ত্রিতাল

  • রামছাগী গায় চতুরঙ্গ বেড়ার ধারে

    বাণী

    		রামছাগী গায় চতুরঙ্গ বেড়ার ধারে,
    		গাইয়ে ষাঁড়-সাথে বাছুর হাম্বা রবে — ভীষণ নাদ ছাড়ে,
    		ফেটে বুঝি গেল কান, প্রাণে মারে!
    		শুনিয়া হাই তোলে ভেউ ভেউ রোলে — ভুলোটা পগার পারে।।
    তেলেনা: 		ডিম নেরে, তা দেরে, আমি না রে, তুই দেরে,
    		নেরে ডিম, দেরে তা, তা দেনা,
    		ওদের না না, তাদের না না তুই দেরে ডিম!
    		ওদের নারী তাদের নারী দেদার নারী,
    		দে রে নারী, যা ধেৎ, টানাটানি!
    সরগম:	 	ধ প র ধ র গ, গ র গ ধ, গ র গ ধ,
    		ন ধ ম ম, প র ন ম র গ, স র ন ধ স ম।।
    তবলার বোল: 	ভেগে যা, মেগে খা, মেরে কেটে খা, মেরে কেটে খা’
    		তেড়ে ধরে কাট ধুম, ধরে কেটে রাখুন না রাখুন না,
    		কান দুটি যাক তবু কাটা থাক দুম।।
    

    ‘চতুরঙ্গ’

  • রিনিকি ঝিনিকি ঝিনিরিনি রিনি ঝিনিঝিনি বাজে

    বাণী

    রিনিকি ঝিনিকি ঝিনিরিনি রিনি ঝিনিঝিনি বাজে পায়েলা বাজে
    নওল কিশোরী ধায় অভিসারে ভবন তেয়াগি' বন-মাঝে।।
    	বারণ করে তায়
    	লতিকা ধরি' পায়
    ভাব-বিলাসিনী না মানে গুরুজন-ভয় লাজে।।
    আবেশ বিহ্বল এলোমেলো কুন্তল ছায়া-নটিনী চলে
    মধুকর গুঞ্জে মাধবী কুঞ্জে কুসুম দীপালি জ্বলে।
    	সে রূপ হেরি' হায়
    	মুরলী থামিয়া যায়
    পথ-ভোলা শশী কাননে এলো যেন রাধা-সাজে।।
    

  • রুম ঝুম রুম ঝুম কে বাজায়

    বাণী

    রুম্ ঝুম্ রুম ঝুম্ কে বাজায় জল-ঝুম্‌ঝুমি।
    চমকিয়া জাগে ঘুমন্ত বনভূমি ॥
    		দুরন্ত অরণ্যা গিরি- নির্ঝরিণী
    		রঙ্গে সঙ্গে ল’য়ে বনের হরিণী,
    শাখায় শাখায় ঘুম ভাঙায় ভীরু মুকুলের কপোল চুমি’ ॥
    কুহু-কুহু কুহরে পাহাড়ি কুহু পিয়াল-ডালে,
    পল্লব-বীণা বাজায় ঝিরিঝিরি সমীরণ তা’রি তালে তালে।
    		সেই জল-ছলছল সুরে জাগিয়া
    		সাড়া দেয় বন-পারে বাঁশি রাখালিয়া১’,
    পল্লীর প্রান্তর ওঠে শিহরি’ বলে —  ‘চঞ্চলা কে গো তুমি’ ॥
    

    ১. ‘বউ কথা কও কোকিল পাপিয়া’ পঙক্তিটি অতিরিক্ত আছে।

  • রুম্‌ ঝুম্‌ ঝুম্ ঝুম্ নূপুর বোলে

    বাণী

    রুম্ ঝুম্ ঝুম্ ঝুম্ নূপুর বোলে
    বন-পথে যায় কে বালিকা, গলে শেফালিকা,
    		মালতী মালিকা দোলে॥
    চম্পা মুকুলগুলি চাহে নয়ন তুলি’
    নাচে নট-বিহগ শিখী তরুতলে॥
    
