কাহার্‌বা

  • আমি পূরব দেশের পুরনারী

    বাণী

    আমি পূরব দেশের পুরনারী (গো)।
    গাগরি ভরিয়া এনেছি গো অমৃত-বারি।।
    পদ্মকুলের আমি পদ্মিনী-বধূ
    এনেছি শাপলা-পদ্মের মধু
    ঘন বন ছায়ায় শ্যামলী মায়ায়
    শান্তি আনিয়াছি ভরি’ হেমঝারি।।
    আমি শঙ্খ-নগর হতে আনিয়াছি শাখা, অভয়শঙ্খ,
    ঝিল্‌ ছেনে এনেছি সুনীল কাজল গো —
    বিল্‌ ছেনে অনাবিল চন্দন-পঙ্ক (এনেছি)।
    এনেছি, শত ব্রত-পার্বণ-উৎসব
    এনেছি, সারস হংসের কলরব
    এনেছি, নব আশা-ঊষার সিন্দুর
    মেঘ-ডম্বরু সাথে মেঘ-ডুমুর শাড়ি।।
    
  • আমি প্রভাতী তারা পূর্বাচলে

    বাণী

    আমি প্রভাতী তারা পূর্বাচলে
    আশা-প্রদীপ আমি নিশির শীশ-মহলে।।
    রাতের কপোলে আমি ছলছল অশ্রুর জল,
    আমি ধরণীতে হিম-কণা টলমল, নব দুর্বাদলে।।
    নব অরুণোদয়ের আমি ইঙ্গিত
    বিহগ-কণ্ঠে আমি জাগাই শুভ-সঙ্গীত।
    আমিকনক-কদম তিমির নীপ শাখায়
    আমিমধ্যমণি মালিকায়, শ্যাম গগন-গলে।।
    

  • আমি ময়নামতীর শাড়ি দেবো

    বাণী

    আমি ময়নামতীর শাড়ি দেবো, চলো আমার বাড়ি
    ওগো ভিনগেরামের নারী
    তোরে সোনাল ফুলের বাজু দেবো চুড়ি বেলোয়ারি।।
    তোরে বৈঁচী ফুলের পৈঁচী দেবো কলমিলতার বালা,
    রক্ত-শালুক দিবো পায়ে, পরবে আলতা তা'রি।।
    হলুদ-চাঁপার বরণ কন্যা এসো আমার নায়
    সরষে ফুলের সোনার রেণু মাখাবো ওই গায়!
    ঠোঁটে দিবো রাঙা পলাশ মহুয়া ফুলের মউ,
    বকুল-ডালে ডাকবে পাখি, 'বউ গো কথা কও!'
    আমি সব দিবো গো, যা পারি আর যা দিতে না পারি।।
    
  • আমি মূলতানী গাই

    বাণী

    	আমি মূলতানী গাই
    শ্রোতারা বাছুর সম মুখপানে চেয়ে মম
    	ঘন ঘন তোলে হাই।।
    জাপটে সুরের দাড়ি
    শ্বশুরের দাড়ি, ভাসুরের দাড়ি
    	সাপটে তান মারি-আ-আ-আ
    	জাপটে সুরের দাড়ি
    পমকে ধমক দেই, মীরে মাড় চটকাই।।
    হায় হায় রে হায়-
    বোলতানে আবোল-তাবোল তানে খেলি হা-ডু-ডু
    কিত-কিত - হা-ডু-ডু- হা-ডু-ডু-কিত-কিত-কিত-কিত-কিত
    	মোড়-মোড়-মোড়
    আমি	বাটের চাট মেরে সুরে করি চিত
    আমি	তালের সিঙ দিয়ে বেদম গুতাই।।
    মোর	মুখের হা দেখে হিপোপটেমাস
    	আফ্রিকার জঙ্গলে ভয়ে করে বাস
    আমি	যত নাহি গাই তার অধিক রাগাই।।
    
  • আমি যদি আরব হতাম মদিনারই পথ

    বাণী

    আমি যদি আরব হ’তাম — মদিনারই পথ।
    এই পথে মোর চ’লে যেতেন নূর নবী হজরত।।
    পয়জার তাঁর লাগত এসে আমার কঠিন বুকে,
    আমি ঝর্না হয়ে গ’লে যেতাম অম্‌নি পরম সুখে;
    সেই চিহ্ন বুকে পুরে পালিয়ে যেতাম কোহ্‌-ই-তুরে,
    দিবা নিশি করতাম তাঁর কদম জিয়ারত।।
    মা ফাতেমা খেলতো এসে আমার ধূলি ল’য়ে
    আমি পড়তাম তাঁর পায়ে লুটিয়ে ফুলের রেণু হয়ে।
    হাসান হোসেন হেসে হেসে নাচতো আমার বক্ষে এসে
    চক্ষে আমার বইতো নদী পেয়ে সে নেয়ামত।।
    
