বাণী

(মা)		খড়গ নিয়ে মাতিস রণে নয়ন দিয়ে বহে ধারা (মা)
(এমন)	একাধারে নিষ্ঠুরতা কৃপা তোরই সাজে তারা।।
			তোর করে অসুর-মুন্ডরাশি
			অধরে না ধরে হাসি
		জানিস্ মরলে তোর আঘাতে তোরই কোলে যাবে তারা।।
		মা দুই হাতে তোর বর ও অভয় আর দু’হাতে মুন্ড অসি,
		ললাটে তোর পূর্ণিমা-চাঁদ, কেশে কৃষ্ণা চতুর্দ্দশী।
			জননী-প্রায় আঘাত করে
			দিস্ মা দোলা বক্ষে ধ’রে
		পাপ-মুক্ত করার ছলে অসুর বধিস ভব-তারা।।

বাণী

মোহাম্মদ মোর নয়ন-মণি মোহাম্মদ নাম জপমালা।
ঐ নামে মিটাই পিয়াসা ও নাম কওসারের পিয়ালা।।
	মোহাম্মদ নাম শিরে ধরি,
	মোহাম্মদ নাম গলায় পরি,
ঐ নামের রওশনীতে আঁধার এ মন রয় উজালা।।
	আমার হৃদয়-মদিনাতে
	শুনি ও নাম দিনে-রাতে,
ও নাম আমার তস্‌বি হাতে, মন-মরুতে গুলে-লালা।।
	মোহাম্মদ মোর অশ্রু চোখের
	ব্যথার সাথী শান্তি শোকের,
চাইনে বেহেশ্‌ত যদি ও নাম জপ্‌তে সদা পাই নিরালা।।

বাণী

মোহাম্মদ মোস্তফা সাল্লে আলা
তুমি বাদ্‌শারও বাদ্‌শাহ্ কম্‌লিওয়ালা।।
পাপে-তাপে পূর্ণ আঁধার দুনিয়া
হ’ল পুণ্য বেহেশ্‌তী নূরে উজালা।।
গুনাহ্‌গার উম্মত লাগি’ তব
আজো চয়ন্‌ নাহি, কাঁদিছ নিরালা।।
কিয়ামতে পিয়াসি উম্মত লাগি’
দাঁড়ায়ে রবে ল’য়ে তহুরার পিয়ালা।।
জ্বলিবে রোজ হাশরে দ্বাদশ রবি
কাঁদিবে নফ্‌সি ব’লে সকল নবী
য়্যা উম্মতী য়্যা উম্মতী, একেলা তুমি
কাঁদিবে খোদার পাক আরশ চুমি’ —
পাপী উম্মত ত্রাণ তব জপমালা ধ্যান
তব গুণ গাহিল খোদ্ আল্লাহতা’লা।।

বাণী

মোর প্রিয়া 	হবে এসো রানী দেব খোঁপায় তারার ফুল
	কর্ণে দোলাব তৃতীয়া তিথির চৈতী চাঁদের দুল।।
		কণ্ঠে তোমার পরাবো বালিকা
		হংস –সারির দুলানো মালিকা
	বিজলী জরীণ ফিতায় বাঁধিব মেঘ রঙ এলো চুল।।
	জোছনার সাথে চন্দন দিয়ে মাখাব তোমার গায়
	রামধনু হতে লাল রঙ ছানি’ আলতা পরাবো পায়।
		আমার গানের সাত সুর দিয়া
		তোমার বাসর রচিব প্রিয়া।
	তোমারে ঘিরিয়া গাহিবে আমার কবিতার বুলবুল।।

বাণী

মোরে পূজারি কর তোমার ঠাকুর ঘরে হে ত্রিজগতের নাথ।
মোর সকল দেহ লুটাক তোমার পায়ে (হয়ে) একটি প্রণিপাত।।
	নিত্য যেন তোমারি মন্দিরে
	চিত্ত আমার ব্যাকুল হয়ে ফিরে
গ্রহ যেমন সূর্যলোক ঘিরে ঘুরে দিবস রাত।।
মোর নয়ন যেন তোমারি রূপ হেরে সকল দেখার মাঝে
যেন এ রসনা জপে তোমারি নাম হে নাথ সকল কাজে।
	তোমার চরণ রয় যে শতদলে
	তারি পানে মোর মন যেন চলে
নিত্য তোমায় নমস্কারের ছলে (যেন) যুক্ত থাকে হাত।।

বাণী

মোর	প্রথম মনের মুকুল
	ঝরে গেল হায় মনে মিলনের ক্ষণে।
	কপোতীর মিনতি কপোত শুনিল না,
			উড়ে গেল গহন-বনে।।
	দক্ষিণ সমীরণ কুসুম ফোটায় গো
	আমারি কাননে ফুল কেন ঝরে যায় গো
	জ্বলিল প্রদীপ সকলেরি ঘরে হায়
	নিভে গেল মোর দীপ গোধূলি লগনে।।
	বিফল অভিমানে কাঁদে ফুলমালা কণ্ঠ জড়ায়ে
	কাঁদি ধূলি-পথে একা ছিন্ন-লতার প্রায় লুটায়ে লুটায়ে।
	দারুণ তিয়াসে এসে সাগর-মুখে
	ঢলিয়া পড়িনু হায় বালুকারি বুকে
	ধোঁয়ারে মেঘ ভাবি’ ভুলিনু চাতকী
			জ্বলিয়া মরি গো বিরহ-দহনে।।