বাণী

শ্মশানে জাগিছে শ্যামা
	অন্তিমে সন্তানে নিতে কোলে
জননী শান্তিময়ী বসিয়া আছে ঐ
	চিতার আগুণ ঢেকে স্নেহ–আঁচলে।
সন্তানে দিতে কোল ছাড়ি’ সুখ কৈলাস
বরাভয় রূপে মা শ্মশানে করেন বাস,
কি ভয় শ্মশানে শান্তিতে যেখানে
	ঘুমাবি জননীর চরণ–তলে।।
জ্বলিয়া মরিলি কে সংসার জ্বালায়
তাহারে ডাকিছে মা ‘কোলে আয়, কোলে আয়’
জীবনে শ্রান্ত ওরে ঘুম পাড়াইতে তোরে
	কোলে তুলে নেয় মা মরণেরি ছলে।।

বাণী

শঙ্কাশূন্য লক্ষ কন্ঠে বাজিছে শঙ্খ ঐ
পুণ্য-চিত্ত মৃত্যু তীর্থ-পথের যাত্রী কই।।
আগে জাগে বাধা ও ভয়
ও ভয়ে ভীত নয় হৃদয়
জানি মোরা হবই হব জয়ী।।
জাগায়ে প্রাণে প্রানে নব আশা, ভাষাহীন মুখে ভাষা
হে নবীন আন নব পথের দিশা নিশি শেষের ঊষা
কেহ না দেশে মানুষ তোমরা বৈ।।
স্বর্গ রচিয়া মৃত্যুহীন চল ওরে কাঁচা চল নবীন
দৃপ্ত চরণে নৃত্য দোল জাগায়ে মরুতে রে বেদুইন!
'নাই নিশি নাই' জাগে শুভ্র দীপ্ত দিন।
নাই ওরে ভয় নাই জাগে ঊর্দ্ধে দেবী জননী শক্তিময়ী।।

বাণী

শুকনো পাতার নূপুর পায়ে
		নাচিছে ঘুর্ণিবায়
জল তরঙ্গে ঝিল্‌মিল্‌ ঝিল্‌মিল্‌
		ঢেউ তুলে সে যায়।।
দীঘির বুকে শতদল দলি’
ঝরায়ে বকুল–চাঁপার কলি
চঞ্চল ঝরনার জল ছল ছলি
		মাঠের পথে সে ধায়।।
বন–ফুল আভরণ খুলিয়া ফেলিয়া
আলুথালু এলোকেশ গগনে মেলিয়া
পাগলিনী নেচে যায় হেলিয়া দুলিয়া
		ধূলি–ধূসর কায়।।
ইরানি বালিকা যেন মরু–চারিণী
পল্লীর–প্রান্তর–বনমনোহারিণী
আসে ধেয়ে সহসা গৈরিক বরণী
		বালুকার উড়্‌নি গায়।।

বাণী

শোন শোন, ইয়া ইলাহী,
	আমার মোনাজাত।
তোমারি নাম জপে যেন,
	(আমার) হৃদয় দিবস-রাত।।
যেন কানে শুনি সদা
তোমারি কালাম হে খোদা,
(আমি) চোখে যেন দেখি শুধু,
	(দেখি) কোরআনের আয়াত।।
মুখে যেন জপি আমি
কলেমা তোমার দিবস-যামী,
(তোমার) মসজিদেরি ঝাড়ু-বরদার,
	(খোদা) হোক আমার এ হাত।
সুখে তুমি, দুখে তুমি,
চোখে তুমি, বুকে তুমি,
এই পিয়াসি প্রাণে খোদা
	(খোদা) তুমি আবহায়াত।।