  • আমি যার নূপুরের ছন্দ

    বাণী

    আমি যার নূপুরের ছন্দ বেণুকার সুর - 
    কে সেই সুন্দর কে! 
    আমি যার বিলাস-যমুনা বিরহ-বিধুর 
    কে সেই সুন্দর কে।। 
    যাহার গানের আমি বনমালা 
    আমি যার কথার কুসুম-ডালা, 
    না-দেখা সুদূর - 
    কে সেই সুন্দর কে।। 
    যার শিখী-পাখা লেখনী হয়ে 
    গোপনে মোরে কবিতা লেখায় 
    সে রহে কোথায় হায়! 
    আমি যার বরষার আনন্দ-কেকা 
    নৃত্যের সঙ্গিনী দামিনী-রেখা, 
    যে মম অঙ্গে কাঁকন-কেয়ূর 
    কে সেই সুন্দর কে।। 
    
  • আমি যেদিন রইব না গো

    বাণী

    আমি যেদিন রইব না গো লইব চির-বিদায়।
    চিরতরে স্মৃতি আমার জানি মুছে যাবে হায়।।
    এই ধরণীর খেলা-ঘরে, মনে রাখে কে কারে
    দুলে সাগর চাঁদ-সোহাগে, মরু মরে পিপাসায়।।
    রবি যবে ওঠে নভে, চাঁদে কে মনে রাখে
    এ কূল ভাঙে ও কূল গড়ে, মানুষের মন নদীর প্রায়।
    মোর সমাধির বুকে প্রিয়, উঠবে তোমার বাসর ঘর,
    হায়, অসহায় ভিখারি মন, কাঁদে তবু সেই ব্যথায়।।
    
  • আমি রচিয়াছি নব ব্রজধাম হে মুরারি

    বাণী

    আমি	রচিয়াছি নব ব্রজধাম হে মুরারি
    সেথা	করিবে লীলা এসো গোলক-বিহারী।।
    মোর	কামনার কালীদহ করি মন্থন
    	কালীয় নাগে হরি করিও দমন
    আছে	গিরি-গোরবর্ধন মোর অপরাধ
    যদি	সাধ যায় সেই গিরি ধ'রো গিরিধারী।।
    আছে	ষড় রিপু কংসের অনুচর দল
    আছে	অবিদ্যা পুতনা শোক দাবানল
    আছে	শত জনমের সাধ আশা-ধেনুগণ
    আছে	অসহায় রোদনের যমুনা-বারি
    আছে	জটিলতা কুটিলতা প্রেমের বাধা
    হরি	সব আছে, নাই শুধু আনন্দ-রাধা
    তুমি	আসিলে হরি ব্রজে রাসেশ্বরী
    	আসিবেন হ্লাদিনী রূপে রাধা প্যারী।।
    
  • আমি সূর্যমুখী ফুলের মত দেখি তোমায়

    বাণী

    আমি		সূর্যমুখী ফুলের মত দেখি তোমায় দূরে থেকে
    		দলগুলি মোর রেঙে ওঠে তোমার হাসির কিরণ মেখে’।।
    			নিত্য জানাই পেম-আরতি
    			যে পথে, নাথ, তোমার গতি
    		ওগো আমার ধ্রুব-জ্যোতি সাধ মেটে না তোমায় দেখে’।।
    		জানি, তুমি আমার পাওয়ার বহু দূরে, হে দেবতা!
    		আমি মাটির পূজারিণী, কেমন ক’রে জানাই ব্যথা।
    			সারা জীবন তবু, স্বামী,
    			তোমার ধ্যানেই কাঁদি আমি
    		সন্ধ্যাবেলায় ঝরি যেন তোমার পানে নয়ন রেখে’।।
    

  • আমিনা-দুলাল নাচে হালিমার কোলে

    বাণী

    আমিনা-দুলাল নাচে হালিমার কোলে
    তালে তালে সোনার বুকে সোনার তাবিজ দোলে।।
    সে কাঁদিলে মুক্তা ঝরে হাসলে ঝরে মানিক
    	ঈদের চাঁদে লেগে আছে সেই খুশির খানিক।
    তাঁর কচি মুখে খোদার কালাম আধো আধো বলে।।
    	দেখেছিল লুকিয়ে সে নাচ কোটি গ্রহতারা
    	আসমানে তাই ঘোরে তারা আজো দিশাহারা
    সেদিন নেচেছিল বিশ্বভুবন ইয়া মোহাম্মদ ব’লে।।
    	কোরানের আয়াতে লেখা সেই নাচেরই ছন্দ
    	তকবীরের ধ্বনিতে বাজে তাহারি আনন্দ
    আমি থাকলে সেদিন হতাম ধূলি তাঁহার পায়ের তলে।।
    

