দাদ্‌রা

  • অন্ধকারের তীর্থপথে ভাসিয়ে দিলাম

    বাণী

    অন্ধকারের তীর্থপথে ভাসিয়ে দিলাম নামের তরী
    মায়া মোহের ঝড় বাদলে এবার আমি ভয় না করি।
    	যে নাম লেখা তারায় তারায়
    	যে নাম ঝরে অশ্রুধারায়
    যাত্রা শুরু সেই নামেরি জপমালা বক্ষে ধরি।।
    এই আঁধারের অন্তরালে লক্ষ রবি চন্দ্র জ্বলে
    নিত্য ফোটে আলোর কমল জানি তোমার চরণ তলে।
    	এবার ওগো অশিব নাশন
    	থামাও তোমার ঢেউর নাচন
    সেই ত অমর মরণ যদি ধ্যান সাগরে ডুবে মরি।।
    
  • আগুন জ্বালাতে আসিনি গো আমি

    বাণী

    আগুন জ্বালাতে আসিনি গো আমি এসেছি দেয়ালি জ্বালাতে
    শুধু ক্রন্দন হয়ে আসিনি এসেছি চন্দন হতে থালাতে॥
    	ধরায় আবার আসিয়াছি প্রিয়া
    	তব মুখখানি দেখিব বলিয়া
    তাই	প্রদীপ হইয়া নীরবে পুড়ি তোমারই বরণ ডালাতে॥
    তব	মিলন বাসরে ঘুম ভাঙাইতে আসিনি
    	তুমি কেন লাজে ওঠো আকুলি
    তব	রাঙা মুখখানি রাঙাইয়া যাব চলে গো
    	আমি সাঁঝের ক্ষণিক গোধূলি।
    তব কাজল নয়ন-পল্লব ছায়ে, অশ্রুর মত রহিব লুকায়ে
    ঝরিতে এসেছি ফুল হয়ে আমি তোমার বুকের মালাতে॥
    
  • আজ সকালে সূর্য ওঠা সফল হলো মম

    বাণী

    আজ সকালে সূর্য ওঠা সফল হলো মম
    ঘরে এলে ফিরে পরবাসী প্রিয়তম।।
    	আজ প্রভাতের কুসুমগুলি
    	সফল হলো ডালায় তুলি'
    সাজির ফুলে আজ এ মালা হবে অনুপম।।
    এতদিনে সুখের হলো প্রভাতী শুকতারা
    ললাটে মোর সিঁদুর দিলো ঊষার রঙের ধারা।
    	আজকে সকল কাজের মাঝে
    	আনন্দেরই বীনা বাজে
    দেবতার বর পেয়েছি আজ তপস্বিনীর সম।।
    
  • আজি আকাশ মধুর বাতাস মধুর

    বাণী

    আজি আকাশ মধুর বাতাস মধুর, মধুর গানের সুর
    			আজি ভুবন লাগে মধুর।
    পরানের কাছে যেন আসিয়াছে হারানো প্রিয়া সুদূর।।
    	একি মাধুরী জড়িত লতায় পাতায়,
    	যাহা হেরি তাই পরান মাতায়,
    অবনি ভরিয়া ঝরিছে লাবনি মাধুরীতে ভরপুর।।
    আগেও ফুটেছে এ গাঁয়ের মাঠে পথপাশে ভাঁটফুল,
    এই পথ বেয়ে জলে যেত বধূ পিঠভরা এলোচুল।
    	আজ মনে হয় নতুন সকলি
    	মধুময় লাগে বিহগ কাকলি
    আজি অকারণ নেচে ফেরে মন যেন বনের ময়ূর।।
    
  • আজি গানে গানে ঢাক্‌ব আমার

    বাণী

    আজি		গানে গানে ঢাক্‌ব আমার গভীর অভিমান।
    		কাঁটার ঘায়ে কুসুম ক’রে ফোটাব মোর প্রাণ।।
    			ভুলতে তোমার অবহেলা
    			গান গেয়ে মোর কাট্‌বে বেলা,
    		আঘাত যত হান্‌বে বীণায় উঠ্‌বে তত তান।।
    			ছিড়লে যে ফুল মনের ভুলে
    			আমি গাঁথব মালা সেই ফুলে,
    (ওগো)		আস্‌বে যখন বন্ধু তোমার কর্‌ব তা’রে দান।।
    (আজি)		কথায় কথায় মিলায়ে মিল
    		কবি রে, তোর ভরল কি দিল্‌,
    তোর		শূন্য হিয়া, শূন্য নিখিল মিল পেল না প্রাণ।।
    
