ত্রিতাল

  • তোমার বিনা-তারের গীতি

    বাণী

    তোমার বিনা-তারের গীতি বাজে আমার বীণা-তারে
    রইল তোমার ছন্দ-গাথা গাঁথা আমার কণ্ঠ-হারে।।
    কি কহিতে চাও হে গুণী, আমি জানি আমি শুনি
    কান পেতে রই তারার সাথে তাই তো দূর গগন-পারে।।
    পালিয়ে বেড়াও উদাস হাওয়া গোপন কথার ফুল ফুটিয়ে গো
    আমি তারে মালা গেঁথে লুকিয়ে রাখি বক্ষে নিয়ে গো।
    হয়তো তোমার কথার মালা, কাঁটার মত করবে জ্বালা
    সেই জ্বালাতেই জ্বলবে আমার প্রেমের শিখা অন্ধকারে।।
    
  • তোমার বীণার মূর্ছনাতে বাজাও

    বাণী

    তোমার বীণার মূর্ছনাতে বাজাও আমার বাণী।
    তোমার সুরে শোনাও আমার গানের আধেকখানি।।
    	শুনব শুধু তোমার কথা
    	এবার আমার নীরবতা,
    আমার সুরের ছবি আঁকুক তোমার পদ্মপাণি।।
    
  • ত্রিংশ কোটি তব সন্তান ডাকে তোরে

    বাণী

    ত্রিংশ কোটি তব সন্তান ডাকে তোরে
    ভুলে আছিস দেশ জননী কেমন ক’রে॥
    ব্যথিত বুকে মাগো তোমার মন্দির গড়ি
    করি পূজা আরতি মাগো যুগ যুগ ধরি’
    ধূপ পুড়িয়া মাগো চন্দন শুকায়ে যায়
    এসো মা এসো পুন রানীর মুকুট প’রে॥
    দুঃখের পসরা মা আর যে বহিতে নারি
    কাঁদিয়া কাঁদিয়া শুকায়েছে আঁখি-বারি
    এ গ্লানি লাজ মাগো সহিতে নাহি পারি
    বিশ্ব বন্দিতা এসো দুখ-নিশি-ভোরে॥
    অতীত মহিমা ল’য়ে এসো মহিমাময়ী
    হীনবল সন্তানে কর মা ভুবনজয়ী
    দুখ তপস্যা মা কবে তব হবে শেষ
    আয় মা নব আশা রবির প্রদীপ ধ’রে॥
    
  • দক্ষিণ সমীরণ সাথে বাজো বেণুকা

    বাণী

    দক্ষিণ সমীরণ সাথে বাজো বেণুকা।
    মধু-মাধবী সুরে চৈত্র-পূর্ণিমা রাতে, বাজো বেণুকা।।
    বাজো		শীর্ণা-স্রোত নদী-তীরে
    		ঘুম যবে নামে বন ঘিরে’
    যবে		ঝরে এলোমেলো বায়ে ধীরে ফুল-রেণুকা।।
    		মধু মালতী-বেলা-বনে ঘনাও নেশা
    		স্বপন আনো জাগরণে মদিরা মেশা।
    			মন যবে রহে না ঘরে
    			বিরহ-লোকে সে বিহরে
    		যবে নিরাশার বালুচরে ওড়ে বালুকা।।
    
  • দূর বেণুকুঞ্জে বাজে মুরলী মুহু মুহু

    বাণী

    দূর বেণুকুঞ্জে বাজে মুরলী মুহু মুহু
    	যেন বারে বারে
    	ডাকে আমারে
    বাঁশুরিয়ার মধুর সুরের কুহু।।
    

  • দোলন চাঁপা বনে দোলে

    বাণী

    দোলন চাঁপা বনে দোলে —
    	দোল-পূর্ণিমা-রাতে চাঁদের সাথে।
    শ্যাম পল্লব কোলে যেন দোলে রাধা
    	লতার দোলনাতে॥
    যেন দেব-কুমারীর শুভ্র হাসি
    ফুল হয়ে দোলে ধরায় আসি’
    আরতির মৃদু জ্যোতি প্রদীপ-কলি
    	দোলে যেন দেউল-আঙিনাতে॥
    বন-দেবীর ওকী রুপালি ঝুমকা
    	চৈতি সমীরণে দোলে —
    রাতের সলাজ আঁখি-তারা
    	যেন তিমির আঁচলে।
    ও যেন মুঠিভরা চন্দন-গন্ধ
    দোলে রে গোপিনির গোপন আনন্দ,
    ও কী রে চুরি করা শ্যামের নূপুর —
    	চন্দ্র-যামিনীর মোহন হাতে॥
    
  • ধীরে ধীরে আসি'

    বাণী

    (সে) ধীরে ধীরে আসি'
    আধো ঘুমে বাজাল বাঁশি।
    	ফুল-রাখি দিল বাঁধি হাসি।।
    জাগিয়া নিশি-ভোরে
    না হেরি বাঁশির কিশোরে,
    	চাঁদ-তরী বেয়ে গেল ভাসি।।
    
