী সাজে উন্মনা যামিনী।।
    

  • গভীর রাতে জাগি খুঁজি তোমারে

    বাণী

    গভীর রাতে জাগি’ খুঁজি তোমারে।
    দূর গগনে প্রিয় তিমির–‘পারে।।
    জেগে যবে দেখি বঁধু তুমি নাই কাছে
    আঙিনায় ফুটে’ ফুল ঝ’রে পড়ে আছে,
    বাণ–বেঁধা পাখি সম আহত এ প্রাণ মম —
    লুটায়ে লুটায়ে কাঁদে অন্ধকারে।।
    মৌনা নিঝুম ধরা, ঘুমায়েছে সবে,
    এসো প্রিয়, এই বেলা বক্ষে নীরবে।
    কত কথা কাঁটা হ’য়ে বুকে আছে বিঁধে
    কত আভিমান কত জ্বালা এই হৃদে,
    দেখে যাও এসো প্রিয় কত সাধ ঝ’রে গেল —
    কত আশা ম’রে গেল হাহাকারে।।
    

    ১. দেখিবে এসো প্রিয়

  • গুঞ্জা মালা গলে কুঞ্জে এসো হে কালা

    বাণী

    গুঞ্জা মালা গলে কুঞ্জে এসো হে কালা
    বনমালী এসো দুলায়ে বনমালা॥
    তব পথে বকুল ঝরিছে উতল বায়ে
    দলিয়া যাবে বলে অকরুণ রাঙা পায়ে
    রচেছি আসন তরুণ তমাল ছায়ে
    পলাশ শিমুলে রাঙা প্রদীপ জ্বালা॥
    ময়ূরে নাচাও তুমি তোমারি নূপুর তালে
    বেঁধেছি ঝুলনিয়া ফুলেল কদম ডালে
    তোম বিনা বনমালী বিফল এ ফুল দোল
    বাঁশি বাজাবে কবে উতলা ব্রজবালা॥
    

  • ঘন গগন ঘিরিল ঘন ঘোর

    বাণী

    ঘন গগন ঘিরিল ঘন ঘোর।
    শাওন-ধারা ঘন-শ্যাম-বরণ চরণ লাগি’ ঝর ঝরে অঝোর্‌।।
    		কুহু কেকা গাছে চম্পা শাখে (গো)
    		বিরহী বেণু ডাকে প্রিয়তমাকে (গো),
    মেঘ-মাঝে খুঁজে ফিরে সৌদামিনী কোথা লুকালো প্রিয়-ঘন চিতচোর।।
    		রহে না মন ঘরে অন্ধকারে
    		অভিসারে যেতে চায় বন-‘পারে,
    ঝুরে মৌন ব্যথায় কাননে কেতকী কাঁদে চিত-চাতকী কোথা শ্যাম কিশোর।।
    

    ১. কাহাকে

  • ঘন ঘোর বরিষণ মেঘ-ডমরু বাজে

    বাণী

    ঘন ঘোর বরিষণ মেঘ-ডমরু বাজে
    শ্রাবণ রজনী আঁধার।
    বেদনা-বিজুরি-শিখা রহি’ রহি’ চমকে
    মন চাহে প্রেম অভিসার॥
    কোথা তুমি মাধব কোথা তুমি শ্যামরায়?
    ঝরিছে নয়ন-বারি অঝোর ধারায়,
    কদম-কেয়া-বনে
    ডাহুকী আনমনে —
    সাথি বিনা কাঁদে অনিবার॥
    
  • ঘুমে জাগরণে বিজড়িত প্রাতে

    বাণী

    ঘুমে জাগরণে বিজড়িত প্রাতে।
    কে এলে সুন্দর আমারে জাগাতে।।
    শাখে শাখে ফুলগুলি হাসিছে নয়ন মেলি’
    শিহরিছে উপবন ফুলেল হাওয়াতে।।
    দেখিনি তোমায় তবু অন্তর কহে,
    ছিলে তুমি লুকায়ে আমার বিরহে।
    চম্পার পেয়ালায় রস উছলিয়া যায় —
    ঝরিয়া পড়ার আগে ধর তা’রে হাতে।।
    
  • ঘোর ঘন ঘটা ছাইল গগন

    বাণী

    ঘোর ঘন ঘটা ছাইল গগন
    ভুবন গভীর বিষাদ মগন।।
    নাহি রবি শশী নাহি গ্রহ তারা
    নিখিল নয়নে শ্রাবণের ধারা
    সৃষ্টি ডুবালো গো’ স্রোতের প্লাবন।।
    