  • আমায় আর কতদিন মহামায়া

    বাণী

    (আমায়)		আর কতদিন মহামায়া রাখ্‌বি মায়ার ঘোরে।
    (মোরে)		কেন মায়ার ঘূর্ণিপাকে ফেল্‌লি এমন করে।।
    		(ওমা) কত জনম করেছি পাপ
    			কত লোকের কুড়িয়েছি শাপ,
    		তবু মা তার নাই কি গো মাফ ভুগব চিরতরে।।
    		এমনি ক’রে সন্তানে তোর ফেল্‌লি মা অকূলে,
    		তোর নাম যে জপমালা তাও যাই হায় ভুলে’।
    			পাছে মা তোর কাছে আসি
    		তাই	বাঁধন দিলি রাশি রাশি,
    কবে		মুক্ত হ’ব মুক্তকেশী (তোর) অভয় চরণ ধ’রে।।
    
  • আমার কোন কুলে আজ ভিড়লো তরী

    বাণী

    আমার	কোন্‌ কূলে আজ ভিড়লো তরী
    			এ কোন সোনার গাঁয়
    আমার	ভাটির তরী আবার কেন
    			উজান যেতে চায়
    		তরী	উজান যেতে চায়
    	কোন কূলে মোর ভিড়লো তরী
    	এ কোন্‌ সোনার গাঁয়।।
    আমার	দুঃখেরে কান্ডারী করি’
    আমি	ভাসিয়েছিলাম ভাঙা তরী
    তুমি	ডাক দিলে কে স্বপন–পরী
    			নয়ন ইশারায়।।১
    	নিভিয়ে দিয়ে ঘরের বাতি
    	ডেকেছিলে ঝড়ের রাতি
    তুমি	কে এলে মোর সুরের সাথী গানের কিনারায়।
    তুমি 	কে এলে? ওগো কে এলে মোর সুরের সাথী
    			গানের কিনারায়?
    	সোনার দেশের সোনার মেয়ে,
    ওগো তুমি	হবে কি মোর তরীর নেয়ে,
    	ভাঙ্গা তরী চলো বেয়ে রাঙা অলকায়।।
    

    ১. ‘অন্তরা’ অংশ গ্রামোফোন রেকর্ডে গাওয়া হয়নি।

  • আমার বুকের ভেতর জ্বলছে আগুন

    বাণী

    আমার বুকের ভেতর জ্বলছে আগুন, দমকল ডাক ওলো সই।
    শিগ্‌গির ফোন কর বঁধুরে, নইলে পুড়ে ভস্ম হই॥
    	অনুরাগ দিশ্‌লাই নিয়ে
    	চোখের লম্প জ্বালতে গিয়ে,
    আমার প্রাণের খোড়ো ঘরে লাগল আগুন ওই লো ওই॥
    	প্রেমের কেরোসিন যে এত
    	অল্পে জ্বলে জানিনে তো,
    কি দাবানল জ্বলছে বুকে জানবে না কেউ আমা বই॥
    	প্রণয় প্রীতির তোষক গদি
    	রক্ষে করতে চায় সে যদি
    মনে ক’রে আনতে বলিস (তারে) আদর সোহাগ বালতি মই॥
    
  • আমার মা আছে রে সকল নামে

    বাণী

    (আমার)	মা আছে রে সকল নামে মা যে আমার সর্বনাম।
    	যে নামে ডাক শ্যামা মাকে পুর্‌বে তাতেই মনস্কাম।।
    		ভালোবেসে আমার শ্যামা মাকে
    		যার যাহা সাধ সেই নামে সে ডাকে,
    	সেই নামে মা দেয় রে সাড়া১ কেউ শ্যামা কয়, কেহ শ্যাম।।
    	এক সাগরে মিশে গিয়ে সকল নামের নদী,
    	সেই হরি হর কৃষ্ণ ও রাম, দেখিস্ তাঁকে যদি।
    		নিরাকারা সাকারা সে কভু
    		সকল জাতির উপাস্য সে প্রভু,
    	নয় সে নারী নয় সে পুরুষ, সর্বলোকে তাঁহার ধাম।।
    

    ১. দেয় রে ধরা।

  • আমি গগন গহনে সন্ধ্যা-তারা

    বাণী

    আমি	গগন গহনে সন্ধ্যা-তারা
    	কনক গাঁদার ফুল গো।
    	গোধূলির শেষে হেসে উঠি আমি
    	এক নিমেষের ভুল গো।
    আমি	কণিকা,
    আমি	সাঁঝের অধরে ম্লান আনন্দ-কণিকা
    আমি	অভিমানিনীর খুলে ফেলে দেওয়া মণিকা
    আমি	দেব-কুমারীর দুল গো।।
    	আলতা রাখার পাত্র আমার আধখানা চাঁদ ভাঙা
    	তাহারি রং গড়িয়ে পরে (ঐ) অস্ত-আকাশ রাঙা।
    আমি	একমুঠো আলো কৃষ্ণা-সাঁঝের হাতে
    আমি	নিবেদিত ফুল আকাশ-নদীতে রাতে
    	ভাসিয়া বেড়াই যাঁর উদ্দেশে গো
    	তার পাই না চরণ-মূল।।
    
