ত্রিতাল

  • ভবনে আসিল অতিথি সুদূর

    বাণী

    ভবনে আসিল অতিথি সুদূর।
    সহসা উঠিল বাজি রুমু রুমু ঝুম
    	নীরব অঙ্গনে চঞ্চল নূপুর।।
    মুহু-মুহু বন-কুহু বোলে
    দোয়েল ধ্যান ভুলি চমকি আঁখি খোলে
    	কে গো কে বলে বন-ময়ূর।।
    দগ্ধ হিয়ার জ্বালা জুড়ায়ে
    সজল মেঘের শীতল চন্দন কে দিল বুলায়ে?
    বকুল কেয়া বীথি হ'তে
    ছুটে এলো সমীরণ চঞ্চল স্রোতে
    চাঁদিনী নিশীথের আবেশ আনে
    	মিলন তন্দ্রাতুর অলস-দুপুর।।
    
  • ভারতলক্ষ্মী মা আয় ফিরে এ ভারতে

    বাণী

    ভারতলক্ষ্মী মা আয় ফিরে এ ভারতে
    ব্যথায় মোদের চরণ ফেলে অরুণ আশার সোনার রথে॥
    অশ্রু গঙ্গার জলে ধুই মা তোর চরণ নিতি
    ত্রিশ কোটি কণ্ঠে বাজে রোদনে তোর বোধনগীতি
    আয় মা দলিত রাঙা হৃদয় বিছানো পথে॥
    বিজয়া তোর হ’ল কবে শতাব্দী চলিয়া যায়
    ভারত-বিজয়-লক্ষ্মী ভারতে ফিরিয়া আয়
    বিসর্জনের কান্না মা এবার তুই এসে থামা
    সফল কর এ তপস্যা মা স্থান দে স্বাধীন জগতে॥
    
  • ভোরে ঝিলের জলে শালুক-পদ্ম

    বাণী

    ভোরে ঝিলের জলে শালুক-পদ্ম তোলে কে
    		ভ্রমর-কুন্তলা কিশোরী
    ফুল দেখে বেভুল সিনান বিসরি’।।
    একি নূতন লীলা আঁখিতে দেখি ভুল
    কমল ফুল যেন তোলে কমল ফুল
    ভাসায়ে আকাশ-গাঙে অরুণ-গাগরি।।
    ঝিলের নিথর জলে আবেশে ঢল ঢল
    গ’লে পড়ে শত সে তরঙ্গে,
    শারদ-আকাশে দলে দলে আসে
    মেঘ, বলাকার খেলিতে সঙ্গে।
    আলোক-মঞ্জরি প্রভাত বেলা
    বিকশি’ জলে কি গো করিছে খেলা
    বুকের আঁচলে ফুল উঠিছে শিহরি’।।
    
  • ভোরের হাওয়া এলে

    বাণী

    ভোরের হাওয়া এলে ঘুম ভাঙাতে কি
    		চুম হেনে নয়ন-পাতে।
    ঝিরি ঝিরি ধীরি ধীরি কুণ্ঠিত ভাষা
    		গুণ্ঠিতারে শুনাতে॥
    হিম-শিশিরে মাজি’ তনুখানি
    ফুল-অঞ্জলি আন ভরি’ দুই পাণি,
    ফুলে ফুলে ধরা যেন ভরা ফুলদানি
    		বিশ্ব-সুষমা সভাতে॥
    
  • মধুর নূপুর রুমুঝুমু বাজে

    বাণী

    মধুর নূপুর রুমুঝুমু বাজে।
    কে এলে মনোহর নটবর-সাজে।।
    নিশীথের ফুল ঝরে রাঙা পায়ে
    মাধবী রাতের চাঁদ এলে কি লুকায়ে,
    'পিয়া পিয়া' ব'লে পাখি ডাকে বন-মাঝে।।
    
