কাহার্‌বা

  • আমার মালায় লাগুক তোমার

    বাণী

    	আমার মালায় লাগুক তোমার মধুর হাতের ছোঁওয়া
    	ঘিরুক তোমায় মোর আরতি পূজা-ধূপের ধোঁওয়া।।
    		পূজায় ব'সে দেব-দেউলে
    		তোমায় দেখি মনের ভুলে
    প্রিয়	তুমি নিলে আমার পূজা হবে তারই লওয়া
    		হবে দেবতারই লওয়া।।
    		তুমি যেদিন প্রসন্ন হও ঠাকুর চাহেন হেসে
    	কাঁদলে তুমি, বুকে আমার দেবতা কাদেঁন এসে।
    		আমি অন্ধকারে ঠাকুর পুজে
    		ঘরের মাঝে পেলাম খুজেঁ
    	সে যে তুমি, আমার চির অবহেলা-সওয়া।।
    

  • আমার মুক্তি নিয়ে কি হবে মা

    বাণী

    আমার	মুক্তি নিয়ে কি হবে মা, (মাগো) আমি তোরেই চাই
    		স্বর্গ আমি চাইনে মাগো, কোল্ যদি তোর পাই॥
    (মাগো)		কি হবে সে মুক্তি নিয়ে,
    			কি হবে সে স্বর্গে গিয়ে;
    		যেথায় গিয়ে তোকে ডাকার আর প্রয়োজন নাই॥
    		যুগে যুগে যে লোকে মা প্রকাশ হবে তোর
    (আমি)	পুত্র হয়ে দেখব লীলা এই বাসনা মোর।
    			তুই, মাখাস্ যদি মাখ্‌ব ধূলি,
    			শুধু তোকে যেন নাহি ভুলি;
    		তুই, মুছিয়ে ধূলি নিবি তুলি বক্ষে দিবি ঠাঁই॥
    
  • আমার মোহাম্মদের নামের ধেয়ান

    বাণী

    আমার	মোহাম্মদের নামের ধেয়ান হৃদয়ে যার রয়
    		ওগো হৃদয়ে যার রয়।
    	খোদার সাথে হয়েছে তার গোপন পরিচয়।।
    ঐ	নামে যে ডুবে আছে
    	নাই দুখ-শোক তাহার কাছে
    ঐ	নামের প্রেমে দুনিয়াকে সে দেখে প্রেমময়।।
    	যে খোশ-নসীব গিয়াছে ঐ নামের স্রোতে ভেসে'
    	জেনেছে সে কোরআন-হাদিস-ফেকা এক নিমেষে।
    		মোর নবীজীর বর-মালা,
    		করেছে যার হৃদয় আলা
    	বেহেশতের সে আশ রাখে না, তার নাই দোজখে ভয়।।
    

  • আমার যখন পথ ফুরাবে

    বাণী

    আমার যখন পথ ফুরাবে, আসবে গহীন রাতি (খোদা) —
    তখন তুমি হাত ধ'রো মোর হয়ো পথের সাথী (খোদা)।। 
    অনেক কথা হয়নি বলা, বলার সময় দিও, খোদা —
    আমার তিমির অন্ধ চোখে দৃষ্টি দিও প্রিয়, খোদা
    বিরাজ করো বুকে তোমার আরশটিকে পাতি'।।
    সারা জীবন কাটলো আমার বিরহে বঁধু,
    পিপাসিত কন্ঠে এসে দিও মিলন-মধু।
    তুমি যথায় থাকো প্রিয় সেথায় যেন যাই, খোদা
    সখা ব'লে ডেকো আমায়, দীদার যেন পাই, খোদা।
    সারা জনম দুঃখ পেলাম, যেন এবার সুখে মাতি।।
    
  • আমার যাবার সময় হলো

    বাণী

    আমার যাবার সময় হলো, দাও বিদায়।
    মোছ আঁখি, দুয়ার খোলো, দাও বিদায়।।
    ফোটে যে ফুল আঁধার রাতে
    ঝরে ধূলায় ভোর বেলাতে
    আমায় তারা ডাকে সাথে - আয় রে আয়।
    সজল করুণ নয়ন তোলো, দাও বিদায়।।
    অন্ধকারে এসেছিলাম থাকতে আঁধার যাই চ’লে;
    ক্ষণিক ভালোবেসেছিলেম চিরকালের না-ই হ’লে।
    হ’লো চেনা হ’লো দেখা
    নয়ন-জলে রইলো লেখা
    দূর বিরহের ডাকে কেকা বরষায়
    ফাগুন স্বপন ভোলো ভোলো,দাও বিদায়।।
    