  • আমি ভাই ক্ষ্যাপা বাউল

    বাণী

    আমি ভাই ক্ষ্যাপা বাউল, আমার দেউল আমারি এই আপন দেহ।
    আমার এ প্রাণের ঠাকুর নহে সুদূর অন্তরে মন্দির-গেহ।।
    সে থাকে সকল সুখে সকল দুখে আমার বুকে অহরহ,
    কভু তায় প্রণাম করি, বক্ষে ধরি, কভু তা’রে বিলাই স্নেহ।।
    ভুলায়নি আমারি কুল, ভুলেছে নিজেও সে কুল,
    ভুলে বৃন্দাবন গোকুল মোর সাথে মিলন বিরহ।
    সে আমার ভিক্ষা-ঝুলি কাঁধে তুলি’, চলে ধূলি-মলিন পথে,
    নাচে গায় আমার সাথে একতারাতে, কেউ বোঝে, বোঝে না কেহ।।
    
  • আমি মুক্তা নিতে আসিনি মা

    বাণী

    (মা)	আমি, মুক্তা নিতে আসিনি মা ও মা তোর মুক্তি-সাগর কূলে।
    	মোর ভিক্ষা-ঝুলি হ’তে মায়ার মুক্তা মানিক নে মা তুলে।।
    		মা তুই, সবই জানিস অন্তর্যামী,
    		সেই চরণ-প্রসাদ ভিক্ষু আমি,
    	শবেরও হয় শিবত্ব লাভ মা তোর যে চরণ ছুঁলে।।
    	তুই অর্থ দিয়ে কেন ভুলাস এই পরমার্থ ভিখারিরে,
    	তোর প্রসাদী ফুল পাই যদি মা গঙ্গা ধারাও চাই না শিরে।
    		তোর শক্তিমন্ত্রে শক্তিময়ী
    		আমি হতে পারি ব্রহ্ম-জয়ী
    	সেই মাতৃনামের মহাভিক্ষু তোর মায়াতেও নাহি ভুলে।।
    
  • আমি সুন্দর নহি জানি হে বন্ধু জানি

    বাণী

    আমি	সুন্দর নহি জানি হে বন্ধু জানি
    তুমি	সুন্দর, তব গান গেয়ে নিজেরে ধন্য মানি।।
    		আসিয়াছি সুন্দর ধরণীতে
    		সুন্দর যারা তাদেরে দেখিতে
    	রূপ-সুন্দর দেবতার পায় অঞ্জলি দেই বাণী।।
    	রূপের তীর্থে তীর্থ-পথিক যুগে যুগে আমি আসি'
    	ওগো সুন্দর বাজাইয়া যাই তোমার নামের বাশিঁ।
    		পরিয়া তোমার রূপ-অঞ্জন
    		ভুলেছে নয়ন রাঙিয়াছে মন
    	উছলি' উঠুক মোর সঙ্গীতে সেই আনন্দখানি।।
    
  • আর কত দুখ্ দেবে বল মাধব বল

    বাণী

    আর কত দুখ্ দেবে, বল মাধব বল বল মাধব বল।
    দুখ্ দিয়ে যদি সুখ পাও তুমি কেন আঁখি ছলছল॥
    	তব শ্রীচরণ তলে আমি চাহি ঠাঁই,
    	তুমি কেন ঠেল বাহিরে সদাই;
    আমি কি এতই ভার এ জগতে যে, পাষাণ তুমিও টল॥
    ক্ষুদ্র মানুষ অপরাধ ভোলে তুমি নাকি ভগবান,
    তোমার চেয়ে কি পাপ বেশি হ’ল (মোরে) দিলে না চরণে স্থান।
    	হে নারায়ণ! আমি নারায়ণী সেনা,
    	মোরে কুরুকুল দিতে ব্যথা কি বাজে না,
    (যদি) চার হাতে মেরে সাধ নাহি মেটে দু’চরণ দিয়ে দ’ল॥
    
  • উচাটন মন ঘরে রয় না

    বাণী

    (পিয়া মোর) উচাটন মন ঘরে রয় না।
    (পিয়া মোর) ডাকে পথে বাঁকা তব নয়না।।
    	ত্যজিয়া লোক-লাজ
    	সুখ-সাধ গৃহ-কাজ,
    (প্রিয়া মোর) নিজ গৃহে বনবাস সয়না।।
    	লইয়া স্মৃতির লেখা
    	কত আর কাঁদি একা,
    (পিয়া মোর) ফুল গেলে কাঁটা কেন যায় না।।
    
