বাণী

ভোরের হাওয়া এলে ঘুম ভাঙাতে কি
		চুম হেনে নয়ন-পাতে।
ঝিরি ঝিরি ধীরি ধীরি কুণ্ঠিত ভাষা
		গুণ্ঠিতারে শুনাতে॥
হিম-শিশিরে মাজি’ তনুখানি
ফুল-অঞ্জলি আন ভরি’ দুই পাণি,
ফুলে ফুলে ধরা যেন ভরা ফুলদানি
		বিশ্ব-সুষমা সভাতে॥

বাণী

ভারত শ্মশান হ’ল মা, তুই শ্মশানবাসিনী ব’লে।
জীবন্ত-শব নিত্য মোরা, চিতাগ্নিতে মরি জ্ব’লে।।
আজ হিমালয় হিমে ভরা,
দারিদ্র্য-শোক-ব্যাধি-জরা,
নাই যৌবন, যেদিন হতে শক্তিময়ী গেছিস্ চ’লে।।
(মা) ছিন্নমস্তা হয়েছিস্ তাই হানাহানি হয় ভারতে,
নিত্য-আনন্দিনী, কেন টানিস্ নিরানন্দ পথে?
শিব-সীমন্তিনী বেশে
খেল্ মা আবার হেসে হেসে,
ভারত মহাভারত হবে, আয় মা ফিরে মায়ের কোলে।।

বাণী

ভাদরের ভরা নদীতে ভাসায়ে কেতকী পাতার তরণী কে আসে গো।
বলাকার রঙ পালক কুড়ায়ে বাহি-ছায়া-পথ-সরণী কে আসে গো।।
		দলি শাপলা শালুক শতদল
		আসে রাঙায়ে কাহার পদতল,
নীল লাবনি ঝরায়ে ঢলঢল — ভরাইয়া সারা ধরণী কে আসে গো।।
		মৃদু মধুর মধুর হাসিয়া
		সমীরণ সম ভাসিয়া,
আসে কারে ভালোবাসিয়া — বলো কার মনোহরণী কে আসে গো।

বাণী

ভোরে ঝিলের জলে শালুক-পদ্ম তোলে কে
		ভ্রমর-কুন্তলা কিশোরী
ফুল দেখে বেভুল সিনান বিসরি’।।
একি নূতন লীলা আঁখিতে দেখি ভুল
কমল ফুল যেন তোলে কমল ফুল
ভাসায়ে আকাশ-গাঙে অরুণ-গাগরি।।
ঝিলের নিথর জলে আবেশে ঢল ঢল
গ’লে পড়ে শত সে তরঙ্গে,
শারদ-আকাশে দলে দলে আসে
মেঘ, বলাকার খেলিতে সঙ্গে।
আলোক-মঞ্জরি প্রভাত বেলা
বিকশি’ জলে কি গো করিছে খেলা
বুকের আঁচলে ফুল উঠিছে শিহরি’।।

বাণী

ভাঙা মন (আর) জোড়া নাহি যায়
ওগো ঝরা ফুল আর ফেরে না শাখায়।।
	শীতের হাওয়ায় তুষার হয়ে
	গলি' খরতাপে বারি যায় ব'য়ে
গলে নাক' আর হৃদয়-তুষার এ উষ্ণ ছোঁওয়ায় ।।
	গাঁথি' ফুলমালা নাহি দিয়া গলে
	শুকালে নিঠুর তব মুঠি-তলে,
হাসিবে না সে ফুল শত আঁখি-জলে আর সে শোভায়।
	স্রোতের সলিলে
	যে বাঁধ বাঁধিলে
ভাঙিয়ে সে বাঁধ তোমারে ভাসায়।।

বাণী

ভুলিতে পারিনে তাই আসিয়াছি পথ ভুলি’।
ভোল মোর সে অপরাধ, আজি যে লগ্ন গোধূলি।।
এমনি রঙিন বেলায় খেলেছি তোমায় আমায়,
খুঁজিতে এসেছি তাই সেই পুরানো দিনগুলি।।
তুমি যে গেছ ভুলে – ছিল না আমার মনে,
তাই আসিয়াছি তব বেড়া–দেওয়া ফুলবনে।
গেঁথেছি কতই মালা এই বাগানের ফুল তুলি’—
আজও সেথা গাহে গান আমার পোষা বুলবুলি।।