বাণী

ও কে	নাচের ঠমকে দাঁড়ালো থমকে সহসা চমকে পথে
	যেন তার নাম ধ'রে ডাকিল কে বাঁশের বাঁশিতে
		মাঠে ওপার হতে।
তার	হঠাৎ থেমে যাওয়া দেহ দোদুল
	নাচের তালে যেন ছন্দের ভুল
	সে রহে চাহি' অনিমেষে পটে আঁকা ছবিতুল
	গেছে হারায়ে সে যেন কোন জগতে।।
তার	ঘুম জড়িত চোখে জাগালো কী নতুন ঘোর
	অকরুণ বাঁশির কিশোর;
	উদাসী মুরতি প্রভাতী রাগিণী কাননে যেন
	এলো নামিয়া অরুণ-কিরণ রথে।।

বাণী

শ্মশানে জাগিছে শ্যামা
	অন্তিমে সন্তানে নিতে কোলে
জননী শান্তিময়ী বসিয়া আছে ঐ
	চিতার আগুণ ঢেকে স্নেহ–আঁচলে।
সন্তানে দিতে কোল ছাড়ি’ সুখ কৈলাস
বরাভয় রূপে মা শ্মশানে করেন বাস,
কি ভয় শ্মশানে শান্তিতে যেখানে
	ঘুমাবি জননীর চরণ–তলে।।
জ্বলিয়া মরিলি কে সংসার জ্বালায়
তাহারে ডাকিছে মা ‘কোলে আয়, কোলে আয়’
জীবনে শ্রান্ত ওরে ঘুম পাড়াইতে তোরে
	কোলে তুলে নেয় মা মরণেরি ছলে।।

বাণী

আমিনা-দুলাল নাচে হালিমার কোলে
তালে তালে সোনার বুকে সোনার তাবিজ দোলে।।
সে কাঁদিলে মুক্তা ঝরে হাসলে ঝরে মানিক
	ঈদের চাঁদে লেগে আছে সেই খুশির খানিক।
তাঁর কচি মুখে খোদার কালাম আধো আধো বলে।।
	দেখেছিল লুকিয়ে সে নাচ কোটি গ্রহতারা
	আসমানে তাই ঘোরে তারা আজো দিশাহারা
সেদিন নেচেছিল বিশ্বভুবন ইয়া মোহাম্মদ ব’লে।।
	কোরানের আয়াতে লেখা সেই নাচেরই ছন্দ
	তকবীরের ধ্বনিতে বাজে তাহারি আনন্দ
আমি থাকলে সেদিন হতাম ধূলি তাঁহার পায়ের তলে।।

বাণী

	জরীন হরফে লেখা
	রূপালি হরফে লেখা
(নীল)	আসমানের কোরআন।
সেথা	তারায় তারায় খোদার কালাম
(তোরা)	পড়, রে মুসলমান
নীল	আসমানের কোরআন।।
	সেথা ঈদের চাঁদে লেখা
	মোহাম্মদের ‘মীম’-এর রেখা,
সুরুযেরই বাতি জ্বেলে’ পড়ে রেজোয়ান।।
খোদার আরশ লুকিয়ে আছে ঐ কোরআনের মাঝে,
খোঁজে ফকির-দরবেশ সেই আরশ সকাল-সাঁঝে।
	খোদার দিদার চাস রে, যদি
	পড় এ কোরআন নিরবধি;
খোদার নুরের রওশনীতে রাঙ রে দেহ-প্রাণ।।

বাণী

তব মুখখানি খুঁজিয়া ফিরি গো সকল ফুলের মুখে
ফুল ঝ'রে যায় তব স্মৃতি জাগে কাঁটার মতন বুকে।।
	তব প্রিয় নাম ধ'রে ডাকি
	ফুল সাড়া দেয় মেলি' আঁখি
তোমার নয়ন ফুটিল না হায় ফুলের মতন সুখে।।
তোমার বিরহে আমার ভুবনে ওঠে রোদনের বাণী,
কানাকানি করে চাঁদ ও তারায় জানি গো তোমারে জানি।
	খুঁজি বিজলি প্রদীপ জ্বেলে'
	কাঁদি ঝঞ্ঝার পাখা মেলে'
অন্ধ-গগনে আঁধার মেঘের ঢেউ ওঠে মোর দুখে।।

বাণী

শঙ্কর অঙ্গলীনা যোগ মায়া শঙ্করী শিবানী।
বালিকা-সম লীলাময়ী নীল-উৎপল-পাণি।।
	সজল-কাজল-ঝর্না
	মুকত বেণী অপর্ণা,
তিমির বিভাবরী স্নিগ্ধা শ্যামা কালিকা ভবানী।।
প্রলয় ছন্দময়ী চন্ডী শব্দ-নূপুর-চরণা,
শাম্ভবী শিব-সীমন্তিনী শঙ্করাভরণা।
	অম্বিকা দুঃখহারিণী
	শরণাগত-তারিণী,
জগদ্ধাত্রী শান্তিদাত্রী প্রসীদ মা ঈশানী।।