  • আয় গোপিনী খেলবি হোরি ফাগের রাঙা

    বাণী

    আয় গোপিনী খেলবি হোরি ফাগের রাঙা পিচ্‌কারিতে
    আজ শ্যামে লো করব ঘায়েল আবির হাসির টিট্‌কারিতে।।
    রঙে রাঙা হয়ে শ্যাম আজ হবে যেন রাই কিশোরী
    যমুনা জল লাল হবে আজ আবির ফাগের রঙে ভরি
    কপালে কলঙ্ক মোদের ধুয়ে যাবে রঙ ঝারিতে।।
    গুরুজনার গঞ্জনা আজ
    সইব না লো মানব না লাজ
    কূল ভুলে গোকুল পানে ভেসে যাব রাঙা গীতে।।
    
  • আয় ঘুম আয় ঘুম আয় মোর গোপাল ঘুমায়

    বাণী

    আয় ঘুম আয় ঘুম আয় মোর গোপাল ঘুমায়
    বহু রাত্রি হল আর জাগাসনে মায়।।
    কোলে লয়ে তোরে ধীরে ধীরে দোলাবো
    ঘুম-পাড়ানিয়া গান তোরে শোনাবো
    গায়ে হাত বুলাবো পাঙ্খা ঢুলাবো
    মন ভুলাবো কত রূপকথায়।।
    তোরে	কে বলে চঞ্চল একচোখো সে
    মোর	শান্ত গোপাল থাকে গোষ্ঠে ব’সে
    তোরে	কে বলে ঝড় তোলে থির যমুনায়
    সে যেদিন রাত ঘোরে তার মা’র পায় পায়।।
    
  • আয় নেচে নেচে আয় রে বুকে দুলালী মোর

    বাণী

    আয় নেচে নেচে আয় রে বুকে দুলালীমোর কালো মেয়ে
    দগ্ধ দিনেরবুকে যেমন আসে শীতল আঁধার ছেয়ে।।
    	আমার হৃদয়-আঙিনাতে
    	খেলবি মা তুই দিনে রাতে
    মোর সকল দেহ নয়ন হয়ে দেখবে মা তাই চেয়ে চেয়ে।।
    হাত ধরে মোর নিয়ে যাবি তোর খেলাঘর দেখবি মা
    এইটুকু তুই মেয়ে আমার কেমন করে হ’স অসীমা।
    	লুটে নিবি চতুর্ভূজা
    	আমার স্নেহ প্রেম-পূজা
    (মা) নাম ধরে তোর ডাকব মা যেই যেথায় থাকিস আসবি ধেয়ে।।
    
  • আয় বনফুল ডাকিছে মলয়

    বাণী

    আয় বনফুল ডাকিছে মলয়
    এলোমেলো হাওয়ায় নূপুর বাজায় , কচি কিশলয়।।
    তোমরা এলে না ব'লে - ভোমরা কাদেঁ
    অভিমানে মেঘ ঢাকিল চাদেঁ
    'ভুল বঁধু ভুল' টুলটুলে মৌটুসি বুলবুলে কয়।।
    কুহু যামিনীর তিমির টুটে
    মুহু মুহু কুহু কুহরি ওঠে।
    হে বন-কলি, গুণ্ঠন খোলো
    হে মৃদুলজি্জিতা, লজ্জা ভোলো,
    কোথা তার দুল দোলে নটিনী তটিনী খুজেঁ বনময়।।
    
  • আয় সবে ভাই বোন

    বাণী

    আয় সবে ভাই বোন
    আয় সবে আয় শোন্ 
    	পদধূলি শিরে লয়ে মা’র।
    মা’র বড় কেহ নাই
    কেহ নাই, কেহ নাই,
    	নত করি’ বল সবে — ‘মা আমার! মা আমার!’
    

    রেকর্ড-নাটিকাঃ ‘মাতৃস্তোত্র’

  • আরে পঙ্খীরাজের বাচ্চা আমার

    বাণী

    ঘোড়া-পূজার মন্ত্র : 
    ওঁ নমস্তে শ্রী বিলাতী অশ্ব সাহেব হর্স নমোহ নমঃ।
    চতুষ্পদ একপুচ্ছ শৃঙ্গহীন জীব আদর্শ —
    			সাহেব হর্স নমো নমঃ।।
    অ্যাই, আরে পঙ্খীরাজের বাচ্চা আমার ঘোড়া ছুইট্যা যাও।
    ক্যাৎরাইয়া দুই চক্ষুরে ঘোড়া ছ্যাৎরাইয়া চাইর পাও।।
    স্বর্গপানে ল্যাজ উঠাইয়া, (ছোট) চিঁহি চুঁহু চিঁহি চুঁহু ডাইক্যা
    আমরা দুজন রাত্র জাগুম ছোলা ভিজাইয়া রাইখ্যা (রে)
    ফাস্‌টো যদি না হও ঘোড়া, (তোমার) ঘোড়ানীর মাথা খাও
    					হালা কচ্‌মচাইয়া খাও।।
    		তোমার ঘোড়ানীর মাথা কচ্‌মচাইয়া খাও।।
    

