বাণী

এই দেশ কার? তোর নহে আর, রে মূঢ় সন্তান! ভারত-মাতার।
দেবতার দেশে আজ দৈত্য করে বিরাজ, মন্দির আজি বন্দীর কারাগার।।
লাজ নাহি তার, যার জননী দাসী
দাসের শিকল প’রে (কেমনে নিলাজ) বেড়াস্ হাসি’?
	অসম্মানের প্রাণ
	ক’রে দে রে অবসান,
মানুষের মত ম’রে বাঁচ রে আবার।।

বাণী

এরি লাগি তপস্যা কি করে আঁধার রাতি।।
সই দেখলো চেয়ে রূপ-সায়রে জ্বলে এ কোন্ বাতি
লক্ষ চাঁদের জোছনা হেথা কে রেখেছে পাতি’?

নাটক : ‘মধুমালা’ (স্বপনপরীর গান)

বাণী

এসো হে সজল শ্যাম-ঘন দেয়া 
বেণু-কুঞ্জ-ছায়ায় এসো তাল-তমাল বনে 
এসো শ্যামল ফুটাইয়া যূথী কুন্দ নীপ কেয়া।। 
বারিধারে এসো চারিধার ভাসায়ে 
বিদ্যুৎ ইঙ্গিতে দশদিক হাসায়ে 
বিরহী মনে জ্বালায়ে আশার আলেয়া 
ঘন দেয়া, মোহনীয়া, শ্যাম-পিয়া।। 
শ্রাবণ বরিষণ হরষণ ঘনায়ে 
এসো নব ঘন শ্যাম নূপুর শুনায়ে। 
হিজল তমাল ডালে ঝুলন ঝুলায়ে 
তাপিতা ধরার চোখে অঞ্জন বুলায়ে 
যমুনা স্রোতে ভাসায়ে প্রেমের খেয়া 
ঘন দেয়া, মোহনীয়া, শ্যাম-পিয়া।। 

বাণী

এসেছে রে অধর্মের আজ শেষ বিচারের দিন।
	কাপুরুষ মোরা মোদেরি দোষে
	অধর্ম আজ রক্ত শোষে,
আজ সে ক্ষুদ্রে রুদ্র রোষে — করব চরণ-লীন।।

বাণী

এসো শারদ প্রাতের পথিক এসো শিউলি বিছানো পথে।
এসো ধুইয়া চরণ শিশিরে এসো অরুণ-কিরণ-রথে।।
দলি, শাপলা শালুক শতদল এসো রাঙায়ে তোমার পদতল
নীল লাবনি ঝরায়ে চলচল এসো অরণ্য পর্বতে।।
এসো ভাদরের ভরা নদীতে ভাসায়েকেতকী পাতার তরণী
এসো বলাকার রঙ পালক কুড়ায়ে বাহি’ ছায়াপথ-সরণি।
শ্যাম শস্যে কুসুমে হাসিয়া এসো হিমেল হাওয়ায় ভাসিয়া
এসো ধরনীরে ভালোবাসিয়া দুর নন্দন-তীর হতে।।

বাণী

এসো এসো বন ঝরনা উচ্ছল-চল-চরণা।
সর্পিল ভঙ্গে লুটায়ে তরঙ্গে ফেন-শুভ্র-ওড়না।।
	পাষাণ জাগায়ে এসো নির্ঝরিণী
	এসো প্রাণ-চঞ্চলা জল-হরিণী
মরু-তৃষিতের বুকে ঢালো ধারা জল-শ্যাম মেঘ-বরণা।।
এসো বুনো পথ বেয়ে অকারণ গান গেয়ে,
গভীর অরণ্যের মৌনব্রত ভেঙে ভয়হীন পাহাড়ি মেয়ে।
	নৃত্য পরা পায়ে ছন্দ আনো
	আনন্দ আনো মৃত প্রাণ জাগানো,
অনাবিল হাসির ঝরাফুল ছড়ায়ে এসো মঞ্জুলা মনোহরণা।।