  • ধুলি-পিঙ্গল জটাজুট মেলে

    বাণী

    	ধূলি-পিঙ্গল জটাজুট মেলে।
    	আমার প্রলয় সুন্দর এলে॥
    	পথে-পথে ঝরা কুসুম ছাড়ায়ে
    	রিক্ত শাখায় কিশলয় জড়ায়ে,
    	গৈরিক উত্তরী গগনে উড়ায়ে —
    	রুদ্ধ ভবনের দুয়ার ঠেলে॥
    	বৈশাখী পূর্ণিমা চাঁদের তিলক
    		তোমারে পরাব,
    মোর 	অঞ্চল দিয়া তব জটা নিঙাড়িয়া
    		সুরধুনী ঝরাব।
    	যে-মালা নিলে না আমার ফাগুনে
    	জ্বালা তারে তব রূপের আগুনে,
    	মরণ দিয়া তব চরণ জড়াব
    	হে মোর উদাসীন, যেয়ো না ফেলে॥
    
  • নয়ন মুদিল কুমুদিনী হায়

    বাণী

    		নয়ন মুদিল কুমুদিনী হায়!
    		তাহার ধ্যানের চাঁদ ডুবে যায়।।
    		ভরিল সরসী তা’রি আঁখি-জলে
    		ঢলিয়া পড়িল পল্লব-তলে,
    অকরুণ নিষাদের তীর সম অরুণ-কিরণ বেঁধে এসে গায়।।
    		কপোলের শিশির অভিমানে শুকালো,
    		পাপড়ির আড়ালে পরাগ লুকাল।
    		সরসীর জলে পড়ে আকাশের ছায়া
    		নাই সেথা তারা-দল, চাঁদের মায়া,
    জলে ডুবে মেটে না প্রাণের তৃষা হৃদয়ের মধু তার হৃদয়ে শুকায়।।
    
  • নাচে নটরাজ মহাকাল

    বাণী

    নাচে নটরাজ, মহাকাল।
    অম্বর ছাপিয়া পড়ে লুটাইয়া আলো-ছায়ার বাঘ-ছাল।।
    কালো সিন্ধু জলে তাথৈ তাথৈ রব
    শুনি সেই নৃত্যের নাচে মহাভৈরব
    বিষাণ মন্দ্রে বাজে মাভৈঃ মাভৈঃ রব
    প্রাণ পেয়ে জেগে ওঠে মৃত কঙ্কাল।।
    গঙ্গা তরঙ্গে অপরূপ রঙ্গে
    ছন্দ জাগে সেই নৃত্য-বিভঙ্গে
    জোছনা আশিস-ধারা ঝরে চরাচরে
    ছাপিয়া ললাট শশী ভাল।।
    
  • নারায়ণী উমা খেলে হেসে হেসে

    বাণী

    নারায়ণী উমা খেলে হেসে হেসে
    হিম-গিরির বুকে পাহাড়ি বালিকা বেশে॥
    গিরি-গুহা হতে জ্যোতির ঝরনা ছুটে চলে যেন চল ঝরনা,
    তুষার-সায়রে সোনার কমল যেন বেড়া ভেসে।
    			— খেলে হেসে হেসে।
    মাধবী চাঁদ ওঠে কৈলাস-চূড়ে,
    খেলা ভুলিয়া যায়, অনিমেষ চোখে চায়
    পাষাণ প্রতিমা প্রায় সেই সুদূরে।
    সতী-হারা যোগী পাগল শঙ্করে
    মনে পড়িয়া তার নয়নে বারি ঝরে,
    শিব-সীমন্তনী পাগলিনী প্রায় ‘শিব শিব’ বলে ধায় মুক্তকেশে॥
    
  • নিপীড়িতা পৃথিবী ডাকে

    বাণী

    নিপীড়িতা পৃথিবী ডাকে জাগো চন্ডিকা মহাকালি।
    মৃতের শ্মশানে নাচো মৃত্যুঞ্জয়ী মহাশক্তি দনুজ-দলনী করালি॥
    		প্রাণহীন শবে শিব-শক্তি জাগাও
    		নারায়ণের যোগ-নিদ্রা ভাঙাও
    অগ্নিশিখায় দশদিক রাঙাও বরাভয়দায়িনী নৃমুন্ডমালি॥
    শ্রী চন্ডিতে তোরই শ্রীমুখের বাণী
    কলিতে আবির্ভাব হবে তোর ভবানী।
    		এসেছে কলি, কালিকা এলি কই
    		শুম্ভ-নিশুম্ভ জন্মেছে পুন ঐ
    অভয়বাণী তব মাভৈঃ মাভৈঃ শুনিব কবে মাগো খর করতালি॥
    
  • নিরজন ফুলবন এসো প্রিয়া

    বাণী

    নিরজন ফুলবন, এসো প্রিয়া
    রহি’ রহি’ বলে কোয়েলিয়া।।
    পথ পানে চাহি, নাহি নিদ নাহি
    ঝরা ফুল জড়ায়ে ঝুরে হিয়া।।
    