    নাটিকা : ‘বিলাতী ঘোড়ার বাচ্চা’

  • আর্শিতে তোর নিজের রূপই দেখিস

    বাণী

    আর্শিতে তোর নিজের রূপই দেখিস চেয়ে' চেয়ে'
    আমায় চেয়ে দেখিস না তাই রূপ-গরবী মেয়ে।
    		ওলো রূপ-গরবী মেয়ে।।
    	নাইতে গিয়ে নদীর জলে
    	দেরি করিস নানান ছলে
    ওরে	ভাবিস তোরে দেখতে কখন আসবে জোয়ার ধেয়ে।।
    	চাদেঁর সাথে মিলিয়ে দেখিস চাঁদপানা মুখ তোর
    	ভাবিস তুই-ই আসল শশী চাঁদ যেন চকোর
    		ওলো চাঁদ যেন চকোর।
    	বনের পথে আনমনে
    	দাঁড়িয়ে থাকিস অকারণে
    ওরে	ভাবিস তোরে দেখেই বুঝি বিহগ ওঠে গেয়ে'।
    

  • আলগা কর গো খোঁপার বাঁধন

    বাণী

    আলগা কর গো খোঁপার বাঁধন দিল ওহি মেরা ফঁস্‌ গয়ি।
    বিনোদ বেণীর জরীন ফিতায় আন্ধা এশ্‌ক্‌ মেরা কস্‌ গয়ি।।
    	তোমার কেশের গন্ধ কখন,
    	লুকায়ে আসিল লোভী আমার মন
    বেহুঁশ হো কর্‌ গির্‌ পড়ি হাথ মে বাজু বন্দ মে বস্‌ গয়ি।।
    	কানের দুলে প্রাণ রাখিলে বিঁধিয়া,
    	আঁখ্‌, ফিরা দিয়া চোরী কর্‌ নিদিয়া,
    দেহের দেউড়িতে বেড়াতে আসিয়া আউর নেহিঁ উয়ো ওয়াপস্‌ গয়ি।।
    
  • আল্লা ব’লে কাঁদ বারেক্ রসুল ব’লে কাঁদ্

    বাণী

    	আল্লা ব’লে কাঁদ বারেক্ রসুল ব’লে কাঁদ্।
    	সাফ্ হবে তোর মনের আকাশ উঠবে ঈদের চাঁদ।।
    	ভোগে কেবল দুর্ভোগ সার, বাড়ে দুখের বোঝা
    	ত্যাগ শিখ্ তুই সংযম শিখ, সেই তো আসল রোজা,
    এই	রোজার শেষে ঈদ আস্‌বে, রইবে না বিষাদ।।
    	আস্‌বে খোদার দরগা থেকে শিরনি তোর তরে
    	কমলিওয়ালা নবীর দেখা পাবি রে অন্তরে,
    	খোদার প্রেমের স্রোত বইবে ভেঙ্গে মনের বাঁধ।।
    	তোর হৃদয়ের কারবালাতে বইবে ফোরাত নদী
    	শহীদের দর্‌জা তোরে দেবেন আল্লা হাদী,
    	দুনিয়াদারি ক’রেই পাবি বেহেশ্‌তেরি স্বাদ।।
    
  • আল্লা রসুল তরু আর ফুল

    বাণী

    আল্লা রসুল তরু আর ফুল প্রেমিক-হৃদয় জানে।
    কেহবা তরুরে ভালোবাসে ভাই, কেহ ফুল ধ’রে টানে।।
    কেহবা ফুলের মধু চায়, কেহ চায় সে-গাছের ছায়া
    গাছের ছায়ায় জুড়াইয়া পায় গুল্ সুবাসের মায়া,
    তুরু ছুঁয়ে বোঝে আল্লা রসুলে রসলীলা কোন্‌খানে।।
    কোন জন চাহে গুলের খশ্‌বু, কোন জন চাহে গুল্
    খশ্‌বুর সাথে ফুলেরেও চাহে প্রেমিক যে বুল্‌বুল।
    জালালের সাথে জামালেও চাহে, প্রেমিক যে বুল্‌বুল।।
    আল্লারে ভালোবেসে যার গেছে সকল দ্বিধা ও ভয়
    রসুল তাহারে প্রেম দিয়ে কন্, আল্লা যে প্রেমময়,
    তিনি যে কেবল বিচারক নন, আল্লা যে প্রেমময়,
    মজনুর মত দিওয়ানা সে যে লাইলার মধুপানে।।