বাণী

আমি	নামের নেশায় শিশুর মতো ডাকি গো মা ব'লে
	নাই দিলি তুই সাড়া মা গো নাই নিলি তুই কোলে।।
		শুনলে 'মা' নাম জেগে উঠি
		ব্যাকুল হয়ে বাইরে ছুটি
মাগো	ঐ নামে মোর নয়ন দু'টি ভ'রে ওঠে জলে।।
	ও নাম আমার মুখের বুলি ও নাম খেলার সাথি
	ও নাম বুকে জড়িয়ে ধ'রে পোহাই দুখের রাতি।
		মা হারানো শিশুর মতো
		যপি ও নাম অবিরত
মা	ঐ নামের মন্ত্র আমার বুকে কবচ হয়ে দোলে।।

বাণী

	আমি জানি তব মন বুঝি তব ভাষা
	তব কঠিন হিয়ার তলে জাগে কি গভীর ভালোবাসা।।
	ওগো উদাসীন! আমি জানি তব ব্যথা
	আহত পাখির বুকে বাণ বিধেঁ কোথা
	কোন অভিমান ভুলিয়াছ তুমি ভালোবাসিবার আশা।।
তুমি	কেন হানো অবহেলা অকারন আপনাকে,
প্রিয়	যে হৃদয়ে বিষ থাকে সে হৃদয়ে অমৃত থাকে।
	তব যে বুকে জাগে প্রলয় ঝড়ের জ্বালা
	আমি দেখেছি যে সেথা সজল মেঘের মালা
ওগো	ক্ষুধাতুর আমারে আহুতি দিলে
	মিটিবে কি তব পরানের পিপাসা।।

বাণী

	আমি চাঁদ নহি, চাঁদ নহি অভিশাপ
	শূন্য হৃদয়ে আজো নিরাশায় আকাশে করি বিলাপ।।
		শত জনমের অপূর্ণ সাধ ল'য়ে
আমি	গগনে কাদিঁ গো ভুবনের চাঁদ হয়ে
	জোছনা হইয়া ঝরে গো আমার অশ্রু বিরহ-তাপ।।
	কলঙ্কহয়ে বুকে দোলে মোর তোমার স্মৃতির ছায়া
	এত জোছনায় ঢাকিতে পারিনি তোমার মধুর মায়া।
		কোন সে সাগর মন্থন শেষে মোরে
		জড়াইয়া যেন উঠেছিলে প্রেমভরে
হায়	তুমি গেছ চলে বুকে তবু দোলে তব অঙ্গের ছাপ।।

বাণী

আমি আছি  ব'লে দুখ পাও তুমি তাই আমি যাব চ'লে
এবার ঘুমাও প্রদীপের কাজ শেষ হয়ে গেছে জ্ব'লে।।
	আর আসিবে না কোন অশান্তি
	আর আসিবে না ভয়ের ভ্রান্তি
আর ভাঙিব না ঘুম নিশীথে গো 'জাগো প্রিয়া জাগো' বলে।।
হয়তো আবার সুদূর শূন্য আকাশে বাজিবে বাশিঁ,
গোপী-চন্দন গন্ধ আসিবে বাতায়ন পথে ভাসি'।
	চম্পার ডালে বিরহী পাপিয়া
	'পিয়া পিয়া' বলে উঠিবে ডাকিয়া
বৃন্দাবন কি ভাসিবে (আসিবে) সেদিন রোদন-যমুনা জলে।।

বাণী

আমার সকল আকাশ ভ'রলো তোমার তনুর কমল-গন্ধে
আমার বন-ভবন ঘিরল মধুর কৃষ্ণ-মকরন্দে।।
	এলামেলো মলয় বহে
	বন্ধু এলো, এলো কহে
উজ্জ্বল হ'ল আমার ভুবন তোমার মুখ-চন্ধে।।
আমার দেহ-বীণায় বাজে তোমার চরণ-নূপুর-ছন্দ
সকল কাজে জাগে শুধু অধীর আনন্দ।
	আমার বুকের সুখের মাঝে
	তোমার উদাস বেণু বাজে
তোমার ছোওয়ায় আবেশ জাগে ব্যাকুল বেণীর বন্ধে।।

বাণী

	আমার মালায় লাগুক তোমার মধুর হাতের ছোঁওয়া
	ঘিরুক তোমায় মোর আরতি পূজা-ধূপের ধোঁওয়া।।
		পূজায় ব'সে দেব-দেউলে
		তোমায় দেখি মনের ভুলে
প্রিয়	তুমি নিলে আমার পূজা হবে তারই লওয়া
		হবে দেবতারই লওয়া।।
		তুমি যেদিন প্রসন্ন হও ঠাকুর চাহেন হেসে
	কাঁদলে তুমি, বুকে আমার দেবতা কাদেঁন এসে।
		আমি অন্ধকারে ঠাকুর পুজে
		ঘরের মাঝে পেলাম খুজেঁ
	সে যে তুমি, আমার চির অবহেলা-সওয়া।।