বাণী

প্রাণে জাগে হিন্দোল গানে জাগে হিল্লোল,
প্রেমের চামেলি বনে জাগিল মুকুল্।
মনের গোপন রাগে রঙিন স্বপন জাগে,
ফুল-ভরা গুল্‌বাগে বুলে বুল্‌বুল্‌।।
রূপে ধরা ঝলমল্ রসে ভরা টলমল্,
ঢলো ঢলো অনুরাগে আঁখি ঢুলুঢুল্।
পাপিয়ার কলগানে কোকিলের কুহুতানে,
যৌবনে মৌবনে দিল্ মস্‌গুল।।

রেকর্ড নাটিকাঃ কাফন-চোরা

বাণী

পিউ পিউ পিউ বোলে পাপিয়া
বুকে তারি পিয়ারে চাপিয়া।।
বাতাবি নেবুর ফুলেলা কুঞ্জে
মাতাল সমীরণ প্রলাপ গুঞ্জে
ফুলের মহলায় চাঁদিনী শিহরায়
নদীকূলে ঢেউ ওঠে ছাপিয়া।।
এমনি নেবু ফুল এমনি মধুরাতে
পরাতো বঁধু মোর বিনোদ খোঁপাতে,
বাতায়নে পাখি করিত ডাকাডাকি
মনে পড়ে তায় উঠি কাঁপিয়া।।

বাণী

পান্‌সে জোছ্‌নাতে কে			চল গো পানসি বেয়ে’।
ঢেউ-এর তালে তালে			বাঁশিতে গজল গেয়ে’।।
মেঘের ফাঁকে ফোটে			বাঁকা শশীর চিকন হাসি,
উজান বেয়ে চল			তুমি কি তার চোখে চেয়ে।।
ও-পারে লুকায়ে আঁধার		গভীর ঘন বন-ছায়,
আকাশে হেলান দিয়ে			আলসে পাহাড় ঘুমায়।
ঘুমায়ে দূরে সে কোন গ্রাম		বাসরে পল্লী-বধূর প্রায়
এ-পারে ধূ-ধূ বালুচর			যেন নদীর আঁচল লুটায়।
ছাড়ি’ এ সুখ-বাস			চলেছ কোথায় গো নেয়ে।।
নদীর দু’তীরে টানে			বেতস-লতা উত্তরীয়,
চমকি’ উঠি’ চখি			ডাকে মুহু মুহু ‘কিও!’
চকোরী চাঁদে ভুলি’			চাহে তব মুখপানে,
কেঁদে পাপিয়া শুধায়,			‘পিউ কাঁহা, কাঁহা পিও।’
তুমি যাও আপন-বিভোল		স্বপনে নয়ন ছেয়ে’।।

বাণী

পরদেশী বঁধু! ঘুম ভাঙায়ো চুমি' আঁখি
যদি গো নিশীথে গো ঘুমাইয়া থাকি।
	আমি ঘুমাইয়া থাকি
	ঘুম ভাঙায়ো চুমি' আঁখি।।
যদি দীপ নেভে গো কুটিরে
বাতায়ন-পানে চাহি' যেয়ো না গো ফিরে',
নিভেছে আঁখি শিখা প্রাণ আছে বাকি
	আজো প্রাণ আছে বাকি
	ঘুম ভাঙায়ো চুমি' আঁখি।।

বাণী

পাপিয়া আজ কেন ডাকে সখি, পিয়া পিয়া।
শুনি’, পিয়া পিয়া বোল্‌ ঝুরিছে আমার হিয়া।।
এমনি মধুরাতি, ছিল সে মোর সাথি,
সেদিন পাপিয়া এমনি উঠিত ডাকিয়া
সে কি আজ এলো তবে, চাঁদের মত নীরবে
হাসির জোছনাতে তার দশদিশি রাঙাইয়া।।

নাটকঃ ‘সর্বহারা’

বাণী

	পাঠাও বেহেশ্‌ত হ’তে হজরত্ পুন সাম্যের বাণী,
(আর)	দেখিতে পারি না মানুষে মানুষে এই হীন হানাহানি।।
		বলিয়া পাঠাও, হে হজরত
		যাহারা তোমার প্রিয় উম্মত,
	সকল মানুষে বাসে তা’রা ভালো খোদার সৃষ্টি জানি’ —
			সবারে খোদারই সৃষ্টি জানি।।
	আধেক পৃথিবী আনিল ঈমান (তোমার) যে উদারতা-গুণে,
	শিখিনি আমরা সে-উদারতা, (কোরানে হাদিসে) কেবলি গেলাম শুনে’।
		তোমার আদেশ অমান্য ক’রে
		লাঞ্ছিত মোরা ত্রিভুবন ভ’রে,
	আতুর মানুষে হেলা ক’রে বলি, ‘আমরা খোদারে মানি’।।