  • আমারে চোখ ইশারায় ডাক দিলে হায়

    বাণী

    আমারে চোখ ইশারায় ডাক দিলে হায় কে গো দরদি।
    খুলে দাও রং মহলার তিমির-দুয়ার ডাকিলে যদি।।
    গোপনে চৈতী হাওয়ায় গুল্‌-বাগিচায় পাঠালে লিপি,
    দেখে তাই ডাক্‌ছে ডালে কু কু ব’লে কোয়েলা ননদী।।
    পাঠালে ঘূর্ণি-দূতী ঝড়-কপোতী বৈশাখে সখি
    বরষায় সেই ভরসায় মোর পানে চায় জল-ভরা নদী।।
    তোমারি অশ্রু ঝলে শিউলি তলে সিক্ত শরতে,
    হিমানীর পরশ বুলাও ঘুম ভেঙে দাও দ্বার যদি রোধি।।
    পউষের শূন্য মাঠে একলা বাটে চাও বিরহিণী,
    দুঁহু হায় চাই বিষাদে, মধ্যে কাঁদে তৃষ্ণা-জলধি।।
    ভিড়ে যা ভোর-বাতাসে ফুল-সুবাসে রে ভোমর কবি
    ঊষসীর শিশ্‌-মহলে আস্‌তে যদি চাস্‌ নিরবধি।।
    
  • আমি আলোর শিখা

    বাণী

    আমি আলোর শিখা
    ফুটাই আঁধার ভবনে দীপ-কলিকা।।
    নিশ্চল পথে আমি আনন্দ-ছন্দ
    অন্ধ আকাশে আমি রবি-তারা-চন্দ
    আমি ম্লান মুখে আনি রূপ-কণিকা।।
    

    নাটকঃ ‌‘সিরাজদ্দৌলা’

  • আমি কুল ছেড়ে চলিলাম ভেসে বলিস ননদীরে

    বাণী

    আমি	কুল ছেড়ে চলিলাম ভেসে বলিস ননদীরে সই, বলিস ননদীরে।
    	শ্রীকৃষ্ণ নামের তরণীতে প্রেম-যমুনার তীরে বলিস ননদীরে
    				সই, বলিস্‌ ননদীরে।।
    	সংসারে মোর মন ছিল না, তবু মানের দায়ে
    আমি	ঘর করেছি সংসারেরি শিকল বেঁধে পায়ে
    	শিক্‌লি-কাটা পাখি কি আর পিঞ্জরে সই ফিরে।।
    	বলিস গিয়ে কৃষ্ণ নামের কলসি বেঁধে গলে
    	হডুবেছে রাই কলঙ্কিনী কালিদহের জলে।
    	কলঙ্কেরই পাল তুলে সই, চললেম অকূল-পানে
    	নদী কি সই, থাকতে পারে সাগর যখন টানে।
    	রেখে গেলাম এই গোকুলে কুলের বৌ-ঝিরে।।
    
  • আমি গরবিনী মুসলিম বালা

    বাণী

    আমি গরবিনী মুসলিম বালা
    সংসার সাহারাতে আমি গুলে লালা।।
    জ্বালায়েছি বাতি (আমি) আঁধার কাবায়
    এনেছি খুশির, ঈদে শিরনির থালা।।
    আনিয়াছি ঈমান প্রথম আমি
    আমি দিয়াছি সবার আগে মোহাম্মদে মালা।।
    কত শত কারবালা বদরের রণে
    বিলায়ে দিয়াছি স্বামী-পুত্র স্বজনে;
    জানে গ্রহ-তারা জানে আল্লাহ তালা।।
    

  • আমি গিরিধারী সাথে মিলিতে যাইব

    বাণী

    আমি 	গিরিধারী সাথে মিলিতে যাইব, সুন্দর সাজে মোরে সাজায়ে দে।
    	লাখ যুগের পরে শুভদিন এলো, মেহেদী রঙে হাত রাঙায়ে দে।।
    	চন্দন টিপ, গলে মালতীর মালা, নয়নে কাজল পরায়ে দে,
    	অধর রাঙায়ে দে তাম্বুল রাগে, চরণে আল্‌তা মাখায়ে দে।।
    	প্রেম নীল শাড়ি প্রীতির আঙিনা, অনুরাগ ভূষণে বধূ সাজিয়া
    	হৃদয়-বাসরে মিলিব দোঁহে — কুসুমের শেজ সখি বিছায়ে দে।।
    