    নাটক: সাবিত্রী

  • চঞ্চল শ্যামল এলো গগনে

    বাণী

    চঞ্চল শ্যামল এলো গগনে।
    নয়ন-পলকে বিজলি ঝলকে চাঁচর অলক ওড়ে পবনে।।
    		রিম্‌ঝিম্‌ বৃষ্টির নূপুর বোলে
    		মৃদঙ্গ বাজে গুরু গম্ভীর রোলে;
    হেরি’ সেই নৃত্য ধরার চিত্ত ডুবু ডুবু বরিষার প্রেম-প্লাবনে।।
    		উদাসী বেণু তার অশান্ত বায়ে
    		বাজে রহি’ রহি’ দূর বনছায়ে;
    আকাশে অনুরাগে ইন্দ্রধনু জাগে ভাবের বন্যা বহে বৃন্দাবনে।।
    
  • চপল আঁখির ভাষায় হে মীনাক্ষী ক’য়ে যাও

    বাণী

    চপল আঁখির ভাষায়, হে মীনাক্ষী ক’য়ে যাও।
    না-বলা কোন্ বাণী বলিতে চাও॥
    	আড়ি পাতে নিঝ্‌ঝুম বন
    	আঁখি তুলি’ চাহিবে কখন,
    আঁখির তিরস্কারে ঐ বন-কান্তারে ফুল ফোটাও॥
    নিটোল আকাশ টোল খায় তোমারি চাওয়ায়, হে মীনাক্ষী,
    নদী-জলে চঞ্চল সফরী লুকায়, হে মীনাক্ষী!
    	ওই আঁখির করুণা
    	ঢালো রাগ অরুণা,
    আঁখিতে আঁখিতে ফুল-রাখি বেঁধে দাও॥
    
  • চমকে চপলা মেঘে মগন গগন

    বাণী

    চমকে চপলা মেঘে মগন গগন।
    গরজিছে রহি’ রহি’ অশনি সঘন।।
    লুকায়েছে গ্রহ-তারা দিবসে ঘনায় রাতি
    শূন্য কুটিরে কাঁদি, কোথায় ব্যথার সাথী,
    ভীত চমকিত-চিত, সচকিত শ্রবণ।।
    
  • চাঁদিনী রাতে মল্লিকা লতা

    বাণী

    চাঁদিনী রাতে মল্লিকা লতা।
    আবার কহিতে চাহে কোন কথা।।
    আবার ভ্রমর-নূপুর বাজে
    কী যেন হারানো হিয়ার মাঝে,
    আবার বেণুর উতলা রবে ব্যাকুল হ’য়ে
    ওঠে গোপন ব্যথা।।
    তনুর পিঞ্জর ভাঙিয়া কেন হায়,
    না-জানা-আকাশে হৃদয় যেতে চায়।
    বায়ুরে ডেকে বলে, বহিতে নারি আর
    যে দিল, তা’রে দিও সুরভি মধু-ভাব,
    কৃপা কর, আমি ঝরিয়া ম’রে যাই
    সহিতে পারি না মাটির মমতা।।
    
  • চৈতালি চাঁদনী রাতে

    বাণী

    চৈতালি চাঁদনী রাতে —
    নব মালতীর কলি মুকুল-নয়ন তুলি’
    নিশি জাগে আমারি সাথে।।
    পিয়াসি চকোরীর দিন-গোনা ফুরালো
    শূন্য-গগনের বক্ষ জুড়ালো
    দক্ষিণ-সমীরণ মাধবী-কঙ্কণ
    	পরায়ে দিল বনভূমির হাতে।।
    চাঁদিনী তিথি এলো, আমারি চাঁদ কেন এলো না;
    বনের বুকের আঁধার গেল গো — মনের আঁধার গেল না।
    এ মধু-নিশি মিলন-মালায়
    কাঁটার মত আমি বিঁধিয়া আছি, হায়!
    সবারই আঁখিতে আলোর দেয়ালি
    	অশ্রু আমারি নয়ন-পাতে।।
    
  • জয় বিগলিত করূণা রূপিণী গঙ্গে

    বাণী

    জয় বিগলিত করূণা রূপিণী গঙ্গে
    জয় কলুষহারিণী পতিতপাবনী
    নিত্যা পবিত্রা যোগী-ঋষি সঙ্গে॥
    হরি শ্রীচরণ ছুঁয়ে আপন-হারা,
    পরম প্রেমে হ’লে দ্রবীভূত ধারা;
    ত্রিলোকের ত্রিতাপ পাপ তুমি নিলে মা,
    নির্মলে, তোমার পবিত্র অঙ্গে॥
    