  • মম তনুর ময়ূর-সিংহাসনে

    বাণী

    মম তনুর ময়ূর-সিংহাসনে এসো রূপকুমার ফর্‌হাদ্‌।
    (মোর)ঘুম যবে ভাঙিল, প্রিয়, গগনে ঢলিয়া পড়িল চাঁদ।।
    আমি শিঁরি – হেরেমের১ নন্দিনী গো
    ছিনু অহঙ্কারের কারা-বন্দিনী গো,
    ভেবেছিনু তুমি শুধু রূপের পাগল —
    বুঝি নাই কা’রে বলে প্রেম-উন্মাদ।।
    গিরি-পাষাণে আঁকিলে তুমি যে ছবি মম, দিলে যে মধু,
    সেই মধু চেয়ে, সেই শিলা বুকে ল’য়ে কাঁদি,
    ফিরে এসো, ফিরে এসো বঁধু।
    ল’য়ে যাও সেই প্রেম-লোকে, বিরহী
    কাঁদিছে যথায় ‘শিঁরি শিঁরি’ কহি’—
    আজ ভরিয়াছে বিষাদের বিলাপে গোলাপের সাধ।।
    

    ১. বাদশাহ

  • মম প্রাণ-শতদল হোক প্রণামী-কমল

    বাণী

    মম প্রাণ-শতদল হোক প্রণামী-কমল (ওগো) তব চরণে
    আমার এ হৃদয় নাথ হোক তন্ময় তোমারি স্বরণে তোমারি স্বরণে॥
    তব পূজার বেদী হোক আমার এ মন
    হোক্ আরতি-প্রদীপ মোর এ দুটি নয়ন
    নাথ, লহ মোরে পায় তোমারি সেবায় জীবনে-মরণে॥
    মম দুঃখে সুখে মম তৃষিত বুকে তুমি বিরাজ,
    মোর সকল কাজে বীণা-বেণু সম নিশিদিন বাজো॥
    মোর দেহখানি, নাথ চন্দন প্রায়
    হোক্ ক্ষয় তব মন্দির-পাষাণ-শিলায়,
    পাই যেন লয়, নাথ, তব সৃষ্টির রূপে বরণে॥
    
  • মম মধুর মিনতি শোন ঘনশ্যাম

    বাণী

    মম মধুর মিনতি শোন ঘনশ্যাম গিরিধারী
    কৃষ্ণমুরারী, আনন্দ ব্রজে তব সাথে মুরারি।।
    যেন নিশিদিন মুরলী-ধ্বনি শুনি
    উজান বহে প্রেম-যমুনারি বারি
    নূপুর হয়ে যেন হে বনচারী
    চরণ জড়ায়ে ধরে কাঁদিতে পারি।।
    
  • মরম-কথা গেল সই মরমে ম’রে

    বাণী

    মরম-কথা গেল সই মরমে ম’রে।
    শরম বারণ যেন করিল চরণ ধ’রে।।
    ছল ক’রে কত শত সে মম রুধিত পথ
    লাজ ভয়ে পলায়েছি সে ফিরেছে ব্যথাহত
    অনাদরে প্রেম-কুসুম গিয়াছে ম’রে।।
    কত যুগ মোর আশে ব’সে ছিল পথ-পাশে
    কত কথা কত গান জানায়েছে ভালোবেসে
    শেষে অভিমানে নিরাশে গিয়াছে স’রে।।
    

  • মাগো চিন্ময়ী রূপ ধরে আয়

    বাণী

    মাগো চিন্ময়ী রূপ ধ’রে আয়।
    মৃন্ময়ী রূপ তোর পূজি শ্রী দুর্গা তাই দুর্গতি কাটিল না হায়।।
    	যে মহা-শক্তির হয় না বিসর্জন
    	অন্তরে বাহিরে প্রকাশ যার অনুখন
    মন্দিরে দুর্গে রহে না যে বন্দী সেই দুর্গারে দেশ চায়।।
    আমাদের দ্বিভুজে দশভুজা-শক্তি দে পরম ব্রহ্মময়ী।
    শক্তিপূজার ফল ভক্তি কি পাব শুধু হব না কি বিশ্বজয়ী?
    এই পূজা-বিলাস সংহার কর্‌ যদি, পুত্র শক্তি নাহি পায়।।
    
