বাণী

		আল্লাহ রসুল বোল রে মন আল্লাহ রসুল বোল।
		দিনে দিনে দিন গেল তোর দুনিয়াদারি ভোল।।
রোজ		কেয়ামতের নিয়ামত এই আল্লাহ-রসুল বাণী
তোর		আখেরের ভুখের খোরাক পিয়াসের ঐ পানি
তোর		দিল দরিয়ায় আল্লাহ-রসুল জপের লহর তোল।।
তোর		স্ত্রী-পুত্র ভাই-বেরাদর কেউ হবে না সাথি
   		আঁধার গোরে রইবি প’ড়ে জ্বালবে না কেউ বাতি।
যে		নামে হেসে পার হবি তুই পুল-সেরাতের পোল।।
(ওরে)		হাড়-ভাঙা খাটুনি খেটে ঘুরে ঘুরে পথে
		আনিস যা তুই লাগবে না তা তোর কাজে আকবতে।
যে		যে নাম জ’পে পাবি রে তুই মোস্তফারই কোল।।

বাণী

আমি কলহেরি তরে কলহ করেছি বোঝনি কি রসিক বঁধূ।
তুমি মন বোঝ মনোচোর মান বোঝ নাকি হে —
তুমি ফুল চেন, চেন নাকি মধু?
তুমি যে মধুবনের মধুকর,
তুমি মধুরম মধুরম মধুময় মনোহর
কলহেরি কূলে রহে অভিমান-মধু যে, চেন নাকি বঁধু হে —
রাগের মাঝে রহে অনুরাগ-মধু যে, দেখ নাকি বঁধু হে —
কলঙ্কী বলে গগনের চাঁদ প্রতি দিন ক্ষয় হয়
তুমি নিত্য পূর্ণ চাঁদ সম প্রিয়তম চির অক্ষয়
এ চাঁদে একাদশী নাই হে —
শুধু রাধা একা দোষী হলো নিত্য কেন পায় না
মোর কৃষ্ণ চাঁদে যে একাদশী নাই হে —
সেই ব্রজগোপীদের ঘর আছে পর আছে
কৃষ্ণ বিনা নাই রাধার কেহ
আমিও জানি যেন আমাও শ্রীকৃষ্ণ কেবল রাধাময় দেহ।
সে রাধা প্রেমে বাঁধা সে রাধা ছাড়া জানে না, রাধাময় দেহ
সে রাধা প্রেমে বাঁধা।

বাণী

আমার উমা কই গিরিরাজ, কোথায় আমার নন্দিনী।
এ যে দেবী দশভুজা এ কোন্ রণ-রঙ্গিণী॥
	মোর লীলাময়ী চঞ্চলারে ফেলে
	এ কোন দেবীমূর্তি নিয়ে এলে,
এ যে মহীয়সী মহামায়া বামা মহিষ-মর্দিনী॥
মোর মধুর স্নেহে জ্বালতে আগুন আন্‌লে কারে ভুল ক’রে,
এরে কোলে নিতে হয় না সাহস ডাকতে নারি নাম ধ’রে।
	কে এলি মা দনুজ-দলন বেশে
	কন্যারূপে মা ব’লে ডাক হেসে হেসে,
তুই চিরকাল যে দুলালী মোর মাতৃস্নেহে বন্দিনী॥

বাণী

আমরা পানের নেশার পাগল, লাল শারাবে ভর গেলাস
পান-বেহুশে আয় রেখে ঐ সাকির বিলোল্ আঁখির পাশ।।
চাঁদ পিয়ালায় রবির কিরণ ঢালার মতো শারাব ঢাল,
ছায় না যেন দিনের আনন কস্তূরী-কেশ খোঁপার ফাঁস।।
শারাবখানার সদর-ঘরে বসো খানিক ধর্মাধিপ,
এই আনন্দ-ধারায় নেয়ে নাও ধুয়ে সব পাপের রাশ।।
মোমের বাতির মতো, সুফী কেঁদে গলাও আপনাকে!
এই বিষাদ এই ব্যথার পারে দাও আনন্দ ভর্‌-আকাশ।।
নূতন দিনের বধূ যদি আসে তোমার, খোশ-নসিব!
যৌতুক তায় দিও লিখে হাফিজের এই প্রেম-বিলাস।।

বাণী

আমি	কুল ছেড়ে চলিলাম ভেসে বলিস ননদীরে সই, বলিস ননদীরে।
	শ্রীকৃষ্ণ নামের তরণীতে প্রেম-যমুনার তীরে বলিস ননদীরে
				সই, বলিস্‌ ননদীরে।।
	সংসারে মোর মন ছিল না, তবু মানের দায়ে
আমি	ঘর করেছি সংসারেরি শিকল বেঁধে পায়ে
	শিক্‌লি-কাটা পাখি কি আর পিঞ্জরে সই ফিরে।।
	বলিস গিয়ে কৃষ্ণ নামের কলসি বেঁধে গলে
	হডুবেছে রাই কলঙ্কিনী কালিদহের জলে।
	কলঙ্কেরই পাল তুলে সই, চললেম অকূল-পানে
	নদী কি সই, থাকতে পারে সাগর যখন টানে।
	রেখে গেলাম এই গোকুলে কুলের বৌ-ঝিরে।।

বাণী

আমায় নহে গো – ভালবাস শুধু ভালবাস মোর গান।
বনের পাখিরে কে চিনে রাখে গান হ’লে অবসান।।
চাঁদেরে কে চায় – জোছনা সবাই যাচে,
গীত শেষে বীণা প’ড়ে থাকে ধূলি মাঝে;
তুমি বুঝিবে না বুঝিবে না —
আলো দিতে পোড়ে কত প্রদীপের প্রাণ।।
যে কাঁটা-লতার আঁখি-জল, হায়, ফুল হ’য়ে ওঠে ফুটে —
ফুল নিয়ে তায় দিয়েছ কি কিছু শূন্য পত্র-পুটে!
সবাই তৃষ্ণা মিটায় নদীর জলে,
কী তৃষা জাগে সে নদীর হিয়া-তলে —
বেদনার মহাসাগরের কাছে কর সন্ধান।।