বাণী

শেষ হ’ল মোর এ জীবনে ফুল ফোটাবার পালা।
ওগো মরণ, অর্ঘ্য লহ সেই কুসুমের ডালা।।
	কাটলো কীটে ঝরলো যে-ফুল
	শুকালো যে আশার মুকুল,
তাই দিয়ে হে মরণ তোমার গেঁথেছি আজ মালা।।
সুন্দর এই ধরণীতে কতই ছিল সাধ বাঁচিতে,
হঠাৎ তোমার বাজলো বেণু বিদায়-করুণ ভৈরবীতে।
	তোমার আঁধার-শান্ত কোলে
	শ্রান্ত তনু পড়ুক ঢ’লে,
আর সহে না কুসুম-বিহীন কন্টকের জ্বালা।।

বাণী

শ্যামলা বরণ বাংলা মায়ের রূপ দেখে যা, আয় রে আয়
গিরি–দরি, বনে–মাঠে, প্রান্তরে রূপ ছাপিয়ে যায়।।
ধানের ক্ষেতে, বনের ফাঁকে, দেখে যা মোর কালো মা–কে
ধূলি–রাঙা পথের বাঁকে বৈরাগিনী বীণ বাজায়।।
ভীরু মেয়ে পালিয়ে বেড়ায় পল্লীগ্রামে এক্‌লাটি
বিজনমাঠে গ্রাম সে বসায় নিয়ে কাদা, খড়, মাটি
কালো মেঘের ঝারি নিয়ে করুণা–বারি ছিটায়।।
কাজলা–দীঘির পদ্মফুলে যায় দেখা তার পদ্ম–মুখ
খেলে বেড়ায় ডাকাত–মেয়ে বনে লয়ে বাঘ–ভালুক
ঝড়ের সাথে নৃত্যে মাতে বেদের সাথে সাপ নাচায়।।
নদীর স্রোতে পাথর নুড়ির কাঁকন চুড়ি বাজে তার
সাঁঝের বারান্দাতে দাঁড়ায় টীপ প’রে সন্ধ্যা–তারার।
ঊষার গাঙে ঘট ভরিতে যায় সে মেয়ে ভোর বেলায়।
হরিত শস্যে লুটায় আঁচল ঝিল্লিতে নূপুর বাজে
ভাটিয়ালি গায় ভাটির স্রোতে গায় বাউল মাঠের মাঝে (মা)।
গঙ্গা–তীরে শ্মশান–ঘাটে কেঁদে কভু বুক ভাসায়।।

বাণী

শ্যামা-তন্বী আমি মেঘ-বরণা।
দৃষ্টিতে১ বৃষ্টির ঝরে ঝরনা।।
অম্বরে জলদ মৃদঙ্গ বাজাই 
কদম-কেয়ায় বন-ডালা সাজই, 
হাসে শস্যে পুষ্পে ধরা নিরাভরণা।।
পুবালি হাওয়ায় ওড়ে কালো কুম্ভল
বিজলি ও মেঘ — মুখে হাসি চোখে জল,
রিমিঝিমি নেচে যাই চল-চরণা।।

১. মোর দৃষ্টিতে

বাণী

শিউলি ফুলের মালা দোলে শারদ-রাতের বুকে ঐ
এমন রাতে একলা জাগি সাথে জাগার সাথি কই।
	বকুল বনে এক্‌লা পাখি,
	আকুল হ’ল ডাকি’ ডাকি’,
আমার প্রাণ থাকি’ থাকি’ তেমনি কেঁদে১ ওঠে সই।।
কবরীতে করবী ফুল পরিয়া প্রেমের গরবিনী
ঘুমায় বঁধু-বাহু পাশে, ঝিমায় দ্বারে নিশীথিনী।
ডাকে আমায় দূরের বাঁশি কেমনে আজ২ ঘরে রই।।

১. ডেকে, ২. আর

বাণী

শোক দিয়েছ তুমি হে নাথ তুমি এ প্রাণে শান্তি দাও।
দুখ্ দিয়ে কাঁদালে যদি তুমি হে নাথ সে দুখ ভোলাও।।
যে হাত দিয়ে হানলে আঘাত
তুমিঅশ্রু মোছাও সেই হাতে নাথ
বুকের মানিক হ’রলে যা’র —
	তারে তোমার শীতল বক্ষে নাও।।
তোমার যে চরণ প্রলয় ঘটায়
সেই চরণ কমল ফোটায়
শূন্য করলে তুমি যে বুক
	সেথা তুমি এসে বুক জুড়াও।।

বাণী

শ্যামা নামের লাগলো আগুন আমার দেহ ধূপ–কাঠিতে।
যত জ্বলি সুবাস তত ছড়িয়ে পড়ে চারিভিতে।।
		ভক্তি আমার ধূমের মত
		উর্দ্ধে ওঠে অবিরত,
শিব–লোকের দেব–দেউলে মা’র শ্রীচরণ পরশিতে।।
ওগো অন্তর–লোক শুদ্ধ হল পবিত্র সেই ধূপ–সুবাসে,
মা’র হাসিমুখ চিত্তে ভাসে চন্দ্রসম নীল আকাশে।
		যা কিছু মোর পুড়ে কবে
		চিরতরে ভস্ম হবে
মা’র ললাটে আঁকব তিলক সেই ভস্ম–বিভূতিতে।।