  • মৃত্যু নাই নাই দুঃখ আছে শুধু প্রাণ

    বাণী

    মৃত্যু নাই, নাই দুঃখ, আছে শুধু প্রাণ।
    আনন্ত আনন্দ হাসি অফুরান।।
    	নিরাশার বিবর হ’তে
    	আয় রে বাহির পথে,
    দেখ্ নিত্য সেথায় — আলোকের অভিযান।।
    ভিতর হ’তে দ্বার বন্ধ ক’রে
    জীবন থাকিতে কে আছিস্‌ ম’রে।
    	ঘুমে যারা অচেতন
    	দেখে রাতে কু-স্বপন,
    প্রভাতে ভয়ের নিশি হয় অবসান।।
    
  • মেঘ মেদুর বয়ষায় কোথা তুমি

    বাণী

    মেঘ মেদুর বয়ষায় কোথা তুমি
    ফুল ছাড়ায়ে কাঁদে বনভূমি।।
    ঝুরে বারিধারা
    ফিরে এসো পথহারা
    কাঁদে নদী তট চুমি’।।
    
  • মেঘ-বিহীন খর-বৈশাখে

    বাণী

    মেঘ-বিহীন খর-বৈশাখে
    তৃষায় কাতর চাতকী ডাকে।।
    সমাধি-মগ্না উমা তপতী —
    রৌদ্র যেন তার তেজঃ জ্যোতি,
    ছায়া মাগে ভীতা ক্লান্তা কপোতী —
    কপোত-পাখায় শুষ্ক শাখে।।
    শীর্ণা তপিনী বালুচর জড়ায়ে
    তীর্থে চলে যেন শ্রান্ত পায়ে।
    দগ্ধ-ধরণী যুক্ত-পাণি
    চাহে আষাঢ়ের আশিস বাণী
    যাপিয়া নির্জলা একদশীর তিথি
    পিপাসিত আকাশ যাচে কাহাকে।।
    
  • মেঘে মেঘে অন্ধ অসীম আকাশ

    বাণী

    মেঘে মেঘে অন্ধ অসীম আকাশ।
    আমারি মত কাঁদে দিশাহারা
    নয়ন পুতলি চাঁদে হারায়ে
    হারায়ে তারি নয়ন তারা।।
    আমার ভুবন আঁধারে ভরিয়া
    নয়ন মণি মোর কে নিল হরিয়া
    প্রিয় নাম ধরে তারে খুঁজি দিকে দিকে
    শূন্য গগনে শুধু ঝরে বারি ধারা।।
    হে আলোর রাজা বল বল মোরে
    মোর আঁখি পুতলি কেন নিলে হ’রে
    তব উৎসব সভা হ’তো না কি উজল
    আমার আঁখির আলো ছাড়া।।
    

  • মেঘের ডমরু ঘন বাজে

    বাণী

    মেঘের ডমরু ঘন বাজে।
    	বিজলি চমকায়
    	আমার বনছায়,
    মনের ময়ূর যেন সাজে॥
    সঘন শ্রাবণ গগন-তলে
    রিমি ঝিমি ঝিম্ নবধারা জলে,
    চরণ-ধ্বনি বাজায় কে সে —
    নয়ন লুটায় তারি লাজে॥
    ওড়ে গগন-তলে গানের বলাকা,
    শিহরণ জাগে উজ্জ্বল পাখা।
    সুদূরের মেঘে অলকার পানে
    ভেসে চ’লে যায় শ্রাবণের গানে,
    কাহার ঠিকানা খুঁজিয়া বেড়ায় —
    হৃদয়ে কার স্মৃতি রাজে॥
    
  • মোর প্রথম মনের মুকুল

    বাণী

    মোর	প্রথম মনের মুকুল
    	ঝরে গেল হায় মনে মিলনের ক্ষণে।
    	কপোতীর মিনতি কপোত শুনিল না,
    			উড়ে গেল গহন-বনে।।
    	দক্ষিণ সমীরণ কুসুম ফোটায় গো
    	আমারি কাননে ফুল কেন ঝরে যায় গো
    	জ্বলিল প্রদীপ সকলেরি ঘরে হায়
    	নিভে গেল মোর দীপ গোধূলি লগনে।।
    	বিফল অভিমানে কাঁদে ফুলমালা কণ্ঠ জড়ায়ে
    	কাঁদি ধূলি-পথে একা ছিন্ন-লতার প্রায় লুটায়ে লুটায়ে।
    	দারুণ তিয়াসে এসে সাগর-মুখে
    	ঢলিয়া পড়িনু হায় বালুকারি বুকে
    	ধোঁয়ারে মেঘ ভাবি’ ভুলিনু চাতকী
    			জ্বলিয়া মরি গো বিরহ-দহনে।।
    