  • এত কথা কি গো কহিতে জানে

    বাণী

    এত কথা কি গো কহিতে জানে
    		চঞ্চল ঐ আঁখি
    নীরব ভাষায় কি যে ক'য়ে যায়
    	ও সে মনের বনের পাখি।।
    বুঝিতে পারি না ঐ আঁখির ভাষা
    জলে ডুবে তবু মেটে না পিপাসা,
    আদর সোহাগ প্রেম ভালোবাসা
    	অভিমান মাখামাখি।।
    মুদিত কমলে ভ্রমরেরি প্রায়
    বন্দী হইয়া কাঁদিয়া বেড়ায়
    চাহিয়া চাহিয়া মিনতি জানায়
    	সুনীল আকাশে ডাকি'।।

  • এবার নবীন-মন্ত্রে হবে জননী তোর উদ্বোধন

    বাণী

    এবার	নবীন-মন্ত্রে হবে জননী তোর উদ্বোধন।
    	নিত্যা হয়ে রইবি ঘরে, হবে না তোর বিসর্জন।।
    	সকল জাতির পুরুষ-নারীর প্রাণ
    	সেই হবে তোর পূজা-বেদী মা তোর পীঠস্থান:
    সেথা	শক্তি দিয়ে ভক্তি দিয়ে পাতবে মা তোর সিংহাসন।।
    সেথা	রইবে নাকো ছোয়াছুয়ি উচ্চ-নীচের ভেদ,
    	সবাই মিলে উচ্চারির মাতৃ-নামের বেদ।
    মোরা	এক জননীর সন্তান সব জানি,
    	ভাঙব দেয়াল, ভুলব হানাহানি
    	দীন-দরিদ্র রইবে না কেউ সমান হবে সর্বজন,
    	বিশ্ব হবে মহাভারত, নিত্য-প্রেমের বৃন্দাবন।।
    
  • এলো ঐ পূর্ণ শশী ফুল-জাগানো

    বাণী

    এলো ঐ		পূর্ণ শশী		ফুল-জাগানো
    বহে বায়		বকুল-বনে		ঘুম-ভাঙানো।।
    লাগিল		জাফরানি-রঙ	শিউলি-ফুলে
    ফুটিল			প্রেমের কুঁড়ি		পাপড়ি খুলে,
    খুশির আজ		আমেজ জাগে	মন-রাঙানো।।
    চাঁদিনী		ঝিলমিলায়		ঝিলের জলে,
    আবেশে		শাপলা ফুলের	মৃণাল টলে,
    জাগে ঢেউ		দীঘির বুকে		দোল-লাগানো।।
    এসো আজ		স্বপন-কুমার		নিরিবিলি
    খুলিয়া		গোপন প্রাণের	ঝিলিমিলি,
    এসো মোর		হতাশ প্রাণে		ভুল-ভাঙানো।।
    
  • এসো চির-জনমের সাথি

    বাণী

    এসো চির-জনমের সাথি।
    তোমারে খুঁজেছি দূর আকাশে জ্বালায়ে চাঁদের বাতি।।
    	খুঁজেছি প্রভাতে গোধূলি-লগনে
    	মেঘ হয়ে আমি খুঁজেছি গগনে,
    ঢেকেছে ধরণী আমার কাঁদনে অসীম তিমির রাতি।।
    ফুল হয়ে আছে লতায় জড়ায়ে মোর অশ্রুর স্মৃতি,
    বেণু বনে বাজে বাদল-নিশীথে আমারি করুণ-গীতি।
    	শত জনমের মুকুল ঝরায়ে
    	ধরা দিতে এলে আজি মধু-বায়ে,
    ব’সে আছি আশা-বকুলের ছায়ে বরণের মালা গাঁথি’।।
    
  • ও মা বক্ষে ধরেন শিব যে চরণ

    বাণী

    ও মা	বক্ষে ধরেন শিব যে চরণ শরণ নিলাম সেই চরণে
    	জীবন আমার ধন্য হলো ভয় নাই মা আর মরণে।।
    		যা ছিল মা মোর ত্রিলোকে
    		তোকে দিলাম, দিলাম তোকে
    	আমার ব’লে রইল শুধু তোর চরণের ধ্যান, এ মনে।।
    তোর	কেশ নাকি মা মুক্ত হলো ছুঁয়ে তোর ওই রাঙা চরণ
    	মুক্তকেশী, মুক্ত হবো ওই চরণে নিয়ে শরণ।
    	তোর	চরণ-চিহ্ন বক্ষে এঁকে
    		বিশ্বজনে বলবো ডেকে — মা
    	‘দেখে যা কোন্ রত্ন রাজে আমার হৃদয়-সিংহাসনে’।।