  • নিশি নিঝুম ঘুম নাহি আসে

    বাণী

    নিশি নিঝুম ঘুম নাহি আসে,
    হে প্রিয়, কোথা তুমি দূর প্রবাসে।।
    বিহগী ঘুমায় বিহগ–কোলে,
    ঘুমায়েছে ফুলমালা শ্রান্ত আঁচলে;
    ঢুলিছে রাতের তারা চাঁদের পাশে।।
    ফুরায় দিনের কাজ, ফুরায় না রাতি,
    শিয়রের দীপ হায় অভিমানে নিভে যায়
    নিভিতে চাহে না নয়নের বাতি।
    কহিতে নারি কথা তুলিয়া আঁখি
    বিষাদ–মাখা মুখ গুন্ঠনে ঢাকি’
    দিন যায় দিন গুণে, নিশি যায় নিরাশে।।
    

  • নীলাম্বরী শাড়ি পরি নীল যমুনায়

    বাণী

    নীলাম্বরী–শাড়ি পরি’ নীল যমুনায় কে যায়?
    যেন জলে চলে থল–কমলিনী ভ্রমর নূপুর হয়ে বোলে পায় পায়।।
    		কলসে কঙ্কনে রিনিঠিনি ঝনকে,
    		চমকায় উন্মন চম্পা বনকে,
    দলিত অঞ্জন নয়নে ঝলকে, পলকে খঞ্জন হরিণী লুকায়।।
    অঙ্গের ছন্দে পলাশ–মাধবী অশোক ফোটে,
    নূপুর শুনি’ বনতুলসীর মঞ্জরী উলসিয়া ওঠে।
    		মেঘ–বিজড়িত রাঙা গোধূলি
    		নামিয়া এলো বুঝি পথ ভুলি,
    তাহার অঙ্গ তরঙ্গ–বিভঙ্গে কুলে কুলে নদী জল উথলায়।।
    
  • নূপুর মধুর রুনুঝুনু বোলে

    বাণী

    নূপুর মধুর রুনুঝুনু বোলে।
    মন-গোকুলে রুনুঝুনু বোলে।।
    	কূলের বাঁধন টুটে,
    	যমুনা উথলি' ওঠে,
    পুলকে কদম ফোটে পেখম খোলে
    	শিখী পেখম খোলে।।
    ব্রজনারী কুল ভুলে'
    	লুটায় সে পদমুলে
    চোখে জল, বুকে প্রেম- তরঙ্গ দোলে।।
    	শ্রীমতি রাধারই সাথে
    	বিশ্ব ছুটেছে পথে,
    হরি হরি ব'লে মাতে ত্রিভুবন ভোলে।
    	নামে ত্রিভুবন ভোলে।।
    

  • পায়েলা বোলে রিনিঝিনি

    বাণী

    পায়েলা বোলে রিনিঝিনি।
    নাচে রূপ-মঞ্জরি শ্রীরাধার সঙ্গিনী।।
    	ভাব-বিলাসে
    	চাঁদের পাশে,
    ছড়ায়ে তারার ফুল নাচে যেন নিশীথিনী।।
    নাচে উড়ায়ে নীলাম্বরী অঞ্চল,
    মৃদু মৃদু হাসে আনন্দ রাসে শ্যামল চঞ্চল।
    কভু মৃদুমন্দ
    কভু ঝরে দ্রুত তালে সুমধুর ছন্দ,
    বিরহের বেদনা মিলন-আনন্দ —
    ফোটায় তনুর ভঙ্গিমাতে ছন্দ-বিলাসিনী।।
    
  • পিউ পিউ পিউ বোলে পাপিয়া

    বাণী

    পিউ পিউ পিউ বোলে পাপিয়া
    বুকে তারি পিয়ারে চাপিয়া।।
    বাতাবি নেবুর ফুলেলা কুঞ্জে
    মাতাল সমীরণ প্রলাপ গুঞ্জে
    ফুলের মহলায় চাঁদিনী শিহরায়
    নদীকূলে ঢেউ ওঠে ছাপিয়া।।
    এমনি নেবু ফুল এমনি মধুরাতে
    পরাতো বঁধু মোর বিনোদ খোঁপাতে,
    বাতায়নে পাখি করিত ডাকাডাকি
    মনে পড়ে তায় উঠি কাঁপিয়া।।
    
  • পিউ পিউ বিরহী পাপিয়া বোলে

    বাণী

    পিউ পিউ বিরহী পাপিয়া বোলে;
    কৃষ্ণচূড়া বনে ফাগুন সমীরণে
    ঝুরে ফুল বন পথতলে॥
    নিশি পোহায়ে যায় কাহার লাগি
    নয়নে নাহি ঘুম বসিয়া জাগি
    আমারই মত হায় চাহিয়া আশা পথ
    নিশীথের চাঁদ পড়ে গগনে ঢলে॥
    
  • পিউ পিউ বোলে পাপিয়া

    বাণী

    পিউ পিউ বোলে পাপিয়া
    ফাল্গুন উন্মন বন ব্যাপিয়া।।
    বিরহিনী মন বিহগী —
    ওরি সাথে কাঁদে,একা
    ঘরে নিশি জাগিয়া।।