  • মৌন আরতি তব বাজে নিশিদিন

    বাণী

    মৌন আরতি তব বাজে নিশিদিন
    ত্রিভুবন মাঝে প্রভু বানী-বিহীন।।
    সম্ভ্রমে-শ্রদ্ধায় গ্রহ-তারা দল
    স্থির হয়ে রয় অপলক অচপল,
    ধ্যান-মৌনী মহাযোগী অটল
    আপন মহিমায় তুমি সমাসীন।।
    মৌন সে সিন্ধুতে জলবিম্বের প্রায়
    বাণী ও সঙ্গীত যায় হারাইয়া যায়।
    বিস্ময়ে অনিমেষ আঁখি চেয়ে রয়
    তব পানে অনন্ত সৃষ্টি-প্রলয়,
    তব ধ্রুব-লোকে, হে চির অক্ষয়,
    সকল ছন্দ-গতি হইয়াছে লীন।।
    
  • রস-ঘনশ্যাম-কল্যাণ-সুন্দর

    বাণী

    রস-ঘনশ্যাম-কল্যাণ-সুন্দর।
    প্রশান্ত সন্ধ্যার উদার শান্তি দাও —
    শ্রান্ত মনের ভার হর, হে গিরিধর।।
    যে নিবিড় সমাধির গভীর আনন্দে
    হিমালয় লীলায়িত নীরব ছন্দে,
    সেই মহাযোগে কর মোরে মগ্ন —
    যে মহাভাবে ভোর মৌন নীলাম্বর।। 
    অপগত-দুখশোক নিশীথ সুষুপ্তির মাঝে,
    নিথর সিন্ধুর অতল তলে যে শান্ত বিরাজে।
    যে সুধা লভিয়া ঋষি মধুছন্দা
    আনিল বেদবাণী অলকানন্দা
    অন্তরে বাহিরে সেই অমৃত দাও —
    কর পুরুষোত্তম অজর অমর।।
    
  • রহি' রহি' কেন সে-মুখ পড়ে মনে

    বাণী

    রহি' রহি' কেন সে-মুখ পড়ে মনে
    ফিরায়ে দিয়াছি যারে অনাদরে অকারণে।
    উদাসী অলস দুপুরে
    মন উড়ে' যেতে চায় সুদূরে
    যে বন-পথে সে ভিখারির বেশে
    করুণা জাগায়ে ছিল সকরুণ নয়নে।।
    তার বুকে ছিল তৃষ্ণা মোর ঘটে ছিল বারি
    পিয়াসি ফটিকজল জল পাইল না গো
    ঢলিয়া পড়িল হায় জলদ নেহারি।
    তার অহ্জলির ফুল পথ-ধূলিতে
    ছড়ায়েছি-সেই ব্যথা নারি ভুলিতে
    অন্তরালে যারে রাখিনু চিরদিন
    অন্তর জুড়িয়া কেন কাঁদে সে গোপনে।।
    
  • রাধা-তুলসী প্রেম-পিয়াসি গোলকবাসী শ্রীকৃষ্ণ নারায়ণ

    বাণী

    রাধা-তুলসী, প্রেম-পিয়াসি, গোলকবাসী শ্রীকৃষ্ণ নারায়ণ।
    নাম জপ মুখে, মূরতি রাখ বুকে ধ্যান দেখ তারি রপ মোহন।।
    	অমৃত রসঘন কিশোর-সুন্দর,
    	নব নীরদ শ্যাম মদন মনোহর —
    সৃষ্টি প্রলয় যুগল নূপুর শোভিত যাহার রাঙা চরণ।।
    	মগ্ন সদা যিনি লীলারসে,
    	যে লীলা-রস ভরা গোপী-কলসে,
    কান্না-হাসির আলো-ছায়ার মায়ায় যাহার মোহিত ভূবন।।