  • রুম্ ঝুম্ বাদল আজি বরষে

    বাণী

    রুম্ ঝুম্ বাদল আজি বরষে
    আকুল শিখি নাচে ঘন দরশে॥
    বারির দরশনে আজি ক্ষণে ক্ষণে
    নব নীরদ শ্যাম রূপে পড়ে মনে
    না-জানি কোন্ দেশে কোন্ প্রিয়া সনে
    রয়েছে ভুলিয়া নটবর সে॥
    
  • রূপের কুমার জাগো নিশি হয় অবসান

    বাণী

    রূপের কুমার জাগো, নিশি হয় অবসান।
    গাহিছে আলোক কুমারীরা, শোন ঘুম-ভাঙানিয়া গান।।
    	তুমি জাগিছ না বলি’
    	ফোটে না আলোর কলি,
    তব ঘুমন্ত আঁখির পাতায় ঘুমায় আলোর প্রাণ।।
    

    নাটিকাঃ ‌‘লায়লী-মজনু’

  • শান্ত হও শিব বিরহ-বিহ্বল

    বাণী

    শান্ত হও, শিব, বিরহ-বিহ্বল
    চন্দ্রলেখায় বাঁধো জটাজুট পিঙ্গল।।
    ত্রি-বেদ যাহার দিব্য ত্রিনয়ন
    শুদ্ধ-জ্ঞান যা’র অঙ্গ-ভূষণ,
    সেই ধ্যানী শম্ভু — কেন শোক-উতল।।
    হে লীলা-সুন্দর, কোন্ লীলা লাগি’,
    কাঁদিয়া বেড়াও হ’য়ে বিরহী-বিবাগী।
    হে তরুণ যোগী, মরি ভয়ে ভয়ে
    কেন এ মায়ার খেলা মায়াতীত হ’য়ে,
    লয় হবে সৃষ্টি — তুমি হলে চঞ্চল।।
    
  • শিব-অনুরাগিণী গৌরী জাগে

    বাণী

    শিব-অনুরাগিণী গৌরী জাগে।
    আঁখি অনুরঞ্জিত প্রেমানুরাগে।।
    	স্বপনে কি শিব এসে
    	বর দিল বর-বেশে,
    বালিকা বলিতে নারে, শরম লাগে।।
    ‘কি হয়েছে উমা তোর’ — গিরিরানী সাধে,
    কে মাখালো কুম্‌কুম্‌ ভোরের চাঁদে?
    	লুকায় মায়ের বুকে
    	বলিতে বাধে মুখে,
    পাগল শিব ঐ রূপ-ভিক্ষা মাগে।।
    
  • শুভ্র সমুজ্জ্বল হে চির–নির্মল

    বাণী

    শুভ্র সমুজ্জ্বল, হে চির–নির্মল শান্ত অচঞ্চল ধ্রুব–জ্যোতি
    অশান্ত এ চিত কর হে সমাহিত সদা আনন্দিত রাখো মতি।।
    দুঃখ–শোক সহি অসীম সাহসে
    অটল রহি যেন সম্মানে যশে
    তোমার ধ্যানের আনন্দ–রসে
    	নিমগ্ন রহি হে বিশ্বপতি।।
    মন যেন না টলে খল কোলাহলে, হে রাজ–রাজ!
    অন্তরে তুমি নাথ সতত বিরাজ, হে রাজ–রাজ!
    বহে তব ত্রিলোক ব্যাপিয়া, হে গুণী,
    ওঙ্কার–সংগীত–সুর–সুরধুনী,
    হে মহামৌনী, যেন সদা শুনি
    	সে সুরে তোমার নীরব আরতি।।
    