  • আমি জানি তব মন বুঝি তব ভাষা

    বাণী

    	আমি জানি তব মন বুঝি তব ভাষা
    	তব কঠিন হিয়ার তলে জাগে কি গভীর ভালোবাসা।।
    	ওগো উদাসীন! আমি জানি তব ব্যথা
    	আহত পাখির বুকে বাণ বিধেঁ কোথা
    	কোন অভিমান ভুলিয়াছ তুমি ভালোবাসিবার আশা।।
    তুমি	কেন হানো অবহেলা অকারন আপনাকে,
    প্রিয়	যে হৃদয়ে বিষ থাকে সে হৃদয়ে অমৃত থাকে।
    	তব যে বুকে জাগে প্রলয় ঝড়ের জ্বালা
    	আমি দেখেছি যে সেথা সজল মেঘের মালা
    ওগো	ক্ষুধাতুর আমারে আহুতি দিলে
    	মিটিবে কি তব পরানের পিপাসা।।
    
  • আমি পথ-ভোলা ভিনদেশি গানের পাখি

    বাণী

    আমি	পথ-ভোলা ভিনদেশি গানের পাখি
    	তোমাদের সুরের সভায় এই অজানায় লহ গো ডাকি'।।
    	তোমরা বেঁধেছে বাসা যে তরু-শাখায়
    	আমারে বসিতে দিও তাহারি ছায়ায়
    	গাহিবার আছে আশা, জানি না গানের ভাষা
    তবু	ভালোবাসা দিয়ে বাঁধ গো রাখি।।
    	মায়াময় তোমাদের তরুলতা, ফুল
    	তোমাদের গান শুনে' পথ হ'ল ভুল।
    	যেন শতবার এসে' জন্মেছি এই দেশে-
    বন্ধু	হে বন্ধু, অতিথিরে চিনিবে না-কি।।
    

  • আমি পূরব দেশের পুরনারী

    বাণী

    আমি পূরব দেশের পুরনারী (গো)।
    গাগরি ভরিয়া এনেছি গো অমৃত-বারি।।
    পদ্মকুলের আমি পদ্মিনী-বধূ
    এনেছি শাপলা-পদ্মের মধু
    ঘন বন ছায়ায় শ্যামলী মায়ায়
    শান্তি আনিয়াছি ভরি’ হেমঝারি।।
    আমি শঙ্খ-নগর হতে আনিয়াছি শাখা, অভয়শঙ্খ,
    ঝিল্‌ ছেনে এনেছি সুনীল কাজল গো —
    বিল্‌ ছেনে অনাবিল চন্দন-পঙ্ক (এনেছি)।
    এনেছি, শত ব্রত-পার্বণ-উৎসব
    এনেছি, সারস হংসের কলরব
    এনেছি, নব আশা-ঊষার সিন্দুর
    মেঘ-ডম্বরু সাথে মেঘ-ডুমুর শাড়ি।।
    
  • আমি প্রভাতী তারা পূর্বাচলে

    বাণী

    আমি প্রভাতী তারা পূর্বাচলে
    আশা-প্রদীপ আমি নিশির শীশ-মহলে।।
    রাতের কপোলে আমি ছলছল অশ্রুর জল,
    আমি ধরণীতে হিম-কণা টলমল, নব দুর্বাদলে।।
    নব অরুণোদয়ের আমি ইঙ্গিত
    বিহগ-কণ্ঠে আমি জাগাই শুভ-সঙ্গীত।
    আমিকনক-কদম তিমির নীপ শাখায়
    আমিমধ্যমণি মালিকায়, শ্যাম গগন-গলে।।
    

  • আমি ময়নামতীর শাড়ি দেবো

    বাণী

    আমি ময়নামতীর শাড়ি দেবো, চলো আমার বাড়ি
    ওগো ভিনগেরামের নারী
    তোরে সোনাল ফুলের বাজু দেবো চুড়ি বেলোয়ারি।।
    তোরে বৈঁচী ফুলের পৈঁচী দেবো কলমিলতার বালা,
    রক্ত-শালুক দিবো পায়ে, পরবে আলতা তা'রি।।
    হলুদ-চাঁপার বরণ কন্যা এসো আমার নায়
    সরষে ফুলের সোনার রেণু মাখাবো ওই গায়!
    ঠোঁটে দিবো রাঙা পলাশ মহুয়া ফুলের মউ,
    বকুল-ডালে ডাকবে পাখি, 'বউ গো কথা কও!'
    আমি সব দিবো গো, যা পারি আর যা দিতে না পারি।।
    