  • জয় ব্রহ্ম বিদ্যা শিব-সরস্বতী

    বাণী

    জয় ব্রহ্ম বিদ্যা শিব-সরস্বতী।
    জয় ধ্রুব জ্যোতি, জয় বেদবতী।।
    জয় আদি কবি, জয় আদি বাণী
    জয় চন্দ্রচূড়, জয় বীণাপাণি,
    জয় শুদ্ধজ্ঞান শ্রীমূর্তিমতী।।
    শিব! সঙ্গীত সুর দাও, তেজ আশা,
    দেবী! জ্ঞান শক্তি দাও, অমর ভাষা।
    শিব! যোগধ্যান দাও, অনাশক্তি
    দেবী! মোক্ষলক্ষ্মী! দাও পরাভক্তি,
    দাও রস অমৃত, দাও কৃপা মহতী।।
    
  • জাগো নারী জাগো বহ্নি-শিখা

    বাণী

    জাগো নারী জাগো বহ্নি-শিখা।
    জাগো স্বাহা সীমন্তে রক্ত-টিকা।।
    দিকে দিকে মেলি’ তব লেলিহান রসনা,
    নেচে চল উন্মাদিনী দিগ্‌বসনা,
    জাগো হতভাগিনী ধর্ষিতা নাগিনী,
    বিশ্ব-দাহন তেজে জাগো দাহিকা।।
    ধূ ধূ জ্ব’লে ওঠ ধূমায়িত অগ্নি,
    জাগো মাতা, কন্যা, বধূ, জায়া, ভগ্নী!
    পতিতোদ্ধারিণী স্বর্গ-স্খলিতা
    জাহ্নবী সম বেগে জাগো পদ-দলিতা,
    মেঘে আনো বালা বজ্রের জ্বালা
    চির-বিজয়িনী জাগো জয়ন্তিকা।।
    
  • জাগো বিরাট ভৈরব যোগ সমাধি মগ্ন

    বাণী

    জাগো বিরাট ভৈরব যোগ সমাধি মগ্ন।
    ভুবনে আনো নব দিনের শুভ প্রভাত লগ্ন।।
    	অনন্ত শয্যা ছাড়ি’ অলখ লোকে
    	এসো জ্যোতির পথে,
    দেব-লোকের তিমির-কারা-প্রাচীর কর ভগ্ন।।
    ভয়হীন, দ্বিধাহীন উদার আনন্দে,
    তোমার আবির্ভাব হোক প্রবল ছন্দে।
    হোক মানব স্বপ্রাকশ আপন স্বরূপে
    বিরাট রূপে, সফল কর আমার সোহং স্বপ্ন।।
    

    সঙ্গীতালেখ্য : ‘ষট ভৈরব’

  • জাগো মালবিকা জাগো মালবিকা

    বাণী

    জাগো মালবিকা! জাগো মালবিকা!
    ডাকে তোমায় গগন-সীমায় মেঘ-বালিকা।।
    বরষার মিনতি মানো, মেঘপানে ভুরু হানো,
    বন-ডালি ভরি' আনো নীপ-যূথিকা।।
    তব অবগুণ্ঠন খোলো, তমাল ঝুলনায় দোলো,
    তরঙ্গ-লহরি তোলো সাগরিকা।।
    
  • ঝড়ের বাঁশিতে কে গেলে ডেকে

    বাণী

    ঝড়ের বাঁশিতে কে গেলে ডেকে হে তরুণ অশান্ত।
    গুরু গুরু বাজিল মেঘ-মৃদঙ্গ দুলিয়া উঠিল বন-বনান্ত।।
    		সাগর তরঙ্গ মাঝে
    		তব মণি-মঞ্জির বাজে,
    অম্বর ব্যাপিয়া দোলে ধূলি-গৈরিক তব বসন-প্রান্ত।।
    		শাওন-ঘন তব লাবনি
    		বিন্দু বিন্দু ঝরি’ ভরিল অবনী,
    কৃষ্ণ-চূড়ার রাঙা অঞ্জলি ঝরে চঞ্চল তব চরণে হে কান্ত।।
    
  • ঝর ঝর ঝরে শাওন ধারা

    বাণী

    ঝর ঝর ঝরে শাওন ধারা।
    ভবনে এলো মোর কে পথহারা।।
    বিরহ রজনী একেলা যাপি
    সঘনে বহে ঝড় সভয়ে কাঁপি,
    উথলি’ উঠে ঢেউ কুটীরে নাহি কেউ —
    গগনে নাহি মোর চন্দ্রতারা।।
    নিভেছে গৃহদীপ নয়নে বারি,
    আঁধারে তব মুখ নাহি নেহারি।
    তোমার আকুল কুন্তল বাসে
    চেনা দিনের স্মৃতি স্মরণে আসে,
    আজি কি এলে মোর প্রলয়-সুন্দর —
    	ঝলকে বিদ্যুতে আঁখি-ইশারা।।