  • শ্মশানে জাগিছে শ্যামা

    বাণী

    শ্মশানে জাগিছে শ্যামা
    	অন্তিমে সন্তানে নিতে কোলে
    জননী শান্তিময়ী বসিয়া আছে ঐ
    	চিতার আগুণ ঢেকে স্নেহ–আঁচলে।
    সন্তানে দিতে কোল ছাড়ি’ সুখ কৈলাস
    বরাভয় রূপে মা শ্মশানে করেন বাস,
    কি ভয় শ্মশানে শান্তিতে যেখানে
    	ঘুমাবি জননীর চরণ–তলে।।
    জ্বলিয়া মরিলি কে সংসার জ্বালায়
    তাহারে ডাকিছে মা ‘কোলে আয়, কোলে আয়’
    জীবনে শ্রান্ত ওরে ঘুম পাড়াইতে তোরে
    	কোলে তুলে নেয় মা মরণেরি ছলে।।
    
  • শ্যাম-সুন্দর-গিরিধারী

    বাণী

    শ্যাম-সুন্দর-গিরিধারী।
    মানস মধু-বনে মধুমাধবী সুরে মুরলী বাজাও বনচারী।।
    মধুরাতে হে হৃদয়েশ মাধবী চাঁদ হয়ে এসো,
    হৃদয়ে তুলিও ভাবেরই উজান রস-যমুনা-বিহারী।।
    অন্তর মন্দিরে প্রীতি ফুলশয্যায় বিলাস কর লীলা-বিলাসী,
    আঁখির প্রদীপ জ্বালি' শিয়রে জাগিয়া রব শ্যাম, তব রূপ-পিয়াসি।
    যত সাধ আশা গেল ঝরিয়া, পর তাই গলে মালা করিয়া;
    নূপুর করিব তব চরণে গাঁথি' মম নয়নের বারি।।
    
  • শ্যামা তোর নাম যার জপমালা

    বাণী

    শ্যামা তোর নাম যার জপমালা তার কি মা ভয় ভাবনা আছে।
    দুঃখ-অভাব-রোগ-শোক-জরা লুটায় মা তার পায়ের কাছে॥
    	যার চিত্ত নিবেদিত তোর চরণে
    	ওমা কি ভয় তাহার জীবনে মরণে।
    যেমন খেলে শিশু মায়ের সম তোর অভয় কোলে সে তেমনি নাচে॥
    	রক্ষামন্ত্র যার শ্যামা তোর নাম,
    	সকল বিপদ তারে করে প্রণাম।
    	সদা প্রসন্ন মন তার ধ্যানে মা তোর,
    	ভূমানন্দে মা গো রহে সে বিভোর।
    তার নিকটে আসিতে নারে কালো কঠোর তব নাম প্রসাদ সে লভিয়াছে॥
    
  • শ্যামা-তন্বী আমি মেঘ-বরণা

    বাণী

    শ্যামা-তন্বী আমি মেঘ-বরণা।
    দৃষ্টিতে১ বৃষ্টির ঝরে ঝরনা।।
    অম্বরে জলদ মৃদঙ্গ বাজাই 
    কদম-কেয়ায় বন-ডালা সাজই, 
    হাসে শস্যে পুষ্পে ধরা নিরাভরণা।।
    পুবালি হাওয়ায় ওড়ে কালো কুম্ভল
    বিজলি ও মেঘ — মুখে হাসি চোখে জল,
    রিমিঝিমি নেচে যাই চল-চরণা।।
    

    ১. মোর দৃষ্টিতে

  • শ্রীকৃষ্ণ রূপের করো ধ্যান অনুক্ষণ

    বাণী

    শ্রীকৃষ্ণ রূপের করো ধ্যান অনুক্ষণ
    হবে নিমেষে সংসার-কালীয় দমন।।
    	নব-জলধর শ্যাম
    	রূপ যাঁর অভিরাম
    (যাঁর)	আনন্দ ব্রজধাম লীলা নিকেতন।।
    বিদ্যুৎ - বর্ণ পীতান্বরধারী,
    বনমালা-বিভূষিত মধুবনারী;
    গোপ-সখা গোপী-বঁধু মনোহারী
    নওল-কিশোর তনু মদনমোহন।।
    