  • আমি মূলতানী গাই

    বাণী

    	আমি মূলতানী গাই
    শ্রোতারা বাছুর সম মুখপানে চেয়ে মম
    	ঘন ঘন তোলে হাই।।
    জাপটে সুরের দাড়ি
    শ্বশুরের দাড়ি, ভাসুরের দাড়ি
    	সাপটে তান মারি-আ-আ-আ
    	জাপটে সুরের দাড়ি
    পমকে ধমক দেই, মীরে মাড় চটকাই।।
    হায় হায় রে হায়-
    বোলতানে আবোল-তাবোল তানে খেলি হা-ডু-ডু
    কিত-কিত - হা-ডু-ডু- হা-ডু-ডু-কিত-কিত-কিত-কিত-কিত
    	মোড়-মোড়-মোড়
    আমি	বাটের চাট মেরে সুরে করি চিত
    আমি	তালের সিঙ দিয়ে বেদম গুতাই।।
    মোর	মুখের হা দেখে হিপোপটেমাস
    	আফ্রিকার জঙ্গলে ভয়ে করে বাস
    আমি	যত নাহি গাই তার অধিক রাগাই।।
    
  • আমি যদি আরব হতাম মদিনারই পথ

    বাণী

    আমি যদি আরব হ’তাম — মদিনারই পথ।
    এই পথে মোর চ’লে যেতেন নূর নবী হজরত।।
    পয়জার তাঁর লাগত এসে আমার কঠিন বুকে,
    আমি ঝর্না হয়ে গ’লে যেতাম অম্‌নি পরম সুখে;
    সেই চিহ্ন বুকে পুরে পালিয়ে যেতাম কোহ্‌-ই-তুরে,
    দিবা নিশি করতাম তাঁর কদম জিয়ারত।।
    মা ফাতেমা খেলতো এসে আমার ধূলি ল’য়ে
    আমি পড়তাম তাঁর পায়ে লুটিয়ে ফুলের রেণু হয়ে।
    হাসান হোসেন হেসে হেসে নাচতো আমার বক্ষে এসে
    চক্ষে আমার বইতো নদী পেয়ে সে নেয়ামত।।
    
  • আমি যার নূপুরের ছন্দ

    বাণী

    আমি যার নূপুরের ছন্দ বেণুকার সুর - 
    কে সেই সুন্দর কে! 
    আমি যার বিলাস-যমুনা বিরহ-বিধুর 
    কে সেই সুন্দর কে।। 
    যাহার গানের আমি বনমালা 
    আমি যার কথার কুসুম-ডালা, 
    না-দেখা সুদূর - 
    কে সেই সুন্দর কে।। 
    যার শিখী-পাখা লেখনী হয়ে 
    গোপনে মোরে কবিতা লেখায় 
    সে রহে কোথায় হায়! 
    আমি যার বরষার আনন্দ-কেকা 
    নৃত্যের সঙ্গিনী দামিনী-রেখা, 
    যে মম অঙ্গে কাঁকন-কেয়ূর 
    কে সেই সুন্দর কে।। 
    
  • আমি রচিয়াছি নব ব্রজধাম হে মুরারি

    বাণী

    আমি	রচিয়াছি নব ব্রজধাম হে মুরারি
    সেথা	করিবে লীলা এসো গোলক-বিহারী।।
    মোর	কামনার কালীদহ করি মন্থন
    	কালীয় নাগে হরি করিও দমন
    আছে	গিরি-গোরবর্ধন মোর অপরাধ
    যদি	সাধ যায় সেই গিরি ধ'রো গিরিধারী।।
    আছে	ষড় রিপু কংসের অনুচর দল
    আছে	অবিদ্যা পুতনা শোক দাবানল
    আছে	শত জনমের সাধ আশা-ধেনুগণ
    আছে	অসহায় রোদনের যমুনা-বারি
    আছে	জটিলতা কুটিলতা প্রেমের বাধা
    হরি	সব আছে, নাই শুধু আনন্দ-রাধা
    তুমি	আসিলে হরি ব্রজে রাসেশ্বরী
    	আসিবেন হ্লাদিনী রূপে রাধা প্যারী।।
    
  • আমি সূর্যমুখী ফুলের মত দেখি তোমায়

    বাণী

    আমি		সূর্যমুখী ফুলের মত দেখি তোমায় দূরে থেকে
    		দলগুলি মোর রেঙে ওঠে তোমার হাসির কিরণ মেখে’।।
    			নিত্য জানাই পেম-আরতি
    			যে পথে, নাথ, তোমার গতি
    		ওগো আমার ধ্রুব-জ্যোতি সাধ মেটে না তোমায় দেখে’।।
    		জানি, তুমি আমার পাওয়ার বহু দূরে, হে দেবতা!
    		আমি মাটির পূজারিণী, কেমন ক’রে জানাই ব্যথা।
    			সারা জীবন তবু, স্বামী,
    			তোমার ধ্যানেই কাঁদি আমি
    		সন্ধ্যাবেলায় ঝরি যেন তোমার পানে নয়ন রেখে’।।