বাণী

যেদিন		রোজ হাশরে করতে বিচার তুমি হবে কাজী
		সেদিন তোমার দিদার আমি পাব কি আল্লাজী।।
		সেদিন নাকি তোমার ভীষণ কাহ্‌হার রূপ দেখে
		পীর পয়গম্বর কাঁদবে ভয়ে ‘ইয়া নফসী’ ডেকে;
		সেই সুদিনের আশায় আমি নাচি এখন থেকে।
আমি		তোমায় দেখে হাজারো বার দোজখ যেতে রাজী।
আল্লাহ 		তোমায় দেখে হাজারো বার দোজখ যেতে রাজি।।
		যেরূপে হোক বারেক যদি দেখে তোমায় কেহ
		দোজখ্‌ কি আর ছুঁতে পারে পবিত্র তাঁর দেহ।
সে 		হোক না কেন হাজার পাপী হোক না বে-নামাজী।।
		ইয়া আল্লাহ, তোমার দয়া কত তাই দেখাবে ব’লে
		রোজ-হাশরে দেখা দেবে বিচার করার ছলে, —
		প্রেমিক বিনে কে বুঝিবে তোমার এ কারসাজি।।

বাণী

যাস্‌নে মা ফিরে, যাস্‌নে জননী ধরি দুটি রাঙা পায়।
শরণাগত দীন সন্তানে ফেলি’ ধরার ধূলায় (মা) ধরি রাঙা পায়।।
(মোরা) অমর নহি মা দেবতাও নহি
	শত দুখ সহি’ ধরণীতে রহি’,
মোরা অসহায়, তাই অধিকারী মাগো তোর করুণায়।।
দিব্যশক্তি দিলি দেবতারে মৃত্যু-বিহীন প্রাণ,
তবু কেন মাগো তাহাদেরি তরে তোর এত বেশি টান?
(আজো) মরেনি অসুর মরেনি দানব
	ধরণীর বুকে নাচে তান্ডব,
সংহার নাহি করি’ সে অসুরে চলে যাস্ বিজয়ায়।।

নাটিকা: ‘বিজয়া’

বাণী

পুরুষ	:	যাও হেলে দুলে এলোচুলে কে গো বিদেশিনী
		কাহার আশে কাহার অনুরাগিনী।
স্ত্রী	:	আমি কনক চাঁপার দেশের মেয়ে
		এনু ঊষার রঙের গান গেয়ে
		আমি মল্লিকা গো পল্লীবাসিনী।
পুরুষ	:	চিনি চিনি ওই চুড়ি কাঁকনের রিনিকি রিনি
		তুমি ভোর বেলা দাও স্বপনে দেখা।
স্ত্রী	:	তোমার রঙে কবি আঁক আমারি ছবি
		তুমি দেবতা রবি আমি তব পূজারিণী।
পুরুষ	:	এসো ধরণীর দুলালী আলোর দেশে
		যথা তারার সাথে চাঁদ গোপনে মেশে
স্ত্রী	:	আনো আলোক তরী আমি যাই গো ভেসে
দ্বৈত	:	চলো যাই ধরণী ধূলির ঊর্ধে
পুরুষ	:	যথা বয় অনন্ত
স্ত্রী	:	প্রেম মন্দারিণী
পুরুষ	:	যথা বয় অনন্ত
দ্বৈত	:	প্রেম মন্দারিণী॥

বাণী

যাই গো চ'লে যাই না-দেখা লোকে
	জানিতে চির অজানায়।
নিরুদ্দেশের পথে মানস-রথে স্বপন ঘুমে
	মন যথা চ'লে যায়।।
সাগর-জলে পাতাল-তলে তিমিরে
অজানা মায়া আছে চিরদিন সে-দেশ ঘিরে —
মেঘলোক পারায়ে চাঁদের বুকে গ্রহ-তারায়।।
যাই হিমগিরি-চূড়াতে, মেরুর তুষারে,
আকাশের দ্বার খুলে' হেরিতে ঊষারে।
রামধনু ওঠে যথা পরীরা খেলে
যে-দেশ হইতে আসে এ জীবন, যেখানে হারায়।।

বাণী

যত নাহি পাই দেবতা তোমায় , তত কাঁদি আর পূঁজি।
ত্ই লুকাও ধরা নাহি দাও, ততই তোমারে খুঁজি
কত সে রূপের রঙের মায়ায়, আড়াল করিয়া রাখ আপনায়
তবু তব পানে অশান্ত মন কেন ধায় নাহি বুঝি।।
কাঁদালে যদি গো এমন করিয়া কেন প্রেম দিলে তবে
অন্তবিহীন এ লুকোচুরির শেষ হবে নাথ কবে?
সহে না হে নাথ বৃথা আসা যাওয়া-
জনমে জনমে এই পথ চাওয়া
কাঁদিয়া কাঁদিয়া ফুরায়ে গেল চোখের জলের পুঁজি।।

বাণী

		যেদিন লব বিদায় ধরা ছাড়ি প্রিয়ে।
		ধুয়ো ‘লাশ’ আমার লাল পানি দিয়ে।।
শেয়র:	শারাবী জমশেদী গজল ‘জানাজায়’ গাহিও আমার
		দিবে গোর খুঁড়িয়া মাটি খারারী ঐ শারাব-খানার!
		‘রোজ-কিয়ামতে’ তাজা উঠব জিয়ে।।
শেয়র:	এমনি পিইব শারাব ভেসে যাব তাহার স্রোতে,
		উঠিবে খুশবু শারাবের আমার ঐ গোরের পার হতে;
		টলি’ পড়বে পথিক সে নেশায় ঝিমিয়ে।।