  • সতী–হারা উদাসী ভৈরব কাঁদে

    বাণী

    সতী–হারা উদাসী ভৈরব কাঁদে।
    বিষাণ ত্রিশূল ফেলি’ গভীর বিষাদে।।
    	জটাজুটে গঙ্গা
    	নিস্তরঙ্গা,
    রাহু যেন গ্রাসিয়াছে ললাটের চাঁদে।।
    দুই করে দেবী–দেহ ধরি’ বুকে বাঁধে,
    রোদনের সুর বাজে প্রণব–নিনাদে।
    ভক্তের চোখে আজি ভগবান শঙ্কর —
    সুন্দরতর হ’ল – পড়ি’ মায়া ফাঁদে।।
    
  • সন্ধ্যা-গোধূলি লগনে কে

    বাণী

    সন্ধ্যা–গোধূলি লগনে কে
    রাঙিয়া উঠিলে কারে দেখে।।
    হাতের আলতা পড়ে গেল পায়ে
    অস্ত–দিগন্ত বনান্ত রাঙায়ে,
    আঁখিতে লজ্জা, অধরে হাসি —
    কেন অঞ্চলে মালা ফেলিলে ঢেকে।।
    চিরুনি বিনোদ বিনুনীতে বাঁধে
    দেখিলে সে কোন সুন্দর চাঁদে,
    হৃদয়ে ভীরু প্রদীপ শিখা
    কাঁপে আনন্দে থেকে থেকে।।
    

  • সন্ধ্যামালতী যবে ফুলবনে ঝুরে

    বাণী

    সন্ধ্যামালতী যবে ফুলবনে ঝুরে
    কে আসি’ বাজালে বাঁশি ভৈরবী সুরে।।
    সাঁঝের পূর্ণ চাঁদে অরুণ ভাবিয়া
    পাপিয়া প্রভাতী সুরে উঠিল গাহিয়া
    ভোরের কমল ভেবে সাঁঝের শাপলা ফুলে
    	গুঞ্জরে ভ্রমর ঘুরে’ ঘুরে’।।
    বিকালের বিষাদে ঢাকা ছিল বনভূমি
    সকালের মল্লিকা ফুটাইলে তুমি,
    রাঙিয়া ঊষার রঙে গোধূলি-লগন
    	শোনালে আশার বাণী বিরহ-বিধুরে।।
    
  • সেদিন অভাব ঘুচবে কি মোর যেদিন তুমি

    বাণী

    সেদিন অভাব ঘুচবে কি মোর যেদিন তুমি আমার হবে
    আমার ধ্যানে আমার জ্ঞানে প্রাণ মন মোর ঘিরে রবে।।
    	রইবে তুমি প্রিয়তম
    	আমার দেহে আত্মা-সম
    জানি না সাধ মিটবে কি-না -  তেমন করেও পাব যবে।।
    পাওয়ার আমার শেষ হবে না পেয়েও তোমায় বক্ষতলে
    সাগর মাঝে মিশে গিয়েও নদী যেমন ব’য়ে চলে।
    	চাঁদকে দেখে পরান জুড়ায়
    	তবু দেখার সাধ কি ফুরায়
    মিটেছেল সাধ কি রাধার নিত্য পেয়েও নীল-মাধবে।।
    
  • সো’জা সো’জা সো’জা জগ নরনারী

    বাণী

    সো’জা সো’জা সো’জা জগ নরনারী
    বাদল গ্যর‍্যজো বিজলি চ্যম্যকে
    র‍্যজ্যনী হো রহ্ আঁধিয়ারী।।
    

    নাটিকাঃ ‘জন্মষ্টমী’

  • স্বপনে এসেছিল মৃদু-ভাষিণী

    বাণী

    স্বপনেএসেছিল মৃদু-ভাষিণী
    মৃদু-ভাষিণী মধু-হাসিনী।
    রূপের তৃষা মোর রূপ ধ'রে এসেছিল
    কল্পনা মনোবন-বাসিনী।।
    যে পরম সুন্দর আছে মোর অন্তরে
    তারি অভিসারে আসে উদাসিনী।।